মহান মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা সদর থানা 

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী

অধিকার আদায়ে বীরদর্পে গর্জে ওঠা আর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া বাঙ্গালি জাতির পুরানো ইতিহাস। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও যুদ্ধে মেতে উঠেছিলেন বাঙালিরা। ভাষা আন্দোলনের মত নেত্রকোণার স্বাধীনচেতা জনগোষ্ঠী ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের সারাংশ শুনেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন তাদের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে যেতে হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের জন্য নেত্রকোণাবাসীর প্রস্তুতি গ্রহণে বেশি সময় ব্যয় হয়নি। ৭ মার্চ এর পর থেকেই নেত্রকোণার প্রত্যেক থানা শহরগুলোতে যুদ্ধে যাবার জন্য যুব সমাজ উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। প্রতিদিন থানা পর্যায়ে গ্রামগুলো থেকে বহু মানুষ সশস্ত্র মিছিল করে আসতে থাকেন। নেত্রকোণা শহরসহ থানা শহরগুলোর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান মানুষগুলোও নীতি নির্ধারণের কাজ শুরু করে দেন।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন: ৩ মার্চ নেত্রকোণা মহুকুমা ছাত্রলীগের উদ্যোগে মিছিল হয়। এর পর থেকেই প্রতিদিন নেত্রকোণা শহরে মিছিল আর মিছিল হতে থাকে। ২৩ মার্চ নেত্রকোণা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে ভষ্ম করা হয় এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এন আই খান।

নেত্রকোণা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠণ: ২৭ মার্চ নেত্রকোণা আওয়ামী লীগ অফিসে নেত্রকোণার তৎকালীন মহকুমা আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। নেত্রকোণা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আটপাড়া মদন খালিয়াজুরী এলাকার মিয়া, আব্বাছ আলী খান, খালেকদাদ চৌধুরী,এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের,এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবকে আহবায়ক করে নেত্রকোণা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সকল নির্বাচিত এম.এন.এ ও এম.পিগণ সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হন। তাছাড়া নেত্রকোণা পৌর চেয়ারম্যান এন আই খান,এডভোকেট ফজলুর রহমান খান,আব্দুল মজিদ তারা মোঃ মেহের আলী,মৌলানা ফজলুর রহমান খান, নুরু মিয়া,জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাফায়েত আহম্মদ খান,মোঃ শামছুজ্জোহা, গোলজার হোসেন,গোলাম এরশাদুর রহমান, হায়দার জাহান চৌধুরী( লেখক) সমন্বয়ে গঠিত হয় মহকুমা সংগ্রাম পরিষদ । অনুরূপভাবে সকল থানা সদরে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ ও কৃষকলীগের সমন্বয়ে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠে। এই সংগ্রাম কমিটির মাধ্যমে নেত্রকোণা মহকুমা শহরসহ ১০টি থানা সদর ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা আন্দোলনকে গতিশীল করা,আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা,হাট বাজার ও দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব পালনসহ প্রশাসনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার সকল দায়িত্বই সংগ্রাম কমিটিকে পালন করতে হচ্ছে। ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না থাকায় চলমান আন্দোলনে অংশ নিতে পারছে না। ২রা মার্চের পরে অবশ্যই তারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। অপরদিকে ভাসানীর অনুসারীরা সংগ্রাম পরিষদ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে  পড়ে। ফলে নেত্রকোণা সর্বত্রই সংগ্রাম পরিষদ ছিলো আওয়ামীলীগের একক নেতৃত্বে। তবে অসংখ্য নিরপেক্ষ সামাজিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনের পক্ষে কাজ করেছেন। ২রা মার্চ কালো রাতের পর অনেক অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ,ই.পি.আর, আনসারসহ ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিবর্গ সংগ্রাম পরিষেদে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করেছেন।

নেত্রকোণা কলেজের রবার্টস স্কাউটের ড্যামি রাইফেল নিয়ে মোক্তারপাড়ার মাঠে ছাত্রযুবকদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান: নেত্রকোণা কলেজের রবার্টস স্কাউটের ড্যামি রাইফেল নিয়ে মোক্তারপাড়ার মাঠে ছাত্রযুবকদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় আনসার কমান্ডারগণ ও আনসার কমান্ডার আলী ওসমান তালুকদারের নেতৃত্বে ছাত্র-যুবকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। কিন্তু ড্যামি রাইফেল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতাকে যারা জয়বাংলা বাহিনীর সদস্য তারা পর্যায়ক্রমে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেন। ফলে জয়বাংলা বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্রের তাগিদ অনুভব করতে শুরু করেন। ইতিমধ্যে আমি (লেখক) আমার পিতা জেলার আওয়ামীলীগ নেতা ও কথা সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরীর দু-নালা বন্দুক, ছাত্রলীগ নেতা খন্দকার আনিছুর রহমানের পিতার রিভালভার সংগ্রহ করে এই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই জয়বাংলা বাহিনীর কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান সামরিক আইন প্রশাসকের নির্দেশ মোতাবেক যারা স্থানীয় থানায় আগ্নেয়াস্ত্র (বন্দুক)  জমা দিতে যায় তখন তারা যাতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে না পারেন সেইজন্য জয়বাংলা বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। ইতিমধ্যেই জয়বাংলা বাহিনী কৃষি ফার্মের ম্যানেজারের একটি বন্দুক এবং জেলা পশু ডাক্তারের টুটুভোর রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এর একদিন পরে স্থানীয় মুসলিমলীগ নেতা খোরশেদ চৌধুরীর একটি দু-নালা বন্দুক, একটি রাইফেল ও একটি রিভলভারসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র জয়বাংল্ াবাহিনী লাভ করে অস্ত্রের রোমাঞ্চ। জয়বাংলা বাহিনীর নেতৃত্বে চলমান নিরস্ত্র গণআন্দোলনকে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপায়িত করলো। পরিশেষে ১২ এপ্রিল জয়বাংলা বাহিনী সর্বজনাব শামছুজ্জোহা, হায়দার জাহান চৌধুরী( লেখক), আশরাফ আলী খান খসরু, খন্দকার আনিছুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, বুলবুল ও অলী ওসমান তালুকদার এর নেতৃত্বে সশস্ত্র জয়বাংলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নেত্রকোণা পুলিশ কর্মকর্তা ভবনে হামলা চালিয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মো: ইছসাককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পুলিশ অস্ত্রাগার খুলে দিতে বলা হয়। জনাব আব্দুল হামিদ চৌধুরী ছিলেন নেত্রকোণা মহকুমা প্রশাসক। তার মধ্যস্থতায় জয়বাংলা বাহিনী বিনা যুদ্ধে পুলিশ  থেকে তিনশত ত্রি-নট-ত্রি রাইফেল ও দশ হাজার রাউন্ড গুলি নেওয়া হয়। এর ফলে জয়বাংলা বাহিনী হলো সশস্ত্র বাহিনী।

নেত্রকোণা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে অস্থায়ী যুদ্ধশিবির স্থাপন: সেদিন থেকে শহরের অবস্থা আরো ভয় ও শঙ্কায় নিমজ্জিত হতে থাকে। রাজনৈতিক অঙ্গন হয়ে ওঠে চঞ্চল। নেত্রকোণা শহরের বর্তমান জনতা হোটেল, সমতা বেকারী, আওয়ামীলীগ অফিসের পাশে তৎকালীন চৌধুরীর স্টল, স্টেশন রোডে নদীর উপর তৎকালীন জলযোগ রেঁস্তোরা ও কলেজ ক্যান্টিনের রাজনৈতিক মহুকুমা পুলিশ প্রশাসনকে স্থানীয় যুবকরা আটক করে ফেলে। সে দিনই পুলিশ প্রশাসনের অস্ত্রাগার থেকে ৩’শ রাইফেল সংগ্রহ করা হয় নেত্রকোণা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়টি অস্থায়ী যুদ্ধশিবির হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানেই শুরু হয় অস্থায়ীভাবে মুক্তিযোদ্ধদের প্রশিক্ষণ।

পাকিস্তানী যুদ্ধবিমানের নেত্রকোণা শহরে আক্রমণ: ২৩ এপ্রিল সকাল ৯ টায় নেত্রকোণা শহরের উপর পাকিস্তানীদের দু’টি সুরমা রং এর যুদ্ধবিমান গুলি বর্ষণ করে চলে যায়। এতে নেত্রকোণার সাধারণ মানুষ সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে। প্রশিক্ষণ শিবিবের ইপিআর সদস্যরা বিষয়টি অনুধাবন করে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র ছাড়াই রাইফেল দিয়ে বিমানের দিকে গুলি ছুড়ে সাধারণ মানুষদের ভীতিহ্রাস করার চেষ্টা করেন। এতে তেমন কোনো ফল আসেনি। দুপুর নাগাদ নেত্রকোণা শহর জনমানব শূন্য হয়ে যায়। নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাও নেত্রকোণা শহরকে নিরাপদ মনে করেননি। এই দিনই তারা নেত্রকোণা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিবির পূর্বধলায় স্থানান্তর করেন। পূর্বধলাকে তারা নেত্রকোণা শহর থেকে অনেক নিরাপদ মনে করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে ন্যাশনাল ব্যাংকে আক্রমণ: মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে জাতীয় প্রয়োজনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহার নেতৃত্বে বীরমুক্তিযোদ্ধা বুলবুল ইপিআর সদস্যসহ অন্যান্যদরকে নিয়ে পুলিশের অস্ত্রাগার ও নেত্রকোণার ন্যাশনাল ব্যাংকের Volt ভেঙ্গে টাকা পয়সা ও সোনা সংগ্রহ করেন ।

খাদ্য গুদাম আক্রমণ: খাদ্য সংগ্রহ করতে জারিয়া সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল, চিনিসহ প্রচুর খাদ্য সামগ্রী সীমান্তেও ওপারে বাঘমারায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। নেত্রকোণা অস্ত্রাগার থেকে সংগৃহিত অস্ত্রসহ বেশ কিছু ব্যক্তি মালিকাধীন অস্ত্র নিয়ে ভারতের বাঘমারা, মহাদেও, রংরা ও মহেষখলার গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প।

মুক্তিযুদ্ধের জন্যে মানুষকে সংগঠিত করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন: সীমান্তের ওপারে যাবার পূর্বেই শ্যামগঞ্জ, চল্লিশা, পূর্বধলা, রামপুর, কেন্দুয়া প্রভৃতি স্থানে স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগ কর্মীরা পাক সেনাদের গতিরোধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। স্থানীয় মানুষদের সংগঠিত করে নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব আব্দুল খালেক , এডভোকেট ফজলুর রহমান খান, আব্দুল মজিদ তারা মিয়া, আববাস আলী খান, খালেকদাদ চৌধুরী , এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের, মৌলানা ফজলুর রহমান খান, এন আই খান, নুরু মিয়া, পূর্বধলার নজমূল হুদা, সাদির উদ্দিন আহম্মেদ, কাজী ফজলুর রহমান, ইউনুছ আলী মন্ডল, জারিয়ার মনির উদ্দিন সরকার, আমানত খাঁ, মারফত খাঁ, সৈয়দ নূর উদ্দিন, মোহনগঞ্জের ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ, কলমাকান্দার আব্দুল জববার আনসারী, ডাঃ মোসলেম উদ্দিন, দূর্গাপুরের রফিক উদ্দিন ফরাজী, জালাল উদ্দিন তালুকদার, বারহাট্টার নূরুল হোসেন খন্দকার, খালিয়াজুরীর সিদ্দিকুর রহমান, কেন্দুয়ার হাদিস উদ্দিন চৌধুরী, এম. জুবেদ আলী, আটপাড়ার সেকান্দর নূরী, মদনের খন্দকার কবির উদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম ভূঞা, ডাঃ রইছ উদ্দিন, ছাবেদ আলী প্রমুখ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা। এ সময় ন্যাপ নেতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব আজিজুল ইসলাম খান, ওয়াজেদ আলী, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সুকুমার ভাওয়াল, মৃনাল কান্তি বিশ্বাস, আবদুল মোত্তালিব মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের জন্য সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছিল। ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন মানুষকে  মুক্তিযুদ্ধের জন্যে সংগঠিত করতে। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব মোঃ মেহের আলী , শামছুজ্জোহা, আশরাফ উদ্দিন খান,  গোলাম এরশাদুর রহমান, সাফায়াৎ আহমেদ খান, বাদল মজুমদার, আবু সিদ্দিক আহমেদ, হায়দার জাহান চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা, , গুলজার আহমেদ, আনিসুর রহমান, আবু আক্কাছ আহমেদ, মোহনগঞ্জের হীরা, পূর্বধলার আব্দুল কুদ্দুছ তাং, আবুল হাসিম, মাহফুজুল হক, মাফিজ উদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, আব্দুল আউয়াল আকন্দ, এখলাছ উদ্দিন, আব্দুল হেলিম, নাজিম উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ ছাত্র ও যুবকরা মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য রাতদিন শ্রম দিয়েছিলেন।

নেত্রকোণা শহরে পাকহানাদার বাহিনীর প্রবেশ: ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত নেত্রকোণা ছিল পাকহানাদার মুক্ত। পরিবেশ ছিল থমথমে প্রতিটি মানুষ ছিল শঙ্কিত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সড়পপথে ২৯শে এপ্রিল সকালে নেত্রকোণা সদরে অনুপ্রবেশ করে। শহরে প্রবেশ করেই তারা মহুকুমা প্রশাসকের অফিসে যায়। পরে স্থানীয় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে তাদের প্রধান ক্যাম্প স্থাপন করে। আখড়ার মোড়ের অবস্থিত সাহা স্টুডিওকেও তাদের একটি ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করে। স্থানীয় সার্কিট হাউজটি ব্যবহৃত হতো পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা বাংলো হিসেবে। এ বাংলোর কয়েকটি কক্ষ থেকে সামরিক সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ঠাকুরাকোণা বাজারে পাকবাহিনী একটি অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল। নেত্রকোণা সদরে পাকিস্তানিরা প্রবেশের কয়েক দিনর মধ্যে তারা শ্যামগঞ-মোহনগঞ্জ রেলপথের চল্লিশা রেলসেতু, ঠাকুরাকোণা রেলসেতুসহ মধ্যবর্তী প্রত্যেক সেতুতে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য রাজাকারদের দিয়ে ক্যাম্প বসায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণা সদরে জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামী’র বেশ তৎপরতা ছিল। জামায়াত ও নেজামে ইসলামীরর সঙ্গে মুসলিম লীগ-এর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নেত্রকোণা সদর থেকে প্রাদেমিক পরিষদে জামায়াতে ইসলামীর ফজলুল করিম খান এবং জাাতীয় পরিষদে নেজামে ইসলামীর মাওলানা মঞ্জুরুল হক প্রার্থী ছিল। নেত্রকোণায় শান্তি কমিটির সভাপতি ছিল মুসলিম লীগ নেতা একে ফজলুল হক। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিল ডা. আব্দুর রাজ্জাক, আবদুল হেকিম তালুকদার (মওলা মিয়া), খোরশেদ উদ্দিন চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, আমীর আলী খান পাঠান (এ আর খান পাঠান), মৌলবী আবদুল খালেক, অছিম উদ্দিন আহমেদ, প্রিন্সিপাল তসদ্দক আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল জলিল, এডভোকেট জলিল আজাদ, এডভোকেট এটিএম আজিজ, এডভোকেট আবদুল আজিজ তালুকদার, আবদুল আজিজ খান, রফিক উদ্দিন, মুজিবুর রহমান (শিক্ষক), ডা. আজাদ, আবুল উদ্দিন মোক্তার, নাবালক মিয়া, অধ্যাপক এম ইউসুফ প্রমুখ। নেত্রকোণা সদরে পাকিস্তান সেনাবাহিনরি অধিনায়ক ছিল প্রথমে ক্যাপ্টেন জাহিদী। দুমাসেরর মধ্যে মেজর বাবরকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। আগস্ট মাসের শেষদিকে মেজর বাবরের পরিবর্তে কর্নেল রাজ্জাক মির্জা যোগ দেয়। নেত্রকোণায় আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিল ওবায়দুল হক তাহের, হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জু, এজহারুল হক, দুলাল মিয়া, হুমায়ুন, জাহাঙ্গীর, নান্নু মিয়া, আব্দুর রশিদ প্রমুখ। রাজার বাহিনীর কমান্ডার চাঁন মিয়া। রাজার বাহিনীর অন্য সদস্যদের মধ্যে সোনা মিয়া, কালু মিয়া, ভোলা মিয়া, মাজু মিয়া, বিল্লাল হোসেন, শহীদুল্লাহ, জহুর উদ্দীন, আনেয়ার হোসেন মিস্টার প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। নেত্রকোণা শহর ও এর পাশর্^বর্তী এলাকার মানুষজনের ওপর এরা নানাভাবে নির্যাতন চালায়।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নেত্রকোণা সদর থানায় হত্যাযজ্ঞ: ২৯ শে এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নেত্রকোণায় অনুপ্রবেশ করেই জজকোর্টের সামনের রাস্তা থেকে ডা. মিহির সেন, সিদ্ধার্থ সেন, শংকর সেন ও করুণা দে-কে ধরে নিয়ে যায়। বিকেলে নেত্রকোণা-পূর্বধলঅ সীমান্তবর্তী ত্রিমোহনী ব্রিজের ওপর দাঁড় করিয়ে তাঁদের গুলি করে। গুলিতে ঘটনাস্থলে ডা. মিহির সেন, সিদ্ধার্থ সেন ও করুণা দে নিহত হন। শংকর সেনের শরীরে ৫টি বুলেট বিদ্ধ হলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে তিনি মারা যান। একই দিন দালালদের সহায়তায় নেত্রকোণা শহর থেকে অনেককে ধরে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা ত্রিমোহনী ব্রিজে লাইন করে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এখানে নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন-সুরেন্দ্র চন্দ্র সাহা, সতীশ চন্দ্র সরকার, দূর্গানাথ চক্রবর্তী, ব্রজেন্দ্র চন্দ্র সরকার, মতিলাল সাহা, পীযুষ কান্তি সাহা, দীপক কুমার পাল, সন্তোষ চন্দ্র পাল, দিলীপ কুমার পাল, রমেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, অজিত কুমার সাহা, সতীশ চন্দ্র সাহা, স্বদেশ দত্ত, যোগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, বিনন্দ্র চন্দ্র দে, মণীন্দ্র চন্দ্র সাহা, বিনয় ভ‚ষণ সরকার ও দীনেশ চন্দ্র সরকার। গুলিতে প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার নামে একজন আহত হন। এ ব্রিজে পরে কামিনী চক্রবর্তী ও অনিল পন্ডিতকেও হত্যা করা হয়। ৬ই আগস্ট রাতে পাকবাহিনী উকিল অখিল সেন ও হেম সেনকে নেত্রকোণা মোক্তারপাড়া ব্রিজে গুলি করে হত্যা করে। রাজাকাররা অভয় দিয়ে তাদের নেত্রকোণা শহরে এনছিল। ১৩ই নভেম্বর আলবদরের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী বিরামপুর বাজার থেকে আবদুল মালেক শান্ত, আবু সিদ্দিক ও ইসমাইল হোসেনকে ধরে এনে মোক্তারপাড়া ব্রিজে হত্যা করে। পাকবাহিনী ও রাজাকাররা নেত্রকোণা সদর উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি লুটপাট ও নির্যাতন চালায়। বিশেষ করে শহরের বড় বাজার, অজহররোড, উকিলপাড়া এবং আমতলা, সিংেহের বাংলা, নূরপুর প্রভ‚তি গ্রামে ব্যাপক লুটপাট করে। জুন মাসে কালিয়ারা গাবরাগাতীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিকের বাড়িসহ ৪২ টি বাড়িতে হানাদাররা অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় কয়েক দিন পর রাজাকার সিদ্দিক মুন্সির সহায়তায় ঠাকুরাকোনার বিপ্লবী সুধীর মজুমদারের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। নেত্রকোণা শহরের ডাকবাংলো, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিট্উিট, বড় বাজারের সর্বমোহন বণিকের দোতলা বাসা ও সাহা স্টুড়্রি ছিল পাকসেনাদের নির্যাতনকেন্দ্র ও বন্দিশিবির। সর্বমোহন বণিকের বাসার দ্বিতীয় তলায় নির্যাতনকেন্দ্র ছিল। সাহা স্টুডিওতে নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো। নেত্রকোণা সদরের উল্লেখযোগ্য বধ্যভ‚মিগুলো হলো- সদর থানার পাশর্^বর্তী মগড়া নদীতীর বধ্যভ‚মি, বধ্যভ‚মি, জাহানারা বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত মগড়া নদীর পাড় বধ্যভূমি ও ত্রিমোহনী বধ্যভূমি।

নেত্রকোণার সদর থানার বাঁশাটি গ্রামে আক্রমণ: ৭ জুলাই, সকাল আনুমানিক ১০টা। নেত্রকোণার সদর থানার বাঁশাটি গ্রাম। গোয়েন্দা সূত্রের খবরের প্রেক্ষিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থান নেয়। ওপার থেকে নৌকাযোগে পাকহানাদাররা তাদের সহযোগীদের নিয়ে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আক্রমণ। অস্ত্রের অব্যর্থ গুলিতে পাকহানাদারদের নৌকাটি ঝাঝরা হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। শত্রুপক্ষের বেশ ক’জন পাকহানাদার নিহত হয়। বাকীরা সাঁতরিয়ে ওপারে ওঠে দৌড়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করছিল। মুক্তিযোদ্ধারা এদের পিছু ধাওয়া করে ৭(সাত) জনকে ধরে ফেলে এ ৭ জনের মধ্যে পাক হানাদারদের সহযোগী বাঙালি ছিল ক’জন। এদের মধ্যে তৎকালীন নেত্রকোণা সদর থানার দারোগা আব্দুর রশিদ, আনসার এ্যাডজোটেন্ট লাল মিয়া ও আব্দুল মালেক অন্যতম। এ সাত জনকেই মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের তুরা ক্যাম্পে ক্যাপ্টন চৌহানের কাছে বন্দি অবস্থায় পাঠিয়ে দিয়েছিল।এ সংবাদে নেত্রকোণা থেকে পাকহানাদারদের একটি দল দুপুর দু’টার দিকে বড়ওয়ারী ফেরীঘাটে হাজির হয়। ৩টার সময় এরা নদী পাড়ি দিয়ে এ পাড়ে ওঠে। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গুলির স্বল্পতা ছিল। সে কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিকের পরামর্শে সকল মুক্তিযোদ্ধারা আত্মরক্ষামূলক আক্রমণের কৌশল অবলম্বন করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপেক্ষাকৃত কমগুলি বর্ষণে শুধু সময় ক্ষেপণ করে চলে। পাকহানাদাররা বেলা ৩টা থেকে ১ ঘন্টায় মাত্র ১ মাইল এগোতে পেরেছিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় পাকহানাদাররা ভয়ে পিছনে সরে সন্ধ্যার পূর্বেই নেত্রকোণায় ফিরে আসে।

নেত্রকোণার ঠাকুরাকোণা ব্রীজ ধ্বংস: নেত্রকোণায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আবু সিদ্দিক বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ভারতের তুরা ক্যাম্পের প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে প্লাটুন কমান্ডার এবং পরে কোম্পানী কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। নেত্রকোণা, দূর্গাপুর, কলমাকান্দা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধে অপর এক কোম্পানী কমান্ডার মো. শামসুজ্জোহা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে নেত্রকোণা মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়। তিনি মহকুমা ছাত্রলীগের  প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ( শহীদ মেহের আলী- জোহা কমিটি) ও সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মেঘালয়ের বাঘমারা ইয়ুথ ক্যাম্পে যোগ দেন। এরপর তুরা ক্যাম্পে এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ১৩২ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানী কমান্ডার নিযুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন। এটি জোহা কোম্পানী নামে পরিচিত ছিল। ৭ই জুলাই নেত্রকোণার কংস নদীর তীরে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। কংস নদীর যুদ্ধ-এ হানাদাররা পরাজিত ও বিপর্যস্ত হয়। এ-যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন আবু সিদ্দিক আহমেদ। মুক্তিযোদ্ধারা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নেত্রকোনার সঙ্গে বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জের পাকিস্তানি হানাদারদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্দান্ত অনুযায়ী আবু সিদ্দিক আহমেদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ১৩ই জুলাই ঠাকুরাকোণা রেলব্রিজ ধ্বংস করে। হাবিব, আবু আক্কাছ, আবু খাঁ-সহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মধ্যরাতে ডিনামাইটের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এ রেলব্রিজটি ধ্বংক করেন। এ অপারেশন সফল হওয়ায় নেত্রকোণার সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদারদের বারহ্ট্টাা ও মোহনগঞ্জের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নেত্রকোণার ঠাকুরাকোণায় মুক্তিযোদ্ধাদের  আক্রমণ: ২ নভেম্বর নেত্রকোণার ঠাকুরাকোণায় মুক্তিযোদ্ধাদের হঠাৎ আক্রমণে পাকবাহিনীর একটি রসদবাহী নৌকা আটকা পড়ে। সে নৌকায় পাকবাহিনীর ৭শ মন চাল মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়েছিল। সে মাসের প্রথম সপ্তাহেই পূর্বধলায় কুমারখালী ব্রিজে পাকসেনাদের উত্যক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল এবং ব্রিজের পাশের বাড়ির দু’জন পাকসেনাদের তোষামোদকারীকে হত্যা করে পুকুর পাড়ে ফেলে যায়। এরা ছিল সহোদর।

নেত্রকোণা শহরে আক্রমণের পরিকল্পনা: ৮ ডিসেম্বর একে একে নেত্রকোণার প্রত্যেক থানাই মুক্ত হয়ে পড়ে। পাকবাহিনীরা অনেক থানা থেকে সরে এসে নেত্রকোণা শহরে আশ্রয় নেয়। নেত্রকোণাকে মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা মরিয়া হয়ে ওঠেন। ৮ ডিসেম্বর মিত্র বাহিনী ক্যাপ্টেন চৌহানের পরামর্শে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমদের নেতৃত্বে নেত্রকোণা শহর আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দু’ভাবে বিভক্ত হয়েছিলেন। শহরের উত্তর দিক থেকে মিত্রবাহিনী আক্রমণ চালাবে। এতে পাকবাহিনী শহর থেকে দক্ষিণ দিক দিয়ে বেরিয়া ময়মনসিংহের রাস্তা ধরবে। সে সময় দক্ষিণ দিকে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর উপর আক্রমণ করবে। দক্ষিণ দিকে অবস্থানরত শ’তিনেক মুক্তিযোদ্ধা ওঁৎপেতে রয়েছে রাত থেকেই নেত্রকোণার কৃষি ফার্মে। রাত গড়িয়ে প্রায় ভোর, উত্তর দিকের আক্রমণের অপেক্ষায় দক্ষিণের মুক্তিযোদ্ধারা। এক পর্যায়ে আক্রমণ হলো পাক আর্মি পালানোর চেষ্টায় শহরের দক্ষিণ দিকে সরে এলো। শুরু হলো যুদ্ধ। বলতে গেলে সম্মুখ যুদ্ধ। সে যুদ্ধ হলো ৫/৬ ঘন্টা। মুক্তিযোদ্ধারা সে সময় প্রবলভাবে উত্তেজিত হয়ে যুদ্ধ করে চলেছেন। প্রবল উত্তেজনায় মুক্তিযোদ্ধারা অনেক সময় যুদ্ধের কৌশল ভেঙ্গে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। অনেকে শত্রু নিধনে দৌড়ে এগোতে থাকেন। এ অবস্থায় সে যুদ্ধে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু খাঁ, আব্দুস সাত্তার ও আব্দুর রশিদ। আহত হয়েছিলেন নেতৃত্বদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমেদ। আরো বেশি লোকক্ষয়ের আশঙ্কায় মুক্তিযোদ্ধারা পিছু সরলে পাকবাহিনীরা ময়মনসিংহের রাস্তা ধরে পালিয়ে যায়।

নেত্রকোণা মুক্ত দিবস:  ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোণা মুক্ত হয় ।৯ ডিসেম্বর বেলা ১১ টায় গৌরীপুর থেকে ট্রেনযোগে পূর্বধলা সদরে প্রবেশের চেষ্টা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে ট্রেনটি পূর্বধলা বাজার সংলগ্ন রেলব্রিজ অতিক্রম করতে পারেনি। ক্রমে ট্রেনটি পেছনে ফিরে যায়। যাবার পথে পাকবাহিনীরা পাবই ব্রিজটি ভেঙ্গে দিয়ে যায়। পূর্বধলার ওই যুদ্ধই নেত্রকোণার একাত্তরের রণাঙ্গণের শেষ যুদ্ধ। ৯ ডিসেম্বর রাত পর্যন্ত নেত্রকোণার বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া আক-আর্মিরা সড়ক পথে ফিরে যাচ্ছিল। চট্টগ্রামের পটিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধীর বড়ুয়া সন্ধ্যায় পালিয়ে যাওয়া পাক আর্মিদের একটি গাড়িকে সহযোদ্ধা মনে করে হাত মিলাতে চান। সে সুযোগে পাকসেনারা তাকে গুলি করে। সুধীর বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সুধীর বড়ুয়াকে শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে মাঠের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়েছে। নেত্রকোণার রণাঙ্গনের অনেক যুদ্ধের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এখনো সম্ভাব হয়নি। অনেক বীরমুক্তিযোদ্ধা তাঁর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোর খন্ড খন্ড স্মৃতি হাতড়াতে পারেন। কিন্তু সঠিক তারিখ, যুদ্ধের কৌশল, সহযোদ্ধার নাম পর্যন্ত ভুলে গেছেন। ফলে অনেক যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধগুলো কালো অক্ষরে ধরে রাখার চেষ্টা করেও সম্ভাব হয়নি।

নেত্রকোণা সদর থানার খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা:

বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান-বীর প্রতীক(পিতা-আবদুস সোবহান, উত্তর সাতপাই), বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হেলালুজ্জামান-বীর প্রতীক(পিতা-আব্দুল গফুর, দেবশ্রী), বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ-বীর প্রতীক(পিতা-ছমির উদ্দিন মাস্টার)।

নেত্রকোণা সদর থানার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা:

সদর থানায় এ পর্যন্ত মোট ১২ জন বীর শহীদের তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের ১ জন রণাঙ্গণের বাইরে এবং ১১ জন সরাসরি রণাঙ্গণে শহীদ হয়েছেন।রণাঙ্গণের বাইরে নেত্রকোণার যে সকল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ বাংগালীর হাজার বছরের স্বপ্ন স্বাধীনতা বাস্তবায়নে জীবন উংসর্গ করেছেন তাদের তালিকা নিম্নে প্রদান করা হলঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী(পিতা-আক্তার আলী, মালনী রোড)।

সরাসরি রণাঙ্গণে নেত্রকোণার যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ বাংগালীর হাজার বছরের স্বপ্ন স্বাধীনতা বাস্তবায়নে জীবন উংসর্গ করেছেন তাদের তালিকা নিম্নে প্রদান করা হলঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুর রাসিদ(পিতা-সদরজমা মন্ডল, খাটপুরা), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল জব্বার(পিতা- হাসন আলী, গাবরাগাতী ), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু সিদ্দিক আহম্মদ(পিতা- ডুমন শেখ, গাবরাগাতী), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল কাদির(পিতা-নঈম উদ্দিন, কুনিয়া), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিপাহী গোলাম মোস্তফা (পিতা- জালাল আহম্মদ, শিবগঞ্জ রোড), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল খালেক (পিতা-শেখ কলিম উদ্দিন, মালনী রোড), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এলাহী নেওয়াজ উছমানী (পিতা-সমর আলী, কাটলী ), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লুৎফর রহমান (পিতা- আব্দুল সোবাহান, নন্দীপুর), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফজর আলী (পিতা- দাগু শেখ, কান্দুলিয়া), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল আজিজ (পিতা- মগবুল হোসেন, দিঘলা ), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফজলুল হক (পিতা- ফরহাদ আলী, নাগড়া)।

নেত্রকোণা সদর থানার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা: বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী(পিতা-আক্তার আলী, মালনী রোড), শহীদ বদিউজ্জামান মুক্তা – বিরামপুর, শহীদ কামিনী চক্রবর্তী-বড় বাজার, শহীদ সুধীর দত্ত মজুমদার- ঠাকুরাকোনা, শহীদ ধীরেন্দ্র দত্ত মজুমদার-( পিতা-কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার, ঠাকুরাকোনা), শহীদ ডা. মিহির সেন-মোক্তার পাড়া, শহীদ সিদ্ধার্থ সেন- মোক্তার পাড়া।

নেত্রকোণা সদর থানার মুক্তিযুদ্ধের স্মারক:

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ : নেত্রকোণা সদর থানার পাশে মগড়া নদীর পাড়ে ৩০ ফুট উচ্চতার এই স্মৃতিস্তম্ভটি নতুন করে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয়। আগেও এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ ছিলো। ১৯৯৪ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার যথাক্রমে এডভোকেট সাফায়েত আহমেদ খান ও হায়দার জাহান চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক দেওয়ান আফসার উদ্দিন এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

স্মৃতি একাত্তর : নেত্রকোণা শহরের মোক্তারপাড়া ব্রিজের উত্তর পূর্ব দিকে মগড়া নদীর তীর ঘেঁসে ‘স্মৃতি একাত্তর’ স্মৃতি সৌধটির অবস্থান। এ স্থানটি একটি বধ্যভূমি। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মিতালী সংঘ এ বধ্যভূমিতে স্মৃতি একাত্তর নামক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এ স্মৃতি সৌধটি শহীদ বদিউজ্জামান মুক্তা ও অন্যান্য শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত।

জেলা প্রশাসক কার্যালয স্মৃতিস্তম্ভ : জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে নির্মিত হয জেলা প্রশাসক কার্যালয স্মৃতিস্তম্ভ। জেলা প্রশাসক হোসাইন জামিল ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাযদার জাহান চৌধুরী এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

“বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী সড়ক, “বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ  মেহের আলী  গেইট”, বিজয় একাত্তর সম্মাননা-২০২২”  এবং ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি সম্মাননা স্মারক ২০২২, “শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী বৃত্তি”, শহীদ মেহের আলী স্মৃতি পরিষদ, শহীদ মেহের আলী স্মৃতি যুব জাগরণ সমিতি :

ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নেত্রকোণা পৌরসভায় ১৯৯৮ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে অজহর রোডের মোড় থেকে পূর্বদিকে ইসলামপুর পর্যন্ত এই রাস্তাটির নামকরণ করেছে – বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী সড়ক। মাননীয় সংসদ সদস্য  হাবিবা রহমান(শেফালী) ও নেত্রকোনাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে  নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি গেইটের নামকরন করেন “বীর মুক্তিযোদ্ধা  মেহের আলী  গেইট”, স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য “বিজয় একাত্তর সম্মাননা-২০২২”  এবং ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমী সম্মাননা স্মারক ২০২২ প্রদান করা হয়। শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে ২০২৩ সালে ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমীর – উদ্যোগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব শাহেদ পারভেজ “শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী বৃত্তি’ প্রবর্তন করেন।স্বাধীনতার পর পর শহীদ মেহের আলীর স্মৃতি রক্ষার্থে “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি পরিষদ” ও “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি যুব জাগরণ সমিতি”, মালনী রোড(বর্তমানে সমিতি ঘরটিকে মসজিদে র“পান্তরিত করা হয়েছে) সংগঠন দুটি গঠন করা হয় ।

শহীদ আরজ আলী লাইব্রেরী : নেত্রকোণা সরকারী কলেজের লাইব্রেরীটির নামকরণ করা হয়েছে “শহীদ আরজ আলী লাইব্রেরী”।নেত্রকোণা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক আরজ আলী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। ডাক বিভাগ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এ বুদ্ধিজীবীর ছবি দিয়ে পৃথক একটি স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আনোয়ার সড়ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আনোয়ারের প্রতি গণমানুষের গভীর ভালোবাসার কথা চিন্তা করে নেত্রকোণা পৌরসভা ১৯৯৭ সনে শৈশবের বিচরণ ক্ষেত্র নাগড়ায় ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আনোয়ার’ নামে একটি সড়কের নামকরণ করে।

স্বাধীনতা ভাস্কর্য: নেত্রকোণা সরকারী কলেজের সংসদ প্রাঙ্গনে নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতা ভাস্কর্য।

মুক্তির বাজার: নেত্রকোণা সদর থানার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউিয়নে মুক্তির বাজার নামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

  1. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
  2. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস”
  3. Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
  4. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
  5. চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
  6. Khan, Fazlur Rahman Khan (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  7. Chowdhury, Khalekdad (1985). Shatabdir Dui Diganta (in Bengali). Dhaka.
  8. Kader, A K Fazlul Kader (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  9. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
  10. আচার্য, সাংবাদিক জয়ন্ত,( ১৪ ডিসেম্বর ২০২১),মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধীজীবিবৃন্দ” সাপ্তাহিক-২০০০ পৃষ্ঠা ২০-২৪
  11. Khan, Ashraf Ali Khan Khoshru (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
  12. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
  13. হাসান, প্রধান বিচারপতি জনাব ওবায়দুল(এপ্রিল ২০২৩),” মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প, মুক্তিযুদ্ধে মোহনগন্জ :মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প ও ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ”, পৃষ্ঠা ১০১-১০৩
  14. Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on B
  1. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর পৃষ্ঠা 129-132
  2. চৌধুরী, হায়দার জাহান(মে ২০২৩). “নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা”, বিজয় একাত্তর সপ্তম সংখ্যা পৃষ্ঠা  ৮১
  3. আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব-২“
  4. আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব“
  5. চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫),” নেত্রকোনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস”,
Scroll to Top