অপারেশন সার্চলাইট আমাদের মুক্তিযুদ্ধ: হায়দার জাহান চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। ঐদিন সকাল বেলা একটি সামরিক হেলিকপ্টার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেল রংপুর, রাজশাহী, যশোহর, চট্রগ্রাম ও কুমিল্লা ক্যান্টনম্যান্টে গিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের প্ল্যান ক্যান্টম্যান্টে অবস্থানরত পাকিস্থানী কমান্ডারদের সাথে ব্রীফ করেন। ঢাকায় প্রথম এবং প্রধান টার্গেট ৩২নং ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধুর বাড়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ইপিআর হেডকোয়ার্টার, রাজারবাগ পুলিশ লাইন।

৫টা ৪৫মিনিটে জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হাউস ত্যাগ করেন। অপারেশন সার্চ লাইট সম্পর্কে পাকিস্তানি পরিকল্পনার কথা জানা যায়, ১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তান ইষ্টার্ন কমান্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দীক সালিক লিখিত উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থ থেকে, এখানে তার গ্রন্থ থেকে প্রাসঙ্গিক অংশ পাঠকদের জানার জন্যে উদ্বৃত করা হলো ; মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ২৫ মার্চ রাজনৈতিক আলোচনার ফলাফল জানার জন্যে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল ১১টায় সবুজ টেলিফোন বেজে উঠলো, জেনারেল টিক্কা খান লাইনে ছিলেন, তিনি বললেন খাদিম এটা আজ রাতে। এ খবর খাদিমের মনে কোনো উন্মাদনা সৃষ্টি করলোনা। তিনি হাতুরির আঘাত পড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। খাদিম তার অধীনস্থদের আদেশটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন। খবরটি যতই নিচের দিকে যাচ্ছিলো ততই উত্তেজনা বাড়ছিলো। আমি দেখলাম কয়েকজন জুনিয়র অফিসার কয়েকটি রিকোয়েলস রাইফেল (ট্যাঙ্কবিদংশী) অতিরিক্ত গোলা বারুদ সংগ্রহ এবং কয়েকটা ত্রুটিপুর্ন মর্টার বদলানোর চেষ্টা করছে।

ইতিপূর্বে রংপুর থেকে আনা ২৯ ক্যাভালরির ৬টি এম-২৪ ট্যাঙ্ক রাতে ব্যবহারের জন্য জ্বালানি বোঝাই করা হচ্ছে, ঢাকার রাস্তায় নামানোর জন্য এবং ভয় ভীতি প্রদর্শনের জন্য ঐ ট্যাঙ্কগুলো যতেষ্ট। ১৪শ ডিভিশন সদর দপ্তর থেকে ঢাকার বাহিরে সব গ্যারিসনে আক্রামনের সময় এইচ আওয়ার জানিয় দেয়া হলো একটি গোপন সংকেতের মাধ্যমে যাতে গ্যারিসনগুলো এক সঙ্গে অভিযান শুরু করতে পারে। এইচ আওয়ার নির্ধারিত হয়েছিল, রাত ১টায় অর্থাৎ ২৬ মার্চ। অনুমান করা হয়েছিলো ২৫ মার্চ রাত ১২টার পর থেকে শুরু করা হয়েছিলো। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ৫৭ ব্রীগেড নিয়ে ব্রিগেডিয়ার আরবারের অধীনে ঢাকা শহর অপারেশন করবেন, রাও ফরমান আলী বাকী অংশ এর তদারকি করবেন। জেনারেল টিক্কা খান ও তার স্টাফ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ও মার্শল ল’ হেডকোয়ার্টার ও ঢাকার বাহিরে অংশের তদারকি ও পর্যবেক্ষণের জন্য রাতভর অবস্থান করবে। মেজর সিদ্দীক সালিক আরো বলেন, তাদের মতো জুনিয়র অফিসারেরা শেরেবাংলা নগর ২য় রাজধানীর মার্শাল ল’ হেডকোয়ার্টারে রাত ১০টায় থেকে সমবেত হতে থাকি।

এইচ আওয়ার সুচনা হয়২৬ মার্চ। সকাল বেলা ১০টার মধ্যেই আমরা নেত্রকোণা স্বাধীনতাকামী ছাত্র জনতা খবর পেয়ে গেলাম ঢাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ই পি আর হেডকোয়ার্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ ঘুমন্ত ঢাকাবাসী উপ আক্রমণে চালিয়েছে সেই সাথে ৩২ ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। হানাদার বাহিনীর হামলা ও গ্রেফতারের খবর সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরলে স্বাধীনতা কামী জনতা ভিসুবিয়াসের জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতোই জ্বলে উঠে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে।

২৫ মার্চের পর ঢাকা সহ সারাদেশে পর্যায়ক্রমে পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা বাঙ্গালী ছাত্র শ্রমিক কষক সিপাহী জনতা যার যা শক্তি আছে তাই নিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল। ২৫ মার্চে রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে ৮ম বেঙলয়ের বাঙ্গালী সৈনিকরা মেজর জিয়ার নেতৃত্বে প্রথমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে

ষোল শহর ইপিআর এর বাঙ্গালী সৈনিকরা মেজর রফিকের নেতৃত্বে বিদ্রোহে অংশ নেয়। বিদ্রোহের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাঙলাদেশের সব ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি সৈনিকরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। ১লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ ও স্বাধীনতাকামী জনগনই এই আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করছে। কেবলমাত্র সেনানিবাসগুলো ব‌্যতিত দেশের সর্বত্রই পতপত করে উড়ছিল স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা। ৭১ এর মার্চ মাসেই সারা দেশের ছাত্র যুবক কৃষক শ্রমিক জনতা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সহ স্বাধীনতাকামী মানুষ যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধ যুদ্ধে শরিক হতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের সর্বত্রই হরতাল অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনি করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশ হয়ে উঠে অগ্নিগর্ভ।

৭ মার্চ ঢাকায় রেসকোর্সের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” তিনি আরো বলেন ” ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো। অনবদ্য কবিতার মতো এই ঘোষণা বাংলার স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের মনে স্বাধীনতার দাবানল জ্বালিয়ে দেয়।

পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শুরু হয় শিকল ভাঙ্গার গান। নেত্রকোণায় প্রায় প্রতিদিনই চলছে সশস্ত্র জঙ্গি মিছিল। প্রতিদিন শহরের আশপাশে এলাকা থেকে কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতাসহ খেটে খাওয়া মানুষ লাঠিবল্লম নিয়ে এসব মিছিলে যোগ দিতে থাকে। স্বাধীনতার স্বপ্নে উত্তাল হয়ে ওঠে নেত্রকোণার মানুষের জনজীবন।

নেত্রকোণায় ছাত্র লীগের নেতৃত্বে গঠিত স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ইতোমধ্যেই কিছু কিছু আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ‌ করে মিছিলে অংশ নিতে থাকে। ছাত্র নেতৃবৃন্দ রাতের আঁধারে নেত্রকোণা সরকারি কলেজে সায়েন্স ল্যাবরেটরির তালা ভেঙে বোমা তৈরির কাজে লাগতে পাড়ে‌ এমন সব রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে এসে বোমা তৈরি করতে শুরু করে এবং পরিক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘঠিয়ে এর কার্যকারিতাও দেখে নেয়। এমনি করে চলতে থাকে নেত্রকোণায় প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি।

নেত্রকোণায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধের একটি সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তুলে। সেদিন যে কয়জন ছাত্র নেতা জীবন বাজি রেখে বিশ্বের বুকে নতুন মানচিত্র সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাধীনতার সোনালী সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনতে প্রথম অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে মোঃ শামছুজ্জোহা‌, হায়দার জাহান চৌধুরী (লেখক), আসরাফ আলী খান খসরু (বর্তমান প্রতিমন্ত্রী), বুলবুল, আনিছুর রহমান, আনছার কমান্ডার ও আলী উসমান প্রমুখ। তারাই পরবর্তী সময়ে নেত্রকোণা পুলিশের এসডিপিওকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে পুলিশ অস্ত্রগার থেকে তিনশত রাইফেল ও দশ হাজার রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে এনে স্থানীয় আনছার মুজাহিদ ও ছাত্র নেতৃবৃন্দকে দিয়ে জয়বাংলা বাহিনী গঠন করে প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে নেয়।

ইতোমধ্যেই স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ডাকসু কর্তৃক প্রেরিত স্বাধীনতার ইশতেহার নেত্রকোণায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হাতে এসে পৌঁছায়। এই ইশতেহারে বাংগালী ইপিআর পুলিশ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়। ইশতেহার গুলো আমরা স্থানীয় ভাবে বিতরণ করতে শুরু করি। সেই সাথে নেত্রকোণায় সীমান্ত এলাকায় বাঙালি ইপিআরদের বিওপি গুলোতে বিতরণ করার জন্য আবদুল মজিদ তারা মিয়া ও শামছুজ্জোহার নেতৃত্বে একটি টিম সীমান্ত এলাকায় গিয়ে ইপিআরদের মাঝে ইশতেহার বিতরণ করে এবং তাদের সাথে গোপন বৈঠক করেন।

ইতোমধ্যেই ইপিআর এর সুবেদার মেজর আজিজ কলমাকান্দা দুর্গাপুর সীমান্তের বাঙালি ইপিআরদের নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং বিওপিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন সেটি হলো বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট গুলোতে অবস্থানরত পাকিস্তানি ইপিআর সৈনিকদেরকে আগেই বন্দী করে ফেলা হয়। পরে এদের ভাগ্যে যা ঘটার তাই ঘটৈছে। পরবর্তীতে ইপিআর এর সৈনিকরা সুবেদার মেজর আজিজ এর নেতৃত্বে ময়মনসিংহ মধুপুর এলাকায় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয়।

এমন করে তৎকালীন নেত্রকোণা মহকুমা ছাত্র লীগ ও জয়বাংলা বাহিনী নেতৃত্বাধীন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়নসহ স্বাধীনতাকামী ছাত্র যুবক নিজ নিজ দলীয় অবস্থান থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত হয়ে মুক্তি সংগ্রামকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে দিন রাত কাজ করছিল। ‌স্বাধীনতাকামী ছাত্র যুবকরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকায় মুক্তিযুদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবির থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিওপিগুলোতে প্রাথমিক যুদ্ধ কৌশল হিসেবে চোরাগুপ্তা হামলা চালায়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধরা আরো সংঘটিত হয়ে বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প গুলোতে সরাসরি আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। হানাদার বাহিনীর এই ক্যাম্পগুলো ও দখলকৃত বিওপিগুলোতে মুক্তিবাহিনীর আক্রমনের টার্গেট হতে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনীর গ্রুপগুলো হিট এন্ড রান কৌশল অবলম্বন করে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যায়।

১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে খালিয়াজুরি ও মধ্যনগর ব্যাতিত সকল থানা সদরে স্থাপিত হয় হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। হানাদার বাহিনীর এই ক্যাম্পগুলো ও দখলকৃত বিওপিগুলোতে মুক্তিবাহিনী ‌ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যায়, পরবর্তীতে হানাদার বাহিনীর অবস্থানগুলির উপর হামলা অব্যাহত থাকার এই রণকৌশল নিয়ে শুরু হয় ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্বাদের যুদ্ধ কার্যক্রম। সেই সাথে নেত্রকোণা অঞ্চলে প্রধান দুটি এফএফ ক্যাম্প, মেঘালয়ের রংরা বাঘমারা ও জেকসুগ্রাম এলাকায় বিএসএফ এর ক্যাপ্টেন মুরারী ও ক্যাপ্টেন চৌহান রংরা ক্যাম্পের নেত্রকোণা অঞ্চলে যুদ্ধরত মুক্তিযুদ্ধা কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা ব্রিফিং ও লজেষ্টিক সাপোর্ট দিয়ে যেতে থাকেন।

এমনি করে নেত্রকোণা‌ অঞ্চলে বিশেষ করে ১১ নং সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রম চলতে থাকে। এ অঞ্চলে মোট ২৯টি কোম্পানি ও মুজিব বাহিনী (বিএলএফ) এর বিশেষ গেরিলা ফোর্স সহ প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধাদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ১১নং সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহের এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধ চলাকালে ১১নং সেক্টরকে কয়েকটি সাব সেক্টরে ভাগ করে নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। মুক্তিযুদ্ধরা বিভিন্ন কোম্পানিতে বিভক্ত হয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ‘৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের বুকে নতুন মানচিত্র নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

তথ্যসূত্রঃ

  1. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
  2. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস”
  3. Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
  4. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
  5. চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
  6. Khan, Fazlur Rahman Khan (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  7. Chowdhury, Khalekdad (1985). Shatabdir Dui Diganta (in Bengali). Dhaka.
  8. Kader, A K Fazlul Kader (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  9. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
  10. আচার্য, সাংবাদিক জয়ন্ত,( ১৪ ডিসেম্বর ২০২১),মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধীজীবিবৃন্দ” সাপ্তাহিক-২০০০ পৃষ্ঠা ২০-২৪
  11. Khan, Ashraf Ali Khan Khoshru (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
  12. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
  13. হাসান, প্রধান বিচারপতি জনাব ওবায়দুল(এপ্রিল ২০২৩),” মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প, মুক্তিযুদ্ধে মোহনগন্জ :মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প ও ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ”, পৃষ্ঠা ১০১-১০৩
  14. Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on B
  1. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা, বিজয় একাত্তর পৃষ্ঠা 129-132
  2. চৌধুরী, হায়দার জাহান(মে ২০২৩). নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা, বিজয় একাত্তর সপ্তম সংখ্যা পৃষ্ঠা  ৮১
  3. আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব-২
  4. আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব
  5. চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫),” নেত্রকোনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস”,

 

Scroll to Top