বাউল কবি রশিদ উদ্দিন: বাউলদের বাউল

অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার

গ্রামের নাম বাহিরচাপড়া। বর্তমানে নেত্রকোণা পৌরসভার একটি এলাকা। রাজুর বাজার থেকে হেঁটে কিছুদূর এগোলেই সেই পুকুর। পাড়ে তার সাজানো মেহগনি গাছ। এখানেই চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন কিংবদন্তি তুল্য বাউল কবি রশিদ উদ্দিন। পাশে সবুজ ধানের ছোট্ট একটি মাঠ। তারপরেই রেলপথ, এখানে বসে ছোটবেলায় বড়শিতে মাছ ধরতেন রশিদ উদ্দিন। রেলপথের ঠিক দক্ষিণে নেত্রকোণা টু মোহনগঞ্জ সড়কপথ। তারপরে দিয়াইলের বিল এবং তৎসংলগ্ন নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়। একটি পাকা ছোট্ট পথ রেললাইন অতিক্রম করে মিশেছে বাইরোডে। ফলে দৃশ্যত সৃষ্ট হয়েছে চৌরাস্তা মোড় । পাশে একটি চা-স্টল কাম মুদিদোকান। রেলপথের গা ঘেঁষে কিছু চেয়ার। উপরে খোলা আকাশ। বিকেলের নরম আলোয় এক পেয়ালা চা খাবার মনোরম পরিবেশ ।

আমি ধীরপদে এগিয়ে গেলাম রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত বাউল কবি মরহুম রশিদ উদ্দিনের মাজারে-যেখানে এখনো তাঁর শিষ্যদের কেউ কেউ এসে নামাজ-জিকির করেন। রশিদ উদ্দিন ছিলেন বাউলদের বাউল, ওস্তাদদের ওস্তাদ। নেত্রকোণা ও তার আশপাশের জেলার তাবড় তাবড় বাউল শিল্পীরা একদিন এখানে বসেই বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের কাছে তালিম নিতেন। এ কারণেই আজ নেত্রকোণা হচ্ছে মালজোড়া বাউলগানের তীর্থক্ষেত্র। রশিদ উদ্দিনের কাছে তালিম নিয়েছেন উকিল মুন্সী, চাঁন মিয়া, আলী হুসেন, ইদ্রিছ মিয়া, তৈয়ব আলী, মিরাজ আলী, অন্ধ বাউল শিল্পী প্রভাত দাস, এমনকি সুদূর সুনামগঞ্জ থেকে এসে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন বাউল শিল্পী আব্দুল করিম। কে না এসেছেন তাঁর কাছে? দেহতত্ত¡, সৃষ্টিতত্ত¡, মুর্শিদী, মারফতি, আত্মতত্ত¡ প্রভৃতি উচ্চাঙ্গের বিষয়ে একদিন যে মানুষটি মাতিয়ে রাখতেন আসর, আজ তিনি নেই। কী নীরব পড়ে আছে চারিধার! কিন্তু রশিদ উদ্দিনের গান থেমে নেই। তিনি আমাদের শুনিয়েছিলেন, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজ শোন্ বলিরে পাগল মন/ মানুষের ভিতরে মানুষ করিতাছে বিরাজন’। মনে পড়ে যায় মানবতার আহবানে মধ্যযুগের সেই চন্ডীদাসের অমর বাণী, ‘শোন হে মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’! এতকাল পরেও মানুষ হয়ে আমরা কী সত্যি সত্যিই মানবপ্রেমে ঋদ্ধ হতে পেরেছি! একদিন এই বাহিরচাপড়া-মেদনী- দিগজান- বাংলা এলাকায় শোনা যেতো টুকন মিস্ত্রী-দীনু মাঝি আর রশিদ উদ্দিনের একতারার সমতাল সুর। এখানে হতে পারে একটি উত্তম পর্যটন স্পট। পৌরসভাকেই এমনতর মহৎ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। 

এইতো ক’মাস আগে প্রচন্ড শীতের রাতে বরাবরের মতো এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুদিন ব্যাপী রশিদ উদ্দিন মেলা। আমি এবার আলোচক হিসেবে এই স্থান এবং রশিদ উদ্দিনের বাউল গানের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা বলেছি। সভাপতি পৌর মেয়র নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তিনি রশিদ উদ্দিনের মাজার এলাকাটি পাকা করে একটি স্থাপনা করে দেবেন। রশিদ উদ্দিনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার মানুষজন। আমাদের উচিত বাউলকুল শিরোমণি ওস্তাদ রশিদ উদ্দিনের গান ও স্মৃতির পুনর্জাগরণ করা। ইদানিং তাঁর গান ও স্মৃতি নিয়ে অনেকেই লিখছেন। জানা গেছে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ গান উদ্ধার ও সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যত দ্রæত সম্ভব বাউলকবি রশিদ উদ্দিনের জীবন ও কর্মের উপর ব্যাপক গবেষণা করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারেন নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়। এ লেখায় ওস্তাদ রশিদ উদ্দিন সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করতে চাই।

জন্ম কুল-ঠিকুজি: যতটুকু জানা যায় ১৮৮৯  সালে রশীদ উদ্দিনের জন্ম হয় বাহিরচাপড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পিতা ম¯্রব উদ্দিন ধনে-মানে গণ্যমান্য ছিলেন। গ্রাম সমাজে জমি-সম্পদ যথেষ্টই ছিলো। এক সময়ে তাদের পারিবারিক পদবী ছিলো মড়ল। তৎকালীন সমাজে মড়ল মানে গাঁয়ের মাথা। রশিদ উদ্দিনের পিতামহ মড়ল পদবী ব্যবহার করতেন। তার নাম ছিলো আজম মড়ল। তিনি গায়ে-গতরে বলতে গেলে একজন পালোয়ান ছিলেন। অর্থাৎ আজম মড়ল ছিলেন একজন নামকরা কুস্তিগীর। গ্রাম সমাজে প্রাচীন রীতি পদ্ধতির পরিবর্তনে তাদের পরিবারে সেই মড়ল পদবীটি উঠে যায়। রশিদ উদ্দিনের পিতা থেকে মড়ল পদবী আর ব্যবহার করা হয়নি। 

এস্রব উদ্দিন শিক্ষার প্রতি নজর দিয়েছিলেন। তিনি তার বড় ছেলে মল্লিক উদ্দিনকে এন্ট্রান্স পাশ করিয়েছিলেন। মল্লিক উদ্দিন নেত্রকোণা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কেরানী পদে চাকরি করতেন। তিনি তার ছোটো ভাই রশিদ উদ্দিনকে পড়ালেখার চাপে রাখতেন। বর্ণপরিচয় কিংবা বাল্যশিক্ষা পর্যন্ত লেখাপড়া গৃহেই সম্পন্ন হয়েছিলো। কিন্তু বিধি বাম। রশিদ উদ্দিনের মন বসে

না পড়ালেখায়। ধনী পরিবারের আদুরে ছেলে, কেউ তেমন জোরাজুরিও করেন নি। রশিদ উদ্দিনের মনে যেন কী এক সুরের জগত খেলা করে। আড়বাঁশি বাজাতেন তিনি। এড্রালপাওয়েলের মতে প্রাচীন মিশর, গ্রীস এবং ভারতে বাঁশির প্রচলন ছিলো। কিন্তু আড়বাঁশি কেবল ভারতেই দেখা যেতো।রাধাকৃষ্ণের লীলাখেলায় বাঁশি এক শক্তিশালী স্থান দখল করে আছে। রশিদ উদ্দিন ওস্তাদ ছাড়াই নিজেই বাঁশি বাজাতেন। যেখানে ঢপ যাত্রা , বাউল কিংবা কবিগান হতো ছুটে যেতেন সেই কিশোর বয়সেই। ফলে লেখাপড়ায় আর স্কুলমুখি হতে দেখা যায়নি। তবে বাউল সাধক জালাল খাঁ ছাত্রজীবনে রশিদ উদ্দিনের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা করতেন। তিনিও রশিদ উদ্দিনের মতো বাউলগানে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং তাঁর কাছে বাউল গানের তালিম নিতেন। প্রকৃতপক্ষে রশিদ উদ্দিনের প্রথম শিষ্য বাউল কবি জালাল খাঁ।

বিবাহ: রশিদ উদ্দিন দুই বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী দৌলতুন্নেছার মৃত্যুর পর, ১৯২৮ সালে ৩৯ বছর বয়সে আমিরজান বেগমের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন রশিদ উদ্দিন। সন্তানাদিও হয় তাদের। কিন্তু সংসারের প্রতি যেনো কোনো খেয়াল নেই। সংসার করেও রশিদ উদ্দিন সংসারি হতে পারেন নি। তাঁর উদাস মনে বাঁজে একতারার সুর। গান তাঁর নেশা এবং ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে।

বাউল রশিদ উদ্দিন: বাউল গান করা সহজ কিন্তু বাউল হওয়া সহজ কাজ নয়। বাউল একটি মত, একটি পথ, একটি সাধনা। গানে গানে দেহভান্ডে স্রষ্টাকে ডাকা, খুব সহজ কাজ নয়। এজন্য গুরু ধরতে হয়। রশিদ উদ্দিনের তবে গুরু কে বা কারা? ততোদিনে অবশ্য রশিদ উদ্দিনের বয়স বেড়েছে। এখন তিনি কেবল গান গাওয়া নয়, গান রচনা করতেও পারেন।

একটা চিত্রকল্প: এখানে একটা চিত্রকল্প আঁকা আবশ্যক।  রেললাইনের ধারে এক কিশোর চেয়ে দেখছে গাড়ি আসে-গাড়ি যায়। জগত বুঝি আসা যাওয়ার খেলা। কোথা থেকে আসে তবে যাত্রী, কোথা যায় চলে। বাড়ির সামনে রেলপথ। পথের ধারে বসে কিশোর রশিদ উদ্দিনের মনে হয়তো অবচেতনেই এক নতুন ভাবজগত উঁকি দিয়েছিলো। যেনো তিনি শান্তি পেতেন না মনে। ছুটে যেতেন পার্শ্ববর্তি রাজুর বাজার, পুকুরিয়া কিংবা দিগজান অথবা বাংলা গ্রামে। কেননা পুকুরিয়ার টুকন মিশ্রী ও সিংহের বাংলার দীনু মাঝি দরিদ্র হলেও চমৎকার বাউল গান করেন। তাদের একতারার টংকার যেনো রশিদ উদ্দিনের হৃদয়ে লাগে, যেনো বেজে ওঠে সুরের ঝংকার। শুনে শুনে তিনিও গান করেন মনে মনে, কখনো বা সুর করে গানের তানে, তাল, লয়ে।  মাঝে মাঝে চলে যান ৫ মাইল দূর বেতাটি গ্রামে। সেখানে কবিয়াল কালিধর কবিগান করেন তাঁর নিজ বাড়িতেই। আবুল সরকারসহ কত মানুষই আসে কবি গান শেখার জন্য। রশিদ উদ্দিন দেখেন দুই কবির লড়াই। গান দিয়ে প্রশ্নবাণে কীভাবে যে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত লড়াই করা যায়, এটি তিনি কবিগান থেকেই শিখেছিলেন। হয়তো তিনি মনে মনে ভাবতেন, এই কবির লড়াই কী বাউল গানেও সম্ভব? হ্যাঁ, একদিন পরিণত বয়সে আমরা দেখবো যে বাউল রশিদ উদ্দিন নেত্রকোণা পৌরশহরের গরুহাট্টায় প্রথম বারের মতো মালজোড়া বাউল গান গাইছেন। ঠিক যেনো সেই কবিগানের মতো গানে গানে প্রশ্নবাণে, সেয়ানে সেয়ানে বাউলের লড়াই!

এবং ঢপ যাত্রার কথা। তৎকালীন সময়ে ঢপ যাত্রা বা কৃষ্ণলীলা, যাত্রাগান বা ঝুমুর যাত্রা, গাজীর গীত, রামমঙ্গল, মনসার ভাসান-এসবের খুব প্রচলন ও কদর ছিলো। রশিদ উদ্দিন তাঁর ১৭ বছর বয়সে একরকম চ্যালেঞ্জ করে কৃষ্ণলীলায় অভিনয় করে সকলকে মাতিয়ে দিয়েছিলেন। টুকন মিস্ত্রী ও দীনু মাঝির কাছে তাঁর হাতেখড়ি এবং তারাই রশিদ উদ্দিনের ওস্তাদ। যেনো তিন পাগলের হলো মেলা। চললো গানের খেলা। একসময়ে দেখবো যে সেই রশিদ উদ্দিন দীক্ষা নেন বাবা ল্যাংটা শাহ-এর কাছে।

দীক্ষাগুরু ল্যাংটা শাহ্ ও রশিদ উদ্দিন: বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের জীবনে ল্যাংটা শাহের আগমন আকস্মিক হলেও এর প্রভাব ছিলো সুদূরপ্রসারি। ঘটনাটা যেনো ছিলো পুরোপুরি নাটকীয়। একদিন বাংলা রেলস্টেশনের কাছে এক বাড়িতে সারারাত ধরে বাউল গান হচ্ছিলো। রশিদ উদ্দিন কী জানতেন যে, কিছুটা দূর থেকে তার গান শুনছেন এক সংসার বিবাগী পাগল? ঘটে, জীবনে হঠাৎ এমন কিছু আদি দৈবিক ঘটনা ঘটে-যার কোনো সহজ ব্যাখ্যা নেই। গান শেষে রশিদ উদ্দিন তাঁর শিষ্যদের নিয়ে ফেরার পথে স্টেশনে সেই ল্যাংটা বাবার সাথে সাক্ষাত হয়ে যায়। ল্যাংটা বাবা বললেন–ভালো কন্ঠ, সুর, ভালো গায়কীও। কথাটা শোনে রশিদ উদ্দিনের মনে কেমন যেনো দাগ কেটে যায়। তাঁর মনে এক নতুন ভাবের উদয় হয়। তিনি বলেন ল্যাংটা বাবাকে-যোহরের আযানের পর আপনার সাথে দেখা করবো। এই বলে নিজ বাড়ি এসে স্ত্রীকে বললেন-ভালো করে মাছ, মুরগী ও ডিম রান্না করতে। বলে তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। যোহরের আযানের আগে ঘুম থেকে জেগে তিনি একটি পাত্রে ভাত তরকারী নিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে আবার বাংলা স্টেশনে এলেন। ঠিক সেখানেই আছেন ল্যাংটা শাহ্। 

রশিদ উদ্দিন খেতে দিলেন তাঁকে। ল্যাংটা বাবা বললেন, তুইও তো খাসনি, আয় একসাথে খাই। রশিদ উদ্দিন অবাক হলেন। সত্যিই তো তিনি খেয়ে আসেননি। এ কথা এই পাগল ব্যাটা জানলেন কেমন করে? একটা ঘোরলাগে। রশিদ উদ্দিন মন্ত্রমুগ্ধের মতো দু’জনে একসাথে খেলেন। তারপর থেকে রশিদ উদ্দিনের নিজ বাড়িতে ল্যাংটা শাহ্ নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।

বাড়িতে বাউল গানের আখড়া বসে গেলো। কিন্তু হঠাৎ একদিন রশিদ উদ্দিন ঐ ল্যাংটা বাবার সাথে হাওয়া হয়ে গেলেন। আর কোনো খোঁজ নেই। এমনি করে ছয়মাস কেটে গেলো। জালাল খাঁ খুঁজে পেলেন তাঁর ওস্তাদ রশিদ উদ্দিনকে: রশিদ উদ্দিনের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে জালাল খাঁ বাহিরচাপড়া তার বাড়িতে এসে সব শোনে ওস্তাদের খোঁজে বের হয়ে পড়লেন। প্রথমে গেলেন কিশোরগঞ্জ। তারপর সিলেট শাহজালালের সাহেবের মাজারে। সেখান থেকে এলেন শাহ পরাণ সাহেবের মাজারে। ল্যাংটা বাবা বললেন রশিদ উদ্দিনকে-তোর বাড়ি থেকে লোক আসতেছে। তুই বাড়ি যা। জালাল খাঁ ততোক্ষণে এসে ওস্তাদকে পেয়ে গেলেন। দীক্ষাগুরুর কথা মানতে হয়।

অগত্যা রশিদ উদ্দিন এলেন আবারো নিজ বাড়িতে। কিন্তু এ যেনো অন্য এক রশিদ উদ্দিন।  একদম চুপ হয়ে গেলেন যেনো। কম কথা বলেন। সারাক্ষণ এক ভাবের ঘরে তন্ময় হয়ে থাকেন। ল্যাংটা বাবা কী শিক্ষা দিয়েছিলেন আমরা জানি না কিন্তু রশিদ উদ্দিন যে সংসারকে অসাড় ভেবে স্রষ্টা প্রেমে মগ্ন হয়েছিলেন-তা বেশ বোঝা যায়। লিখে চললেন অসংখ্য গান। কেউ কেউ বলেন রশিদ উদ্দিন প্রায় চার হাজার গান লিখেছিলেন। কিন্তু সব গান উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রশিদ উদ্দিন তাঁর গানের জন্য মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছেন। 

রশিদ উদ্দিনের গান: সৃষ্টিতত্ত¡, দেহতত্ব, প্রেমতত্ত¡, কামতত্ত¡, আত্মতত্ত¡, সাধনতত্ত¡, পারঘাটা তত্ত¡, নিগূঢ়তত্ত¡, পরমতত্ত¡, বিচ্ছেদ,

মরণসংগীত এবং বিবিধ পর্যায়ে অসংখ্য গান লিখে গেছেন। সঠিক সংরক্ষণ ও সংগ্রহের অভাবে তাঁর অনেক গান হারিয়ে

গেছে। আবার কেউ কেউ রশিদ উদ্দিনের গান নকল করেছে বা নিজ নামে চালিয়ে দিয়েছে!

১। মানুষ ধর মানুষ ভজ শোন বলিরে পাগল মন, মানুষের ভিতরে মানুষ করিতাছে বিচরণ।

২। আমার শোয়াচান পাখি, আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি।

৩। প্রেমে অঙ্গ জড় জড়, কাঁপে অঙ্গ থরথর, সখি তোরা ধর ধর, প্রাণটি গেল দেহ ছেড়ে।

৪। মানুষ বানাইয়া খেলছ তারে লইয়া, সেই মানুষ কেমনে গোনাগার রে।

৫। আপন ঘরের খবর জানতে ও মন তাড়াতাড়ি আয়।

৬। আমার মন পরাণের নাও, শূন্যভরে উড়াল দিয়া যাও।

৭। ঐ দেখো বাতির মেন্টেলে তেল ঝরে।

৮। এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া, এত যতেœ গড়াইয়েছেন সাঁই।

৯। উগার তলের কুনি ব্যাংগি, সর্প ধইরা আহার করে।

১০। কাম পাহাড়ে ধাক্কা লেগে মনিলাল পাথর চুয়ায়।

১১। জান্নাতেরই সেরা ফল এলো নেমে দুনিয়ায়।

১২। হিরামন মানিক্যির দেশে আসার মুর্শিদ আছে, ইত্যাদি।

অবশেষে হোমিও ডাক্তার বীরুবাবুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পেটের টিউমারজনিত কারণে ১৯৬৪ সালে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন বাউল সাধক, বাউলদের বাউল, ওস্তাদ রশিদ উদ্দিন। নিজ বাড়ির পুকুরপাড়ে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।

লেখক: 

১. কবি ও লেখক।

২. সাবেক বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, নেত্রকোণা সরকারি কলেজ।

অধ্যাপক ননী গোপাল সরকারের প্রবন্ধসমূহ:

বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকদাদ চৌধুরী

বাউল কবি রশিদ উদ্দিন: বাউলদের বাউল

নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস

মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর

লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতি  লোককবি নগেন সরকার 

একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক ভাষা সৈনিক  সানাউল্লাহ নূরী

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনা

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম খান (এন আই খান)

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মো. ফজলুর রহমান খান

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম ফজলুল কাদের

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাছ আলী খান

অগ্নিযুগের সূর্য সৈনিকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী

স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী 

তথ্যসূত্রঃ
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস”
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” ভাষা সৈনিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৯
আহমদ, ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দীন (২০২২)। অসমাপ্ত গল্প। ঢাকা: অনির্বান পাবলিকেসন্স। পৃ. ২, ১২।
Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব-২”
আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব-২”
চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর পৃষ্ঠা 129-132
মোতালিব ,ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২৬-২৯
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
আচার্য, সাংবাদিক জয়ন্ত,( ১৪ ডিসেম্বর ২০২১),মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধীজীবিবৃন্দ” সাপ্তাহিক-২০০০ পৃষ্ঠা ২০-২৪
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
বিশ্বাস ,সাংবাদিক কুন্তল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২০-২২
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
চৌধুরী, হায়দার জাহান(মে ২০২৩). “নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা”, বিজয় একাত্তর সপ্তম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৮১

 

 

Scroll to Top