একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ:  বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন সরকার

প্রফেসর ননী গোপাল সরকার

১৯৭১। বাঙালির অগ্নিযুগ! এই অগ্নি যুগে জেগেছিল বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাগিয়ে তুলেছিলেন প্রতিটি বাঙালিকে। তাঁর আহবানে যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে উঠেছিল। মানুষের মুখে মুখে ছিলে জয়বাংলা স্লোগান। দলে দলে যুবক-যুবতীরা যোগ দিচ্ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ২ লক্ষ জোয়ান ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্প ও ট্রেনিং সেন্টারে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে সেজেছিলেন দেশমাতৃকার অকুতোভয় সৈনিক। তাঁরা বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদেরই একজন হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন সরকার। তাঁর ডাকনাম ছিল ভজন। আমরা তাঁকে ভজনদা বলে ডাকতাম। তিনি আমার জ্যেঠাতো ভাই।

জন্ম পরিচয়: গ্রামের নাম চারুলিয়া। নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম হল চারুলিয়া। চারুলিয়ার সরকার বাড়ি ধনে-জনেকীর্তি ও প্রভাবে এলাকায় প্রসিদ্ধ ছিল। দোল-দুর্গোৎসব হতো প্রতি বছর। সেইসাথে গান-বাজনা শিক্ষা-দীক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বাড়িটি। ব্রিটিশ আমলে নিজ বাড়িতে নিজেদের অর্থায়নে গড়ে তুলেছিলেন একটি মাইনর  স্কুল—যার প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রীযুক্ত রমেশ চন্দ্র চৌধুরী। আমার বাবা, ডাঃ নগেন সরকার ও পরবর্তীকালে এই স্কুলে কিছু দিন শিক্ষকতা করেছিলেন। এই পরিবারে ১৯৪৭ সালের ২৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন নিরঞ্জন সরকার। পিতা মনীন্দ্র চন্দ্র সরকার মহাশয় ছিলেন সে আমলের মাইনর পাস এবং কিছুদিন নায়েবের পদেও যুক্ত ছিলেন। মাতা মনোরোমা সরকারের কোলে এসেছিল ৬ পুত্র এবং ২ কন্যা। আটভ্রাতা-ভগ্নীরমধ্যে নিরঞ্জন সরকার ছিলেন তৃতীয় সন্তান। কিন্তু স্কুল জীবনেই নিরঞ্জন সরকার মা-কে হারান। অবশ্য পিতার স্নেহ পেয়েছিলেন দীর্ঘকাল।

শিক্ষা জীবন : নিরঞ্জন সরকার স্থানীয় চারুলিয়া প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষা গ্রহণের পর বাউসী ও পরবর্তীকালে ছাতকে পড়াশোনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজে আই.এ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন। যুদ্ধ শেষে আই.এ পাশ করার পর তিনি চলে যান ছাতক। সেখানে ভগ্নি পতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র মহাশয় চাকরি করতেন। সেখান থেকেই তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যান এবং এক পর্যায়ে একটি মেডিকেল কোর্স সমাপ্ত করে কিছুদিন চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। শেষ পর্যায়ে তিনি ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক(ইংরেজী) পদে যোগদান করেন। সেখান থেকে এক সময় তাহিরপুর টেকের ঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের স্কুলে বদলি হন এবং এই স্কুল থেকে পরবর্তীকালে চাকরি শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবন: নিরঞ্জন সরকার ভজন নেত্রকোণা সদর উপজেলার বিখ্যাত বেতাটি গ্রামের ধর বাড়িতে রিক্তা রানী ধরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে ; আলপনা, অপর্ণা এবং স্মৃতি কণা সরকার। তিনি সন্তারদেরকে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রদান করেছেন। বড় ২ মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন এবং স্মৃতি কণা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাসমাপ্ত করে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পদে কর্মরত আছেন।

রাজনীতি : নিরঞ্জন সরকার ষাট দশকের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি একজন ভালো বক্তাও ছিলেন। ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন আজীবন বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান : ১৯৭১ সালে পূর্বধলা কলেজে অধ্যয়নকালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে অন্য সকল বন্ধুদের মতো তিনিও  উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।  ছাতক ভগ্নিপতির বাসা থেকে তিনি মহেষখলা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে চলে যান। ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী [১২]( নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা),  ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন  (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।    উল্লেখ্য, নিরঞ্জন সরকার এপ্রিল মাসেই যুদ্ধে যোগদানের জন্য ভারতের মহেশখলা গিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি ছিলেন কলেজ পড়ূয়া ছাত্র ; সংগত কারণে তার প্রতি রিক্রুটমেন্ট কমিটি সন্তুষ্ট ও আস্থাভাজন ছিলেন। অতঃপর বাঘমারা হয়ে তিনি তুরায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা রেজিঃ নং ০১১৬০৪০২৯৮। তাঁর পরিবারের সকলেই ভারতের মহাদেও শরণার্থী ক্যাম্পে শরণার্থী হিসেবে দীর্ঘ ৯ মাস অবস্থান করেছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগে ট্রেনিং নিয়েছিলেন এবং তার অস্ত্র ছিল স্টেনগান। তাঁর প্রশিক্ষকদের মধ্যে ভারতীয় অফিসারদের সাথে আমাদের পূর্বধলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল হাননান খানও ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বজলু কোম্পানীর অধীনে একজন প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

সরাসরি সম্মুখযুদ্ধ : নিরঞ্জন সরকার যেমন শক্তিশালী ও সুস্বাস্থের অধিকারী ছিলেন তেমনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। যুদ্ধ চলাকালে সেপ্টেম্বরের প্রথমদিকে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, নিজের বাড়িতে আসবেন। সাথে মাত্র দুইজন সহযোদ্ধা নিয়ে গেরিলা পদ্ধতিতে তিনি একদিন আমবাড়ি বাজারে আসেন। বাজার থেকে বাড়িটি খুব কাছেই ছিলো। বাড়িতে আগেই লুটপাট হয়েছিল তবে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেনি। আমবাড়ি বাজার এলাকার মানুষের সাথে তাঁর প্রকাশ্য দেখা হয় এবং কয়েক জনের সাথে কিছুটা বাদানুবাদ হয়। অবশ্য স্টেনগানটি তাঁর সাথেই ছিল। এক পর্যায়ে অন্যান্য মুরুব্বিগণ তাঁকে বাড়িতে না গিয়ে ক্যাম্পে ফিওে যাবার পরামর্শ দেন। তবে এলাকায় যাতে লুটপাট,অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড না ঘটে সে ব্যাপারে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে যান। বলাবাহুল্য কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নে শান্তি কমিটি ও রাজাকারদের উপদ্রব অপেক্ষাকৃত কম হয়েছিল।

দুর্গাপুরের কৃষ্ণারচরের যুদ্ধ : নিরঞ্জন সরকার তাঁর প্লাটুনকে নিয়ে সোমেশ্বরী নদীর কৃষ্ণারচরেপাকিস্তানি আর্মিদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি পাক আর্মিদের একটি কনভয়কে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন। প্রফেসর ননী গোপাল সরকার তাঁর লেখায়‘১৯৭১ শরণার্থী জীবনের স্মৃতি’গ্রন্থে নিম্নরূপ বিবরণ দিয়েছেনঃ-

“আমার জ্যেঠাতো (বড়) ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্লাটুন কমান্ডার নিরঞ্জন সরকার (ভজন) কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। দুর্গাপুর বিরিশিরির কিছুটা দক্ষিণে কৃষ্ণার চর এলাকায় পাকবাহিনীর এক কনভয়কে সরাসরি আক্রমণ করেন নিরঞ্জন সরকার ভজন ও তাঁর দল। এতে তৎক্ষণাৎ দুই পাকিস্তানি আর্মি খতম হয় এবং অনেকে আহত হয়। পরিতাপের বিষয় হলো,যে কৃষক ভাইটি নিরঞ্জন বাবুর প্লাটুনকে গোপনে রাস্তা দেখিয়ে সাহায্য করেছিলেন, তিনি বর্বর পাকিস্তানি আর্মির গুলিতে শহীদ হন! ভজনদার কাছে শোনা এইসব ঘটনা। কিন্তু সেই মহান কৃষক ভাইয়ের নামটিএতদিন পর ভুলে গেছি, বিষয়টি পরিতাপের। নিরঞ্জন সরকার অর্থাৎ ভজনদাও আর বেঁচে নেই। তিনি বজলু কোম্পানীর অধীনে ছিলেন এবং পূর্বধলা কলেজে ২য় বর্ষেও ছাত্র ছিলেন। তার অস্ত্র ছিল স্টেনগান।”

সংস্কৃতিচর্চা : সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নিরঞ্জন সরকারের সাংগঠনিক দক্ষতা ছিলো। তিনি ছিলেন একজন ভালো অভিনেতা। তাঁর অভিনীত নাটক-যাত্রা পালার মধ্যে বহ্নি, রিক্তা নদীর বাঁধসহ অনেক অভিনয়ের কথা এখনো লোকের মুখে-মুখে প্রচলিত আছে।  স্বাধীনতা অর্জনের পর ধীতপুর অভ্যুদয় ক্লাবের পক্ষ থেকে পোগলা ইউনিয়নের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা সংবর্ধনা দিয়েছিলাম। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন সরকারের নেতৃত্বে সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কানন মিয়া,বীর মুক্তিযোদ্ধা মাফিজ তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরেশ দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ফকির, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনোদ শেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে এলাকার শতশত মানুষ উপস্থিত থেকে তাঁদেরকে বিপুল করতালির মাধ্যমে উষ্ণ অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন ক্লাবের সভাপতি ও ধীতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু রঞ্জিত  কুমার নন্দী। ্আমি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্লাবের পক্ষে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে ছিলাম।

জীবনের শেষ দিনগুলো : নিরঞ্জন সরকার ভজন শিক্ষকতা জীবনে দীর্ঘকাল তাহিরপুর উপজেলার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। অতঃপর অবসর-জীবন তিনি নেত্রকোণার নাগড়ায় নিজ বাসভবনে কাটিয়েছেন। তখন তিনি উচ্চমাত্রার রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। অবশেষে ২০১২ সালের ১২ ই জুলাই নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন! তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন সদও উপজেলার নির্বাহী অফিসার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আমিন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত ঘোষ-সহ অনেক আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব এবং আমি নিজেও। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করি।

বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান। তাঁদের অসম সাহস, বীরত্বব্যাঞ্জক যুদ্ধ এবং আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি ; আর এই স্বাধীন-স্বার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের কুশীলব ছিলেন এরূপ নিরঞ্জন সরকারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।

Scroll to Top