আগুনপাখি
পহেলি দে
আমাদের শিশুরা আগুনপাখি হয়ে গেছে
ওরা এখন আকাশের ফুল,
মাহেরিন মিস ওদের ঘুমপাড়ানি গান শোনাচ্ছে,
তার মহামানবীয় আদরে পাখিগুলো ভুলে গেছে
মবের মুল্লুকে রেখে যাওয়া জন্মদাগ,
সন্তান বাৎসল্যে অন্ধ পিতামাতার স্মৃতি।
উন্মাদ আগুনের ডানা ভেঙে ওরা-
উড়ে গেলো ঝাঁক বেঁধে শরীর নামক পিরান খুলে,
মুমূর্ষু মাটিতে পড়ে আছে সভ্যতার দেহ
স্কুল ব্যাগ, মা’র তৈরি টিফিন
রক্তাক্ত বর্ণমালা।
ওদের কাছে পৃথিবী এখন অর্থহীন
ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ওরা পৌঁছে গেছে
নরোম আলোর রেইনফরেস্টে
ওরা এখন নির্মল বাতাসে উড়ন্ত প্রজাপতি।
আমরা ওদের দিতে পারিনি চিরহরিৎ জীবন
ওরা উড়ে গেছে হাস্নাহেনার গন্ধে
অপরাজিতার সাথে সমূহ সুন্দরের দেশে।
যেখানে পানির তেষ্টা পায় না,
পথের দূরত্ব মাপতে হয় না,
শ্বাসকষ্ট নেই, মাংস পোড়া গন্ধ নেই।
সামরিক উর্দি, রক্তের আল্পনা, বার্ন ইউনিট,
ভিউ শিকারী, বিভ্রান্ত বৈমানিক,
লাইট ক্যামেরা একশন ইত্যাদি কিছুই নেই
ক্যাসিনো নেই, রাজনীতির দূষণ নেই,
স্যুটেড-বুটেড নরপিশাচ নেই, সুদের কারবার নেই,
লোকদেখানো রঙ্গমঞ্চ নেই।
আছে শুধু স্নিগ্ধতা শোক-তাপহীন এক অমৃতপুরী।
ষটচক্রে কামরূপ
তানভীর জাহান চৌধুরী
আশ্বিনের পূর্ণিমার চাঁদ লুকোচুরি রাত
এই হাতে রেখেছিলে
তোমার জোছনা মাখা হাত
যাপিত জীবনের
সুখ-দুঃখ গুলো-ই জীবন
লক্ষী পূর্ণিমার মায়াবী স্পর্শে না জুড়ায় মন
জ্যোৎস্না চেটেপুটে বেড়ে উঠে শ্যাম
ষটচক্রে কামরূপ জেগেছে মধুর প্রেম
লাখো শহীদের রক্তে স্নাত হয়ে
সুর্যটা রক্তিম আভা ছড়ালো
উচ্চ যেথা শির
সুমিত্র সুজন
শিরোন্নত উপাখ্যান গর্বে বলিয়ান
মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম
বীরদর্পে আগুয়ান বাংলার সন্তান
তেজোদ্দীপ্ত পরাক্রম তারুণ্য উদ্দাম।
রণনৃত্যে জয়ধ্বনি সদা বেগবান
নিদ্বিধায় আত্মদান মুক্তি মনস্কাম
স্বাধীন স‚র্য আনিবে রণভ‚মে শ্যাম
বীরগাথা কল্পতরু ঐ দন্ডায়মান।
হানাদার পিশাচের পৈশাচিক মর্ম
সন্তানহারা মায়ের ক্ষোভের সঞ্চার
পাকিদের বর্বরতা হত্যাযজ্ঞ কর্ম
বাঙালির প্রাণপণ সমর সজ্জার
সর্বাগ্রে স্বাধীন ধ্বজা যোদ্ধাদের ধর্ম
শৃঙ্খলমুক্ত বাংলা মা পরাধীনতার।
বিজয়
মো: পারভেজ কামাল শাহজাহান
বিজয় মানেই আনন্দ
আর যদি হয় শত্রু পরাজয়
তবে তো কথাই নাই।
বিজয়
ডিসেম্বর এলেই হৈ হৈ আনন্দে
দোল দেয় হৃদয়ে
চোখের সামনে ভাসে
বর্বরদের পরাজয়ের নত শির।
বিজয় মাসে
শত দুঃখ-বেদনার মাঝেও
আনন্দে মাতোয়ারা
শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা।
