নেত্রকোণা জেলার পর্যটন: সমস্যা ও সম্ভাবনা
মো. ইকবাল হাসান তপু
পর্যটন শব্দটির সমার্থক বেশ কয়েকটি শব্দ আছে। সাধারণভাবে বলা চলে ভ্রমণ ও পরিভ্রমণ। মানুষ তার নিজের কাজে যখন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে তখন একস্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে নিজেকে ভারমুক্ত করার চেষ্টা করে। এ স্থানান্তরটির বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে আর সেটি হলো নিজেকে রিফ্রেস করা নতুন করে নিজেকে জাগিয়ে নেয়া পরবর্তী দিনগুলোতে নিজেকে কর্মক্ষম করতে। অবকাশ যাপন ও বিনোদন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ অবকাশ যাপনের জন্য বৈচিত্র খুঁজে। বিনোদন ও আনন্দ লাভ বা তথ্য সংগ্রহ এবং গবেগবেষণার জন্যও মানুষ ভ্রমণে বের হয়। আর এ বিনোদন ও জ্ঞান আহরণ করার পদ্ধতিটিই হলো পর্যটন। পর্যটন সাধারণত ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সোন্দর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। পাহাড়, সাগর, হাওর-নদী, জলাভ‚মি, বিল-ঝিল, মরুভ‚মি, ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনা, বাগান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় তীর্থস্থানকে ঘিরেই আবির্তিত হয়।
নেত্রকোণা জেলার পর্যটন: নেত্রকোণা জেলা মহুয়া-মলুয়া তথা মৈমনসিংহ গীতিকার লোকজ ঐতিহ্যে ঋদ্ধ একটি প্রাচীন জনপদ। উত্তরের সীমানা জুড়ে যেমন রয়েছে গারো পাহাড় তেমনি দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চল জুড়ে রয়েছে ফসলের অবারিত মাঠ, বিস্তৃত হাওর, শাপলা শালুকের বিল-এক আদি অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এ নেত্রকোণা।
উন্মুক্ত হাওরের হৃদয় কাড়া হাওয়া-জল যে কোন মানুষকে প্রেমিক বাউলে পরিণত করবে। হৃদয়ে নিজের অজান্তেই সুর উঠবেপূবালী হাওয়ায় আজ এ মন উদাস উচাটন। প্রেম-বিরহ, ভালবাসা ও আতিথেয়তায় নেত্রকোণার নাম যেমন ভুবন বিখ্যাত তেমনি জাতিসত্ত্বা ও দেশ গঠনে রয়েছে এ জেলার উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব। আন্দোলনে সংগ্রামে নেত্রকোণার রয়েছে উপমহাদেশ খ্যাত নানাবিধ ঘটনা।
প্রশাসনিক কাঠামো: ১৮৮০ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক নেত্রকোণা মহকুমা গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও ১৮৮২ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। ১০ টি উপজেলা, ৮৬ টি ইউনিয়ন ও ৫ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ জেলা। জেলাটিতে মোট গ্রামের সংখ্যা ২২৯৯ টি। হিমালয় পাহাড় শৈলীর পাদদেশ জুড়ে এ জেলার অবস্থান। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে পুরো অঞ্চলটি ছিল পানিতে নিমজ্জিত। ব্রহ্মপুত্রের পূর্বে বিশাল এলাকা জুড়ে একটি ওয়াটার বেসিন ছিল এবং দেখতে ছিল সাগরের মতো। সাগর থেকে অপভ্রংশ হয়ে সায়র ও আজকের হাওর নামের উৎপত্তি। হিমালয়ের ঢাল বেশে নেমে আসা জলরাশি উজানের বিপুল পলিমাটি বহন করে এনে নেত্রকোণা অঞ্চলের জলাভূমির গভীরতা কমিয়ে দিয়ে কালক্রমে বাসযোগ্য করে তুলে। বিভিন্ন শাসকের সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভক্তির মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে এর ভিত্তি। এক সময় এটি কামরূপ রাজের অধীনে ছিল। গারো বৈশ্যরা শাসন করেছে এ অব্জল। শাসন করেছেন বারো ভঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁ। ১০৫৩ সালে সুদূর রোম থেকে এসে সুফী সাধক হযরত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) নেত্রকোণার মদনপুর অঞ্চলে আস্তানা গেড়ে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটান। শুরু হয় নতুন এক মানবিক যুগের।
পর্যটন সম্ভাবনা তথা আকর্যনীয় পর্যটন স্থান সমূহ: জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের ছাপ। রয়েছে পর্যটন সম্ভাবনা। বছরের একেক ঋতুতে একেকটি রূপে দেখা যায় এ অঞ্চলকে। বর্ষায় জেলার এক রূপ আবার শুকনো মৌসুমে সেটি বদলে গিয়ে ভিন্নরূপ পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে সংক্ষেপে উপজেলা ভিত্তিক পর্যটন স্থান ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরে ধরা হলো।
দুর্গাপুর উপজেলা: পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ নেত্রকোণা জেলার ১ নাম্বার উপজেলার নাম হলো দুর্গাপুর। দুর্গাপুরের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর এক জনপদ। মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ উপজেলা। এখানে রয়েছে ভারতের সিমসাং নদীর বহমানতা যা বাংলাদেশে সীমানায় এসে হয়ে গেছে সোমেশ্বরী নদী। কথিত আছে ব্রাহ্মন সাধু সোমেশ্বর পাঠকের নাম অনুসারে এ নদীর নাম সোমেশ্বরী ও অঞ্চলটির নাম সুসঙ্গ রাখা হয়েছিল। এ নদীর মাধ্যমে মূল্যবান খনিজ সম্পদ সিলিকন বালু, খয়লা সংগ্রহ করে অর্থনীতিকে সচল রাখা যায়। প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্ব দিচ্ছে এ নদী। ভরা বর্ষায়ও খুব গভীর নয় এ নদী। এ নদীতেই পাওয়া যায় বিরল প্রজাতির মহাশোল (মাসুল) মাছ।
দর্শনীয় স্থান / স্থাপনার বিবরণ:
১.বাংলাদেশের একমাত্র চিনামাটির পাহাড় যাকে সবাই যেটাকে সাদামাটির পাহাড় বলে, এটি বিজয়পুর গ্রামে অবস্থিত।
২. গারো পাহাড়।
৩. বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি।
৪. টংক আন্দোলনের শহীদ স্মৃতি সৌধ।
৫. হাজং মাতা রাশিমণি স্মৃতিসৌধ।
৬. সুসঙ্গ রাজবাড়ি।
৭. বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক কমরেড মণি সিংহের স্মৃতি রক্ষায় কমরেড মনি সিংহ মেলা।
৮. কমলা রানীর দিঘী, যেটাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিরাট এক মিথ।
৯. রংধনু পর্যটন স্পট ও পাহাড় ট্রেকিং।
১০. সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী (রানী খং মিশন)।
১১. সোমেশ্বরী নদী।
কলমাকান্দা উপজেলা: কলমাকান্দা উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. চন্দ্রডিংগা পর্যটন কেন্দ্র / পিকনিক স্পট
২. পাতলা বন।
৩. লেংগুরা টিলা।
৪. সাত শহীদের সমাধি।
বারহাট্টা উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. বাংলাদেশের বিখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইন্নাস আলীর বাড়ি ও সমাধি (বিক্রমশ্রী) তিনি জেলার প্রথম ভিসি, বাংলাদেশ পরমানু কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
২. বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের প্রধান কবি নির্মলেন্দু গুণের কাশবনের বাড়ি ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত রামসুন্দর পাঠাগার ও বীনাপানি সংগ্রহশালা।
৩. অধ্যাপক ড. সফর আলী আকন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ।
৪. রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জ্ঞানচন্দ্র মজুমদার, আজিজুল ইসলাম খানসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তি আছেন যাঁদের ভক্ত অনুসারীরা তাঁদের ভিটেমাটি দেখতে যান এবং তাঁদের নিয়ে গবেষণা করেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র/স্পটগুলোর নাম।
১. শৈলজারঞ্জন মজুমদার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাহাম। সরকারি অর্থে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অসাধারণ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ শৈলজারঞ্জন মজুমদার এর স্মৃতির স্মরণে। প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে যান।
২. উকিল মুন্সি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জৈনপুর। প্রখ্যাত বাউল সাধক উকিল মুন্সির স্মৃতি রক্ষায় সরকারি অর্থে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ স্থাপনা।
৩. মোহনগঞ্জ পৌর পার্ক।
৪. ডিংগাপুতা হাওর
৫. কুলপতাক গ্রামে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত চার্চ।
৬. জেলার ১ম শহিদ ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ড. ফজলুর রহমানের বাড়ি, কাজিয়াটি।
৭. হিজল বাগান, আখৈখলা।
খালিয়াজুড়ি উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. বর্ষায় খালিয়াজুড়ির এক রূপ আবার শীতে আরেক রূপ। মানুষজন বর্ষায় খালিয়জুড়িতে যান হাওরের বিশালতাকে উপভোগ করতে।
২. কথিত আছে খালিয়াজুড়িতে এক সময় কামরূপের রাজধানী স্থাপন হয়েছিল। চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে জিতারী নামক জনৈক সন্ন্যাসী কর্তৃক এ অঞ্চল অধিকৃত হয়ে কামরূপের শাসনচ্যুত হয়েছিল।
৩. বাংলাদেশের বিল গেটস খ্যাত প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের জন্মভিটা রয়েছে এ উপজেলায়, কৃষ্ণপুরে। মোস্তাফা জব্বার বাংলা কিবোর্ড বিজয় ও বাংলা সফটওয়্যার বিজয়ের জনক।
৪. প্রখ্যাত বাউল সাধক উকিল মুন্সীর বাড়ি বোয়ালী।
মদন উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. মদন উপজেলা বর্ষায় সাগরসদৃশ জলরাশির অঞ্চল। স্বচ্ছ জলে নৌকা নিয়ে ভ্রমণ করতে যান বহু পরিবার। পুরো উপজেলাটিই একটি ডিপ ওয়াটার বেসিন।
২. উচিতপুর একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটিকে মিনি কক্সবাজার বলে ডাকে পর্যটকরা।
৩. নৌকা বাইচ, ষাড়ের লড়াই, বাউলা গান, জারী গান, ধামাইল গানের জন্য বিখ্যাত।
৪. সৈয়দ আহমদ বসরী (র.) মাজার শরীফ।
৫. মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রবল সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিল জাহাঙ্গীরপুর। বহু পাক সৈন্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হয়েছিল।
আটপাড়া উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র/ স্পটগুলোর নাম।
১. মুখলেছ ল্যাংটার মাজার।
২. কালী বাড়ি মন্দির, তেলিগাতী।
৩. রামসিদ্ধ অষ্টমী খলা / রাজবাড়ি।
৪. মুঘল আমলে নির্মিত মসজিদ।
৫. একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক, উত্তর আকাশ পত্রিকার সম্পাদক, কবি নজরুলের ‘নবযুগ পত্রিকার সাহিত্য পাতা আগুনের ফুলকির সম্পাদক, ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন খালেকদাদ চৌধুরীর বাড়ি, সোনাজুর।
৬. চর্যাপদের কবি কাহ্নপা’র বাড়ি কৃষ্টপুর।
৭. প্রখ্যাত কবি হেলাল হাফিজের বাড়ি।
৮. মির্জা মো: আল ফারুক বিখ্যাত লেখক ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বাড়ি।
কেন্দুয়া উপজেলা: কেন্দুয়া উপজেলা শিল্প-সাহিত্য, প্রাচীন আমলের নিদর্শনসহ বহু খ্যাতিমান মানুষের ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি সমৃদ্ধ উপজেলা। এর পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি এঁর বাড়ি ফেমই।
২. ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক, লেখক চন্দ্রকুমারের বাড়ি আইথর গ্রামে।
৩. অমর কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদ’র বাড়ি, কুতুবপুর গ্রামে।
৪. অবিভক্ত বাংলার অর্থমন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র নলিনি রঞ্জন এর বাড়ি, সাজিউড়া।
৫. গোগবাজার ও বোসের বাজার বিখ্যাত।
৬. মুগল আমলের রোয়াইল বাড়ি দুর্গ।
৭. দনাচাপুরের গান্ধার শিল্পের ধ্বংস প্রাপ্ত প্রাচীন নিদর্শন।
৮. কেন্দুয়ায় শিল্প সাহিত্যের বরেণ্য মানুষরা জন্ম নিয়েছেন। সাধক জালাল খাঁ, কবি রওশন ইজদানী, অধ্যাপক যতীন সরকার, গবেষক সিরাজুদ্দীন কাশিমপুরী, মধ্য যুগের কবি কঙ্ক, আব্দুল মজিদ তালুকদার, শিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী, শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবাল, কুদ্দুছ বয়াতি, বাউল শিল্পী সালামসহ বরেণ্য অনেক শিল্পী জন্ম নিয়েছেন এ মাটিতে।
পূর্বধলা উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. নারায়ন ডহর জমিদার বাড়ি।
২. বাঘবেড় জমিদার বাড়ি-জয়া ভাদুড়ীর পৈত্রিক নিবাস। অমিতাভ বচ্চনের শ্বশুর বাড়ি।
৩. রাজধলা বিল।
৪. সুনাইকান্দা প্রাচীন জামে মসজিদ।
৫. ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতা টিপু শাহ, করম শাহ ও ছপাতি শাহ’র মাজার, লেটিরকান্দা পাগল বাড়ি।
৬. হোগলার নৃসিংহ জিউর আখড়া ও ঘাগড়া ইউনিয়নের রাজপাড়া মন্দির।
৭. মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১ নং সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আবু তাহের এর সমাধি, কাজলা
সদর উপজেলা: উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র / স্পটগুলোর নাম।
১. আধ্যত্মিক পুরুষ শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) মাজার, মদনপুর।
২. ১৯৩৯ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস নেত্রকোণায় আগমন করেন এবং মেথরপট্টি মাঠে জনসভা করেন।
৩. ১৯৪৫ সালের ৮,৯ ও ১০ এপ্রিল নাগড়ার মাঠে সর্বভারতীয় কৃষক সভার আয়োজন।
৪. ত্রিমোহনী বধ্যভ‚মি, জালালপুর, রৌহা ইউনিয়ন। এখানে ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী বহু লোককে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।
৫. গোবিন্দ চাতাল পদ্মবিল
৬. নারিয়াপাড়া শাপলা বিল।
৭. কংস ও মগড়া নদী।
৮. বাউল সাধক কবি রশিদ উদ্দিনের সমাধি, বাহিরচাপড়া
৯. বাউল চান মিয়ার সমাধি, কাটপুড়া
১০. মুজিবুর রহমান খাঁ প্রখ্যাত সাংবাদিক, উলুয়াটি।
১১. কন্ঠশিল্পী বারী সিদ্দিকী ও
১২. নাজমুন মুনিরা ন্যান্সী সারা দেশেই পরিচিত তাদের সংগীত সাধনার জন্য।
নেত্রকোণা জেলাটি একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাহক ও শিল্প-সংস্কৃতিতে ভরপুর একটি জেলা। এ জেলার পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও সামর্থ্যবান মানুষজন এগিয়ে আসলে পর্যটন খাত অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সমস্যা: জেলার পর্যটন খাত বিকাশে যে সকল বাঁধা বা সমস্যা রয়েছে তা নি¤œরূপ:
১. পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব। জেলায় পর্যটন বিকাশের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ ইউনিট নেই। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারীর সংস্থার তৎপরতাও বেশ অপ্রতুল।
২. অবকাঠামোগত অসুবিধা। পর্যটন এরিয়াতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। ভাল ও নিরাপদ মানের হোটেল নেই উপজেলাগুলোতে। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায়তো কোনরূপ থাকার বা টয়লেট ফ্যাসিলেটিসসহ বিশ্রামের সুবিধা নেই।
৩. দুর্বল যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাইরে থেকে পর্যটকরা আসতে চান না। রাস্তাঘাট ভাঙ্গা, ভাল যানবাহন না থাকাই প্রধান বাঁধা।
৪. মানসিক দুর্বলতা: জেলার মানুষ এখনও পর্যটন খাতকে একটি শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন না। এখানে বিনোদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে তা অনেকেই ভাবেন না।
৫. প্রচারনায় পিছিয়ে: নেত্রকোণা জেলা পর্যটন খাত ও জেলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে বা ব্রান্ডিং করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই মনে হয়। দেশের অন্যান্য পর্যটন জেলার মানুষজন ও প্রশাসন যতভাবে প্রচার প্রচারণা ও সুবিধাদি বর্ণনা করছেন আমাদের জেলা এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে।
৬. দক্ষ জনবলের অভাব: পর্যটন খাতে দক্ষ জনবল নেই। নেই দক্ষ ভলান্টিয়ার যারা বিদেশিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদেরকে গাইড হিসেবে সেবা দিতে পারেন।
৭. সমন্বয়হীনতা: পর্যটনের মান বাড়াতে বা দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ কে করবে বা তাদের নিরাপত্তা কে দিবেন এ নিয়ে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
৮. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে পর্যটন খাত বিকশিত হবে না।
৯. পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব: সরকারি অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট কম ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে।
লেখক: গবেষক ও সংগঠক।
