আর্যব্রত সরকার, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, বেক্সিমকো ফার্মা, ঢাকা।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভারতীয় আর্যসভ্যতা। সুপ্রাচীন তথা প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ভ‚-ভারতে এই সভ্যতার আশ্চর্যজনক বিকাশ ঘটেছে – একান্তই নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মকে আশ্রয় করে। অথচ এই আর্যদের নিয়ে এখনো বিতর্ক হয়। বিশেষত আর্যরা ভারতীয় নাকি অনুপ্রবেশকারী এর মীমাংসা দেয়া উচিৎ। আর্য সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সনাতন হিন্দুধর্মের মৌলিক নিদর্শন হলো বেদ। বেদের মৌলিকত্ব ভারতীয় যাস্ক থেকে পাশ্চাত্যের ম্যাক্সমুলার বিদগ্ধজন পর্যন্ত অকপটে স্বীকার করেছেন। বেদ নির্দেশিত এবং বেদ আশ্রিত পথে ভারতীয় আর্যদের বিশ্লেষণ করলে অবশ্যই প্রমাণিত হবে যে আর্যগণ ভারতে অনুপ্রবেশকারী নয় – বরং আদি অধিবাসী।
আর্যসভ্যতা ও হিন্দুধর্মের আলোচনায় প্রসঙ্গত আর্য শব্দটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সংস্কৃত ‘ঋ’ ধাতু থেকে আর্য শব্দের উৎপত্তি; যথা √ঋ + য = আর্য। উৎপত্তিগত অর্থে আর্য বলতে বুঝায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত, সাধনায় পরিণত, ঋদ্ধ ও সমুন্নত। অর্থাৎ আর্য শব্দটি গুণবাচক। বেদ অধ্যয়ন ও বৈদিক ঋষিদের জীবনচরিত আমাদেরকে আর্যজাতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করে। এজন্যই আর্যদের হিন্দুধর্ম উদার ধর্মরূপে ক্রমে বিকশিত হয়েছে। মনুসংহিতায় (২/১৭-২৪) বলা হয়েছে সরস্বতী ও দৃষদ্বতী নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল হলো ব্রহ্মাবর্ত। এই অঞ্চলের জাতির সদাচার, কৃষ্টি ও সভ্যতা বুঝাতে আর্য শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। পরবর্তীকালে মনিয়ার উইলিয়ামস ব্যাখ্যা দেন যে আর্যবর্তের মানুষের সাংস্কৃতিক প্রাধান্যের জন্য তাঁদের আর্য জাতি বলা হয়েছে। ঋগে্বদ অনুসারে আর্যদের বাসস্থানের বর্ণনা পাওয়া যায় সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে। সিন্ধুমাতা এবং সরস্বতী সপ্তমস্থানীয়া, আর পঞ্চশাখা (শতদ্রু, বিপাসা, ইরাবতী, চন্দ্রবতী ও বিতস্তা) কে ধরে নিলে Indus valley (সপ্তসিন্ধু অঞ্চল) কে আর্যদের আদি বাসস্থান বলে পরিগণিত হয়। ঝঃৎধনড়’র মতো অন্যান্য গ্রিক লেখকরা মনে করেন আর্যদের নিবাস হচ্ছে অৎরধহধ; যা আফগানিস্তান, বেলুচিস্তান অঞ্চল নিয়ে গঠিত; যার উত্তরে হিন্দুকুশ, দক্ষিণে সিন্ধুনদের মোহনা থেকে পারস্য উপসাগর, পূর্বে সিন্ধুনদ এবং পশ্চিমে পারস্য (ইরান) দেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত (R.L. Mitra:Indo-Aryans)।
বেদ রচনা হওয়ার কাল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। যারা ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বেদ রচিত বলে মত দিয়েছেন এতে হয়তো বেদসংকলনের কথাই বলা হয়েছে, মূল সৃষ্টিকাল নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভি. বি. কেটকার তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণের একটি সূত্রধরে বৃহস্পতি গ্রহ আবিষ্কারের (৪৫০০খ্রি:পূ) আরো পূর্বে ৭৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সরস্বতী নদী মরুভূমিতে পরিণত হয় বলে উল্লেখ করেছেন; যা উইলিয়াম উড্স এর বিবিসি ডকুমেন্টারি (The Story of India,2007) এর মতের চেয়েও পুরাতন। অনুমিত হয়, বেদ খ্রিস্টজন্মের ৭৫০০ বছরেরও পূর্বে সৃষ্ট। কেটকারের গবেষণা মতে ঋগে¦দের ৭/৯৫/২ মন্ত্রের রচনাকাল ৭৫০০ খ্রি: পূর্বাব্দেরও পূর্ববর্তী। অর্থাৎ চিন্তা করা যায় যে, ঋক্গুলো আরো অনেক আগে থেকে মুখে মুখে উচ্চারিত হতো। বেদের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে বলা যায় যে, ঋগ্বেদের ১০৫৫২ টি মন্ত্র ১০২৮ টি সূক্তে প্রায় চার শতাধিক ঋষির দ্বারা রচিত হয়েছিল (বেদ বিচার – সমরেন রায়, পৃ-৬৭)। বেদ গবেষক কীথের মতে ঋগ্বেদের ২য় থেকে ৮ম পর্যন্ত ৭টি মন্ডলে মন্ত্রগুলো ৭টি সমগোত্রীয় সমান নামধারী বিভিন্ন পরিবার গোষ্ঠী দ্বারা রচিত হয়েছিল- যারা সপ্তসিন্ধু বা হপ্তহিন্দু (আবেস্তামতে) বিধৌত ভূখন্ডে বাস করতেন।
বৈদিক ভাষা বিশ্লেষণে বেদের ভাষাই মুখ্য। ইন্দো-ইউরোপীয়, ইন্দো-ইরানীয়, ইন্দো-এশীয়, ইন্দো-চাইনীজ প্রভৃতিভাষা পরিবারগুলো থেকে বস্তুত: বৈদিকভাষার সঠিক উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা প্রায় অসম্ভব। বরং হিন্দু তথা সিন্ধু সভ্যতার ভাষার দ্বারা বৈদিকভাষার সন্নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব। ভারতের বাইরে সংস্কৃত ভাষার আদি উৎস খোঁজা পন্ডশ্রম কেননা শতাধিক বছর যাবৎ The Root of Aryan Language বের করতে গিয়ে পাশ্চাত্যের গবেষকরা হয়রান হচ্ছেন। যদিও পাশ্চাত্যের অনেক সমৃদ্ধ ভাষার উৎপত্তি তারা সহজেই নির্ণয় করতে পেরেছেন। কীথ্ বলেন, সপ্তসিন্ধুর তীরেই বেদসমূহ রচিত, অন্য কোথাও নয়। খ্রিস্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে তৎকালীন আর্যদের মুখে মুখে প্রচারিত বৈদিক ধর্মসাহিত্যের কথা মহাভারতের যুগেও ব্যাসদেব একপ্রকার আদিব্রাহ্মী লিপিতে লিখেছিলেন। এই ব্রাহ্মী লিপি হয়তো হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর লিপি থেকে পরিবর্তিত রূপে গৃহীত হয়েছিল। খধহমফড়হ ১৯টি সিন্ধুলিপি উদ্ধার করেছিলেন। বর্তমানে সিন্ধুলিপি থেকে বৈদিক ভাষার ৯টি প্রধান স্বরবর্ণ পাওয়া গেছে যার মানে হচ্ছে আর্যদের ভাষাটা হল স্থানীয়। অর্থাৎ ভাষাতাত্তিক বিশ্লেষণ এটাই প্রমাণ করে যে আর্যগণ বাইরে থেকে ভারতে আসেনি। তবে এ বিষয়টি আরো বিশদ গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
বৈদিক শ্লোকে আর্যদের বর্হিভারতে গমনের উল্লেখ আছে কিন্তু ভারতে আর্যদের আগমনের কথা নেই। যাযাবর জিপ্সীরা যে আদিতে ভারতীয় ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের একটা অংশ ইজিপ্টের দিকে চলে যায়। আফ্রিকার আলেকজান্দ্রিয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে হিট্টাইটি ও মিটান্নীদের মধ্যেও বেদের প্রসারতা ছিল। সম্ভবত: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার কালে আর্যরা সরস্বতী নদীর তীর ধরে গঙ্গা-যমুনা ভূ-ভাগে বাসস্থান গড়েছিল, বিবিসি ডকুমেন্টারিও তা সমর্থন করে (কিংস কলেজ লন্ডন এর গবেষণা)। এই আগমনটিকে পাশ্চাত্য পন্ডিতেরা ভুলক্রমে আর্যদের বাইরে থেকে ভারতে আগমণ বলে ধরে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ কোনক্রমেই আর্যগণ Invedor নয়। Muir বলেন “ আমি অকপটে স্বীকার করছি যে যতদূর জানি কোন সংস্কৃত পুস্তক এমনকি অতি প্রাচীনগুলো মধ্যেও এমন কোন তথ্য বা ইংগিত নেই যে আর্যগণ বিদেশীয় বংশোদ্ভূত (Original Sanskrit texts,Vol-II,P-332)। ঋগ্বেদের (১/৪৮/৩ এবং ১/৫৬/২) মন্ত্রে একশ দাঁড়বাহী সমুদ্রগামী বড় নৌকার (জাহাজ) কথা উল্লেখিত আছে। ঋগ্বেদের ১/১১৬ সূক্তে ভুজ্যুর পুত্রের সমুদ্রপথে বিদেশ গমনের কথা এক্ষেত্রে উল্লেখ্য। Kassiteiv যখন ব্যাবিলন আক্রমণ করেছিল তখন ইরানদেশ বহিরনাগত তথা ভারতীয় আর্য দ্বারা ভরে গিয়েছিল। হরপ্পা ও Jukhar দের মধ্যে কৃষ্টি-সভ্যতার মিল পাওয়া গেছে। বেদে প্রমাণ পাওয়া যায় আর্যরা ‘হরিয়ূপীয়া’ আক্রমণ করেছিল। সম্ভবত এই স্থানটিই হরপ্পা। প্রাচীন সিন্ধুলিপি ও বেদের অব্যাখ্যাত শব্দগুলোর (নির্ঘণ্টুর ২৭৮ টি শব্দ) প্রকৃত পাঠোদ্ধার জরুরী। তাহলে সিন্ধু ও বৈদিকরা যে একই আর্যসভ্যতার ধারক তাতে কোন সংশয় থাকবে না। দ্রষ্টব্য :The Aryan Question, Journal os assiatic society,1974।
আর্য সংস্কৃতি অত্যন্ত স্বয়ম্ভর এবং সমাজবিজ্ঞানর দিক থেকে বিবর্তন ও চেতনার ধারক। আর্যজাতি কালান্তরে দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে – যাজ্ঞিক ও অযাজ্ঞিক ( Yajnik & Ignorant)। যাজ্ঞিকরা আবার দুটি উপভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েÑ দেবযাজি ও অসূর্য্য। অসূর্য্যরা পর্শু (Persia), মাধ্য (Median), মায়ী(Mayan), পনি (Phoenicians) এবং অদেব। এই অদেব অংশ ভারতে ( সিন্ধু থেকে গঙ্গা-যমুনা) থেকে যায় এবং অন্যরা বহির্ভারতে গমন করে। ঋগ্বেদে আর্যজাতির সপ্তসম্প্রদায়ের উল্লেখ আছে (৭/৬/৫)। ঋষি দীর্ঘতমার শ্লোকে সপ্তসম্প্রদায়ের আবাসথস্থান (বাসস্থান) এর ভিন্নতা হেতু আকৃতিগত বৈসাদৃশ্য স্পষ্টত প্রতীয়মান। তবে কী হরপ্পানরা বৈদিক আর্যদেরই বিশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠী(!)। দেবযাজি আর্যগণ নিজেদের ‘পঞ্চজন’ বলে অভিহিত করতেন। এই ‘পঞ্চজনা’ হল যযাতির পঞ্চপুত্র (যদু, তুর্বশ, অনু, দ্রুহ্য এবং পুরু)।
বিষয়টি স্পষ্ট করতে পৌরাণিক ‘যযাতি’ উপাখ্যানের ব্যাখ্যা উল্লেখ্য, যযাতি শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানির পাণিগ্রহণ করেছিলেন। সাথে পেয়েছিলেন দাসী শর্মিষ্ঠাকে। কিন্তু দাসীর সাথে তার অসংগত সম্পর্ক জানতে পেরে শুক্রাচার্য তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। যেকারণে যযাতি অকাল বার্ধক্য লাভ করেছিলেন। যদি যযাতির কোন সন্তান তার বার্ধক্য গ্রহণ করতে রাজী হয় তাহলে সে অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে। যযাতি একে একে চারপুত্রকে তার বার্ধক্য গ্রহণের জন্য যাঞ্চা করে বিফল হন। অবশেষে কনিষ্ঠপুত্র পুরু বার্ধক্য গ্রহণ করতে রাজী হন। এই উপাখ্যানে আর্যদিগের ইতিহাসের একটি অধ্যায় পরিস্ফুট হয়েছে। যযাতির এই স্থবিরত্ব প্রাপ্তি এবং পুনর্যৌবন লাভ বর্ণনায় যাযাবর যুগ এবং স্থিতিশীল কৃষিযুগ এই উভয়ের মধ্যবর্তী ‘সন্ধিযুগ’ পৌরাণিক ভাষায় বর্ণিত হয়েছে এইভবে- নিরন্তর পর্যটন ক্লেশ এবং জীবিকার অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ক্রমশঃ যাযাবর যুগ অন্তর্হিত হয়ে স্থিতিশীল কৃষিযুগ প্রবর্তিত হয়। এই যুগান্তকারী ঘটনা একদিনে ঘটে নি, মধ্যে অনেক সময় অতিবাহিত হয়। এই মধ্যবর্তীকালকেই সন্ধিযুগ বলা হয়েছে। এই সন্ধিযুগে যাযাবর আর্যগণ স্থায়ী আবাসথ নির্মাণ করে জীবিকার প্রধান উপায় হিসেবে কৃষিধর্ম অবলম্বন করতে আরম্ভ করলেন। এটাই ‘যযাতির স্থবিরতা’। পুরু বার্ধক্য গ্রহণের পর তিনিই প্রথম স্থিত হলেন এবং চলাচল করতে অসুবিধা হেতু স্থায়ীভাবে সর্বপ্রথম কৃষি সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটান। পুরুবংশীয়রাই ভারতে পাকাপাকিভাবে রাজত্ব ও রাজ্য বিস্তার করে। এই পুরু পুত্র ভরত থেকে ভারত ভূমির নামকরণ করা হয়েছে। আর ভারতই আর্যদের আদি ও স্থায়ী বাসস্থান। অবশ্য পুরু ছাড়ও একে একে অপর চারপুত্র ক্রমে কৃষিকার্যে অবতীর্ণ হয়, ঋগ্বেদের ৬ষ্ঠ মন্ডলের ৪৫শৎ সূক্তে এর উল্লেখ আছে। এ প্রসঙ্গে ঋগ্বেদে বশিষ্ঠ ঋষি বলেছেন-
পুরোডা : ইৎ তুর্বশঃ যক্ষুঃ আসীৎ
রায়ে মৎস্যাসঃ নিশিতা অপীব
শ্রুষ্টিং চক্রু ভূগবঃ দ্রুহ্যবশ্চ
সখা সখায়ম্ অতরৎ বিষূচোঃ\ ঋগে¦দ ৭/১৮/৬
অর্থাৎ সখাই সখাকে বিপদ হতে উদ্ধারে ব্রতী হন যদু-তুর্বশ-দ্রুহ্য সম্প্রদায়েরা।আবার, ঋগ্বেদের ১/১৬৪/২-৩ মন্ত্রে ঋষি দীর্ঘতমা সপ্তপুত্রের দ্বারা পৃথিবীমন্ডলে সপ্তভ‚ভাগের ইংগিত দিয়েছেন (যত্রেমা বিশ্বা ভূবনাধি তস্থুঃ)। সপ্তজনের রথ পরিবর্ততে সপ্ত চক্রে পরিণত হয় এবং সাতটি অশ্ব সেগুলো বহন করে। অধিকন্তু সপ্ত ভগিনী তাদের চরণে প্রণেতা হন এবং এতে পৃথিবী পৃষ্ঠের সপ্ত ভূমিভাগের সাতটি নামকরণ হয় (সপ্তমহাদেশ!)।
আর্য সংস্কৃতির অন্য শক্তিশালী ও প্রভাব বিস্তারকারী দিকটি হলো বৈদিক অনুশীলন তথা ভাষা ও জ্ঞানের প্রসার। ততোদিনে বেদের (৪ খানা) পরবর্তী বেদাঙ্গ (৬টি) এবং বেদান্ত (উপনিষদগুলো) স্থান করে নিয়েছে। দীর্ঘ কল্পময় ব্যাখ্যা এসেছে পুরাণ থেকে। অর্থাৎ বেদের উপাস্যগণ বহু দেব-দেবীতে পরিণত হয়েছেন। আর্যজাতি প্রকৃতিজ হিন্দুধর্মে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন শক্তিগুলোকে দেবদেবীতে রূপান্তর করে নিলেও “সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম”- বেদের এই মূল নিরাকার একক ঈশ্বরের ধারণাটি বহাল থাকে। এখানেই হিন্দুধর্মের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মহত্ত¡। বস্তুত: বৈদিক আর্য ধর্ম হিন্দু ধর্মরূপে আবর্তিত থেকে ক্রমশ: সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রাকৃতিক নিয়মেই।
সহায়ক গ্রন্থ :
১. ঋগে¦দ সংহিতা; ১ম প্রকাশ, ১৯৭৬, হরফ প্রকাশনী।
২. উপনিষদ সংগ্রহ (৩৫টি উপনিষদ এক খন্ডে); – উপদেশনা: ড. রমারঞ্জন মুখোপাধ্যায়; ২য় সংস্করণ, ১৩৯৯ বাং, গ্রন্থিক।
৩. মনুসংহিতা; – সম্পা: শ্রীযুক্ত পঞ্চানন তর্করতœ; ১৯৯৩, সংস্কৃত পুস্তক ভান্ডার।
৪. বেদ বিচার, সমরেন রায়; ১ম প্রকাশ, ১৯৮৫, ফার্মা কে.এল.এম প্রা: লি:।
৫. BBC Documentary: The Story of India- by Michael woods, ২০০৭.
৬. উইকিপিডিয়া।
