আগুনপাখি
পহেলি দে
আমাদের শিশুরা আগুনপাখি হয়ে গেছে
ওরা এখন আকাশের ফুল,
মাহেরিন মিস ওদের ঘুমপাড়ানি গান শোনাচ্ছে,
তার মহামানবীয় আদরে পাখিগুলো ভুলে গেছে
মবের মুল্লুকে রেখে যাওয়া জন্মদাগ,
সন্তান বাৎসল্যে অন্ধ পিতামাতার স্মৃতি।
উন্মাদ আগুনের ডানা ভেঙে ওরা-
উড়ে গেলো ঝাঁক বেঁধে শরীর নামক পিরান খুলে,
মুমূর্ষু মাটিতে পড়ে আছে সভ্যতার দেহ
স্কুল ব্যাগ, মা’র তৈরি টিফিন
রক্তাক্ত বর্ণমালা।
ওদের কাছে পৃথিবী এখন অর্থহীন
ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ওরা পৌঁছে গেছে
নরোম আলোর রেইনফরেস্টে
ওরা এখন নির্মল বাতাসে উড়ন্ত প্রজাপতি।
আমরা ওদের দিতে পারিনি চিরহরিৎ জীবন
ওরা উড়ে গেছে হাস্নাহেনার গন্ধে
অপরাজিতার সাথে সমূহ সুন্দরের দেশে।
যেখানে পানির তেষ্টা পায় না,
পথের দূরত্ব মাপতে হয় না,
শ্বাসকষ্ট নেই, মাংস পোড়া গন্ধ নেই।
সামরিক উর্দি, রক্তের আল্পনা, বার্ন ইউনিট,
ভিউ শিকারী, বিভ্রান্ত বৈমানিক,
লাইট ক্যামেরা একশন ইত্যাদি কিছুই নেই
ক্যাসিনো নেই, রাজনীতির দূষণ নেই,
স্যুটেড-বুটেড নরপিশাচ নেই, সুদের কারবার নেই,
লোকদেখানো রঙ্গমঞ্চ নেই।
আছে শুধু স্নিগ্ধতা শোক-তাপহীন এক অমৃতপুরী।
টিনা জিলে ফুটবল
— শ্যামলেন্দু পাল
টিনা জিলে সমান তালে
লড়বে নাকি মাঠে
কোথায় গিয়ে ভিড়বে তরী
কোন যে নদীর ঘাটে।
টিনার দলে আমি আছি
জিলের দলে গিন্নি
কে জিতবে কে হারবে
কার ভাগ্যে সিন্নি।
যে যেটা লাইক করি
হৈ হল্লা নয়
খেলা হবে খেলার মত
করবে মন জয়।
উচ্চ যেথা শির
সুমিত্র সুজন
শিরোন্নত উপাখ্যান গর্বে বলিয়ান
মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম
বীরদর্পে আগুয়ান বাংলার সন্তান
তেজোদ্দীপ্ত পরাক্রম তারুণ্য উদ্দাম।
রণনৃত্যে জয়ধ্বনি সদা বেগবান
নিদ্বিধায় আত্মদান মুক্তি মনস্কাম
স্বাধীন স‚র্য আনিবে রণভ‚মে শ্যাম
বীরগাথা কল্পতরু ঐ দন্ডায়মান।
হানাদার পিশাচের পৈশাচিক মর্ম
সন্তানহারা মায়ের ক্ষোভের সঞ্চার
পাকিদের বর্বরতা হত্যাযজ্ঞ কর্ম
বাঙালির প্রাণপণ সমর সজ্জার
সর্বাগ্রে স্বাধীন ধ্বজা যোদ্ধাদের ধর্ম
শৃঙ্খলমুক্ত বাংলা মা পরাধীনতার।
বিজয়
মো: পারভেজ কামাল শাহজাহান
বিজয় মানেই আনন্দ
আর যদি হয় শত্রু পরাজয়
তবে তো কথাই নাই।
বিজয়
ডিসেম্বর এলেই হৈ হৈ আনন্দে
দোল দেয় হৃদয়ে
চোখের সামনে ভাসে
বর্বরদের পরাজয়ের নত শির।
বিজয় মাসে
শত দুঃখ-বেদনার মাঝেও
আনন্দে মাতোয়ারা
শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা।
ছায়া তবু
প্রণব চৌধুরী
মানুষ যদি সে,নিজে থেকে চায়
নিজেকে সরাতে,
ছায়া তবু তার
পিছু ছাড়ে না যে!
আজীবন রয়ে রায়
স্মৃতির দহন, আপন অস্তিত্ব।
===
বাজার সদাই
শ্যামলেন্দু পাল
আলু বেগুন জিঙ্গা পটল
কিনতে হবে বৌ অটল
আরো লাগবে আদা জিরা
ঠাম্মা বললো এনো চিড়া।
মাছ মাংস মসলা গরম
হয়না যেন নষ্ট নরম
আরো লাগলো তেল ডিম
বাসন মাজার দুটো ভিম।
আবার ফোনে আনতে কলা
বলা হলো তাজা মলা
লাগবে আরো ডাল ডাটা
আনতে হলো সাদা আটা।
বাদ গেলো না ঘি দৈ
নিলাম আরো মাছ কৈ
টমেটো শসা পিঁয়াজ গাজর
ভাংলো আমার বুকের পাঁজর।
পুরুষ তুমি মানুষ হবে কবে
তানভীর জাহান চৌধুরী
তুমি রবে নীরবে পৃথিবী জুড়ে
একদিন সভ্যতা ছুঁবে তোমাকে স্মরণ করে
অসভ্য,বর্বর আমাদের আদি-ঘর
ভুলে যাবো চিরতরে।
মা ক্ষমা কর মোরে।
তোমার সাথে যা করা হলো
পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রও লজ্জা পেলো
নির্বাক মহানায়ক ছুটে যায়
তোমার স্বজনের কাছে
সান্ত্বনা দেবে!
এমনকি ভাষা আছে তার কাছে।
সন্তানহারা পিতা-মাতা স্বজনের ভারাক্রান্ত সুরে
তিনিও ডুকরে কাঁদেন ভেতরে ভেতরে।
পুরুষ তুমি মানুষ হবে কবে।
হারজিত
মৌরি জলি
কথা ছিল-বিশ্বাসের কাঁধে মাথা রেখে
ঢেউ শুনবো,কতবার গর্জে সাগর,
কতবার উঠে-পড়ে নীল জল
পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব কষবো তার।
অথচ এখন পাহাড় চষি,
অনায়াসে মেঘ ছুঁই আঙুলের ডগাতে,
তারা গুণি নির্ভুল সংলগ্ন আকাশে
মাথা রেখে নির্ভরতার কোলে।
জানি না কে হেরে গেল
সমুদ্র নাকি পাহাড়?
বুঝি না বিজয় কার হয়েছে
বিশ্বাস নাকি নির্ভরতার?
রঙধনু যার নাম
শারমিন জাহান
অবুঝ এই মনের অজান্তে যদি
ক্ষমার অযোগ্য কোন অপরাধ করে থাকি,
তবে ক্ষমা চাইতে আসবো না কোনদিন,
মনের ভুলেও আর কখনো তোমার দুয়ারে
রাখবো না মহাপ্রেমের কোন স্মৃতিচিহ্ন।
আমি চলে যাবো দূর অজানায়
দিগন্তের ওপারে আরও বহু দূর..
নিঃশব্দে, ধুলোয় মিশে যাওয়া
মেহেদীরাঙা পায়ের চিহ্নের মতো,
যেন কোনোদিনই ছিলাম না
তোমার হৃদয়ের আঙ্গিনায়।
আর কোনোদিন ফিরেও তাকাবো না।
তোমার পাষাণ হৃদয়ের দুর্বোধ্য ভাষা
আর কখনো বুঝতে চাইবো না।
দারুণ উপেক্ষার প্রতিটি প্রহর পেরিয়ে
অবশেষে আমি বুঝে গেছি,
কিছু নিরবতা শুধু দূরত্বই বাড়ায়।
তবে তুমি ভালো থেকো,
আমার অনুপস্থিতির প্রশান্তিতে।
আর আমি আমৃত্যু বয়ে বেড়াবো
একটি অদৃশ্য শূন্যতা, যার নাম রংধনু।।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (দুখু মিয়া)
চারণ কবি মুকলেছ উদ্দিন
আসানসোল শহরে চুরুলিয়া গ্রাম
এক শিশুর জন্ম দুখু মিয়া নাম।
শিশু কালেই দুখু মিয়া মা-বাবা হারায়
আদর সোহাগ কে দিবে নাই কেহ ধরায়।
যেথা সেথায় ঘুরে বেড়ায় নাই ঠিকানা
নাওয়া খাওয়া সময়ের খেয়াল রাখে না।
কখনো দেখা যায় রাস্তার পাশে
কখনো থাকে গাছের ডালে বসে।
মনে হয় যখন ব্যথা বেদনায় বুক ভরে যায়
তখনই এই দুখু করুণ সুরে বাঁশিটি বাজায়্।
বাঁচার তাগিদে রিজিকের সন্ধানে
চাকুরী নেয় এক রুটির দোকানে।
সেখানেই শুরু হয় লেখা গান গল্প কবিতা
তা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে মনের দুঃখ ব্যথা।
যেদিন স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে তুলেছিল ঝড়
তখন তাকে আটকে রাখে
জেলের ভিতর
শত্রুর বিরুদ্ধে দিয়েছিল কঠিন হুংকার
লাথি মেরে ভেঙ্গেছিল লৌহ কপাট রুদ্ধ দ্বার
বেজে উঠেছিল দামামা যুদ্ধের ঝংকার।
পাগল মাতাল কে তারে ফিরায় এবার
কলমের আঁচে ভেঙ্গে দিয়েছিল শত্রুর বিষ দাঁত
প্রমাণ করে দিয়েছিল বাঙালির হিম্মত ভয়ঙ্কর জাত।
এই দুখু মিয়া বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
তুমি কবির শিরোমনি সিংহশাবক লও হে সালাম।
প্রিয় কবি কাজী নজরুল
মোঃ শহীদুল্লাহ মিয়া
পশ্চিমবঙ্গের বধর্মান জেলায় জন্ম যার
থানা আসানসোল চরুলিয়া গ্রামটি তাঁর,
দূরন্ত বালক স্বভাব প্রতিভা ডাকে দুখু মিয়া নামে
বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বল নক্ষত্র সবাই তাকে মানে।
তুমি দারিদ্র্যকে করেছো মহান
তুমি কবি সাহিত্যকে দিয়েছো বিশ্বে সম্মান,
তুমি গাহিলে সাম্যের গান
তুমি বাঙালি জাতির প্রাণ।
ন্যায়ের প্রতি তুমি জ্বেলে দিলে আলোর প্রদীপ
অগ্নিগিরি আকাশ তারা জ্বলছে পথে কতো দীপ,
তুমি বাবরি দোলানো ঝাকড়া চুল
তোমাকে সাহিত্যে চিনতে করিনা ভুল।
তুমি মানবতার কবি, তুমি প্রেমের কবি
তুমি দ্রোহের কবি তুমি বিদ্রোহী
তুমি কবি ছড়া, কবিতা গজল গানে
প্রবন্ধ গল্প নাটক ছিল তোমার প্রাণে।
তুমি জাতির চেতনা প্রতি ছিলে মশগুল
তুমি গানের পাখি তুমি বুলবুল
তুমি কবি অগ্নিবীনা তুমি বিষের বাঁশি
তোমার কবিতা গান শুনে মানুষের মুখে ফোটে হাসি।
সে
রীমি ফেরদৌসী
যারে দিই সবটা সময়
খোঁজ রাখে না
কথা বলি তারই সাথে
ধার ধারে না।
সুখে ভাসি দেখে সে মুখ
ফিরেও তাকায় না
তারে পরশে তৃপ্ত হিয়া
সামনে আসেনা।
ভাব জগতে পেয়েছি তায়
সে জানে না
আর হবে না দেখা তবুও
মন মানে না।
দু:খ কতদিন বাঁচে প্রিয়?
তানভীয়া আজিম
রিলিফের প্যাকেটে মানুষ মিললো না
আহাজারির দেশে আবারো দেখা দিলো দুর্ভিক্ষ!
আঁধখানা রুটির অপেক্ষায় জেগে থাকা মানুষ
কোমল হাসিতেই মানিয়ে নিলো তীব্র ক্ষুধা।
অপেক্ষার চোখে বসন্ত এলো
তলিয়ে গেলো
ফুলের চেয়ে মানুষের ঘ্রাণ বড্ড মাতাল
অন্ধকারের ঘ্রাণ বড্ড মাতাল।
এবার নিয়ম করে অনিয়ম করবো
সাইফুন্নাহার
এবার আমি অনিয়মের ঝাণ্ডা ওড়াবো
সময়,আর প্রাত্যহিক রুটিনকে গলাটিপে মারবো।
যখন যা খুশি তাই করবো,
যখন যেখানে খুশি যাবো।
জাংকফুড,ষ্ট্রীটফুড,যা ইচ্ছে খাবো,
যখন ইচ্ছে ঘুমাবো,যখন ইচ্ছে উঠবো।
অনেক মুল্য দিয়েছি তোমায়(সময়)
অনেক মেনেছি তোমাকে(নিয়ম)
আর নয়, আর নয়
এবার নিয়ম করেই অনিয়ম করবো।।
স্বপ্ন ধর্ষণ
কল্পনা ঘোষ
ঘরও যদি মানুষ খায়
কোথায় যাবো বলো?
কপাল যদি মন্দ হয়
যমের দুয়ার চলো
স্বপ্ন আমার জীবন আমার
বুকের যাদু সোনা
একলা ঘরে পাইয়া তারে
করছে তুলাধুনা
আমার যাদুর ভাতের থালা
এমনি আছে পড়ে
মাথার উপর যাদু সোনার
লাশ টা কেন ঝুলে
যাদু আমার স্বপ্নগুলো
এঁকেছিল হাতে
ভয়ংকর এক দানব এসে
জান নিলো প্রভাতে ।
আমার আর্দ্র স্মৃতি
তাসমিয়া তহুরা
এই যে তুমুল বৃষ্টি, বর্ষার আবাহন
ভিজে বাড়িঘর, সবুজ-শ্যামল বন,
নয়ন মেলতে মেলতে পত্রপল্লব তরতরিয়ে কাঁপে।
পাতায় পাতায় জমে ওঠে জলকণার রাগ সংগীত,
শাখায় শাখায় সুর মিলায় সাদা বকের সারি।
যেন চারপাশে লুকিয়ে থাকা এ এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা।
ঠিক তখনই মনের আকাশে উঁকি দেয় কালো মেঘের ঘনঘটা।
স্মৃতির খেয়াঘাটে ভিড়ে ফেলে আসা দিনের ঝাপসা ঝাপসা মুখচ্ছবি।
হারিয়ে খুঁজে ফিরি।
অমোঘ বাসনায় ভিজে উঠে মন।
কখনও হৃদ আনন্দে, কখনও নীল বিষাদে।
এই বৃষ্টি কেবল প্রকৃতিকে নয়,
মনকেও ভিজিয়ে তোলে এক অদৃশ্য আর্দ্রতায়।
জীবন পথের গোপন কোন আল্পনায়।
আমার দেশ
প্রণয় পাল
অপরাধের অভয়ারণ্য… আজ— আমার দেশ!
হত্যাকারীর বিজয়মিছিল… দীর্ঘ হচ্ছে বেশ!
ধর্ষণকারী উল্লাসমঞ্চে নৃত্য করছে… নিশি-দিন!
চারিদিকে হাহাকার… ভয়… আতঙ্কে প্রতিদিন!
মানবতা আজ কণ্ঠরুদ্ধ…
ভয়েতে যেন… সবই স্তব্ধ।
খবরের পাতায় পাতায় খুনিদের অনুকাব্য…
আইনের বেড়াজালে জ্ঞানীদের কলম — জব্দ!
পত্রিকার পাতায়… লাল রক্তে লিখছো কালো খবর!
নিজ অজান্তেই চরিতেছ তুমি… তোমারই জিন্দা কবর!
বিবেক আজ বিক্রি হচ্ছে… ক্ষমতার আসনে!
কে দেবে জবাব?এই যে অধঃপাত বিচার যে শুধু ভাষণে?!
বিলবোর্ডে আজ বিজ্ঞাপন ঝুলে না..ঝুলে থাকে — লাশ!
এই কি আমার স্বপ্নময় দেশ? শান্তির বদলে… ত্রাস!!!
