অগ্নিযুগের সূর্য সৈনিকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী
অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী ছিলেন নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একমাত্র শহীদ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অন্যতম (সরকার নির্ধারিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী) যিনি বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৭ই মে মহেষখলা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন কালে আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন । শহীদ মেহের আলী ষাটের দশকে অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনীতিক, সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন। ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার নেত্রকোণা পৌরসভায় একটি রাস্তার নামকরণ করেছে – মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী সড়ক।
জন্ম: শহীদ মো: মেহের আলী, পিতা: মো: আক্তার আলী, মাতা: মোছাম্মৎ তুলাজান বিবি, ১৯৩৭ সালে নেত্রকোণা মিউনিসিপ্যালিটির ইসলামপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করে । তাঁর যোগ্য সহধর্মিনী ছিলেন রওশন আরা বেগম। শহীদ মেহের আলীর সন্তান ইন্জিনিয়ার জামান অস্ট্রেলীয়াতে একজন সফল ইন্জিনিয়ার এবং অধ্যাপনায় নিযুক্ত আছেন। বিশ্বমানবাধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থা Amnesty International” and “Green Peace” -এর সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। Bangladesh Martyrs Memorial Research Center” and “Bangladesh Muktijuddho Research Institute -প্রতিষ্ঠান দুটির মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা, জাতির বীর সন্তানদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে সহায়তা ও তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে কাজ করে যাচ্ছেন । শহীদ মো: মেহের আলী মালনী রোডের বাসায় থেকে তার সফল ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক জীবন গড়ে তোলেন।
শিক্ষাজীবন: শহীদ মেহের আলী Anjuman Adarsha Government High School-এ শিক্ষা জীবন শুরু করেন।পরবর্তীতিতে তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন। অতপর নেত্রকোণা কলেজ ও পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে B.Sc in Soil science ডিগ্রী সমাপ্ত করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন: শহীদ মেহের আলী পেশাগতভাবে মৃত্তিকা বিজ্ঞাণী হলেও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে তিনি ঐ পেশায় কাজ করতে পারেননি । তিনি ব্যবসায় মনোযোগী হন। শহীদ মেহের আলী শিক্ষা ও রাজনৈতিক তালিম নেন যথাক্রমে জাতীয় পুরষ্কার “একুশে পদক” প্রাপ্ত সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতাষ্ঠাতা সভাপতি প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক সাংবাদিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী ও সাবেক এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবের কাছ থেকে। ১৯৫২ সালে ভাষার দাবীতে আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন তিনি দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্র“য়ারীতে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ও ২৩ শে ফেব্রুয়ারী নেত্রকোণায় দত্ত উচচ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন ।“রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই “ শ্লোগানে ভাষা আন্দোলনে রাজপথ কাপিয়েছেন। তার সহযোদ্ধা যারা ছিলেন তারা হলেন – ভাষা সৈনিক সর্বজনাব আজিম উদ্দীন আহমেদ, প্রদ্যোথ নাথ ভাদুড়ী, প্রদীপনাথ ভাদুড়ী,কামাল উদ্দীন আহমেদ,কবি আল আযাদ,আব্দুল আলী তালুকদার প্রমুখ।
১৯৬০ সালে জনাব আলী মার্শাল’‘ল’ বিরোধী আন্দোলনে সকল দলের ছাত্রদের নিয়ে “ছাত্র ঐক্য সংস্থা “ নামে একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগ নেত্রকোনা শাখা গড়ে তুলেন। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যান্য সদস্য যারা ছিলেন তারা হলেন প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী জনাব শামসুজ্জোহা,জনাব জামাল উদ্দিন আহম্মেদ,হায়দার জাহান চৌধুরী,আশরাফ আলী খান খসরু, বিপ্লব চক্রবর্তী, মতিয়র রহমান খান, শহিদ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল ওয়াহেদ, আ: মান্নান, আব্দুর রহমান, আলাউদ্দিন খান, ধীমান রঞ্জন বিশ্বাস (ভারত প্রবাসী)(জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন)। ১৯৬৪ সালে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনারের অন্যতম স্থপতিও শহীদ মেহের আলী । সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু দত্ত উচচ বিদ্যালয়ের উত্তর পশ্চিম কোণে কাচারি রোডের সংযোগস্থলে তিন রাস্তার মোড়ে বর্তমান শহীদ মিনারের প্রধান গেইটের জায়গায় তৎকালীন নেত্রকোণা মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সর্বজনাব মেহের আলী(জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন), প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী শামসুজ্জোহা, জামাল উদ্দিন আহমেদ( জনাব মেহের আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবার পর সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়), মতিউর রহমান খান,আশরাফ আলী খান (খসরু),গাজী মোশারফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান(খসরু),সাখাওয়াত হোসেন এর নেতৃত্বে প্রথম শহীদ মিনারটি স্থাপিত হয়। রাজনীতির পাশাপাশি শহীদ মেহের আলী কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি ১৯৬৩ সনের জানুয়ারি মাসে মধুমাছি কচিকাঁচার মেলা গঠন করেন । তিনি ছিলেন মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার প্রধান উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক । মেলার পরিচালক হিসেবে ছিলেন জনাব এডভোকেট একে ফজলুল কাদের, আর উপদেষ্টা মন্ডলীতে ছিলেন- সর্বজনাব এন আই খান,জনাব আব্দুল খালেক, জনাব খালেকদাদ চৌধুরী, ডা. জগদীশ দত্ত, এডভোকেট ফজলুর রহমান খান,মাওলানা ফজলুর রহমান খান,হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ। জনাব মেহের আলী শামসুজ্জোহাকে আহ্ববায়ক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আয়েশা খানমকে আহ্ববায়িকা করে কমিটি গঠন করে দেন। মেহের আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন কেন্দ্রীয় কচিকাচার মেলার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং কবি সুফিয়া কামাল ও রোকনোজ্জামান দাদা ভাইয়ের সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন। ঢাকা বিশ্ববিদালয় অর্নিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৯৬৪ সনে ১লা,২রে মে কবি সুফিয়া কমাল ও রোকনোজ্জামান দাদা ভাইসহ মেলার পরিচালকবৃন্দের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নেত্রকোণায় নিয়ে আসেন। নেত্রকোনা মহকুমা শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে এই সংগঠনকটিকেও শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করেন।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মহকুমা আওয়ামীলীগের শ্রম ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।(ষাটের দশকে ছাত্রদের পর শ্রমিক ও কৃষক গোষ্ঠী সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এই দুটি গোষ্ঠী নেত্রকোনায় স্বাধীকার আন্দোলন,সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।) । ১৯৬৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালীর মুক্তিসনদ ৬ দফা প্রদান করলে, মেহের আলী ৬ দফা দাবী নিয়ে নেত্রকোণায় গ্রামে গঞ্জে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৬৯-এর গণঅভ্যুথানে তিনি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের পর বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুর“ হলে তিনি নেত্রকোণায় গঠিত মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মেহের আলী যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে মহেষখলা ইয়ুৎ ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য(ছাত্র ও যুবনেতাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত) হিসেবে দায়িত্ত পালন করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন মেহের আলী বঙ্গবন্ধুর সাথে একই মঞ্চে বহুবার বক্তব্য প্রদান করেছেন। মেহের আলী ছিলেন ষাটের দশকের নেত্রকোনার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র যিনি ৬০, ৬২, ৬৪, ৬৬, ৬৯ থেকে ১৯৭১ এর প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সফল ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান: বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ নেত্রকোণার প্রতিরোধ যুদ্ধে মেহের আলী অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছিলেন। নেত্রকোণার ছাত্র ও যুব সমাজকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে মেহের আলী বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। ২৭ মার্চ নেত্রকোণা আওয়ামী লীগ অফিসে নেত্রকোণার তৎকালীন মহকুমা আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মেহের আলী তার সম্মানীত সদস্য নির্বাচিত হন। নেত্রকোণা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আটপাড়া মদন খালিয়াজুরী এলাকার এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবকে আহবায়ক করে নেত্রকোণা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সকল নির্বাচিত এম.এন.এ তথা জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মমিন, মোঃ জুবেদ আলী, সাদির উদ্দিন আহমেদ ও এম.পিগণ তথা প্রাদেষিক পরিষদ সদস্য আব্বাছ আলী খান,ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ,আব্দুল মজিদ তারা মিয়া, মোঃ হাদীস উদ্দীন চৌঃ, মোঃ নাজমুল হুদা সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হন।তাছাড়া নেত্রকোণা পৌর চেয়ারম্যান এন আই খান,এডভোকেট ফজলুর রহমান খান,খালেকদাদ চৌধুরী,এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের, মৌলানা ফজলুর রহমান খান, নুরু মিয়া,জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাফায়েত আহম্মদ খান,মোঃ শামছুজ্জোহা, গোলজার হোসেন,গোলাম এরশাদুর রহমান, হায়দার জাহান চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হয় মহকুমা সংগ্রাম পরিষদ । বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মেহের আলী ‘৭১ সালে মহেষখলা ক্যাম্পের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। মধ্যনগর থানার অধীন ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী ( নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা), ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। ক্যাম্পের বিশাল দায়িত্ব পালনের জন্যে বিভিন্ন কমিটি করে দেয়া হয়। সে সব উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি,বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয় । পরবর্তীতে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মুজিব বাহিনী গঠনের পর মহিষখলা সাব-সক্টরের অধীনে মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার , মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী,সুলতান নুরী , খন্দকার আনিস, মনজুর উল হক ও নজরুল ইসলাম খানসহ আরো অনেকেই ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এই ক্যাম্পেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল। মহিষখলা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটি প্রতিদিনই একবার সবগুলো ইউনিটের কাজ পরিদর্শন এবং তাদের কাজের সমন্বয় সাধন করতো। মহিষখলায় (বাংলাদেশের এবং মেঘালয়ের মুক্তাঞ্চল) তখন লক্ষাধিক শরণার্থী। এখানকার ক্যাম্প পরিচালণা পর্ষদ নিজেরাই শরনার্থীরা জন্যে সকল ব্যবস্থা করতো। কোনরূপ বাইরের সাহায্য পাবার সুযোগ সেখানে ছিল না।
জনাব মেহের আলী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে ভারতের মহেশখলা যাওয়ার পথে মধ্যনগর থানার দুগনৈ গ্রামে তাঁর শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন- মধ্যনগর সহ আশপাশএলাকার ছাত্র যুবকদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করবার জন্য। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আকিকুর রেজা ভূইয়া ও আব্দুল আউয়ালকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে মধ্যনগর থানার মধ্যে প্রথম দুগনৈ গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন। পরবর্তীতে তিনি মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়াকে সভাপতি ও আব্দুল আউয়ালকে সহ-সভাপতি এবং বাদল চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মধ্যনগর থানা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন। এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে মেজর এম এ মোত্তালিব(পরবর্তীতে যিনি সাব সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন) ও ক্যাপ্টেন গণীর নেতৃত্তে কয়েকশ সামরিক কর্মকর্তা ও ই পি আর সদস্য দুগনৈ গ্রামে আসলে মেহের আলী উনার শ্বশুর বাড়ীতে তাদের সকলের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং নৌকায় করে নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়াও মেহের আলী উনার শ্বশুর রহমত আলী তালুকদারের বাড়ী থেকে শত শত মণ ধান, চাল, অন্যান্য সামগ্রী মহেষখলা ক্যাম্পে পাঠান যাহা ক্যাম্প পরিচালণায় অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
পুরষ্কার ও সম্মানণা: ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে নেত্রকোণা পৌরসভা ১৯৯৮ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে অজহর রোডের মোড় থেকে পূর্বদিকে ইসলামপুর পর্যন্ত এই রাস্তাটির নামকরণ করেছে – মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী সড়ক। মাননীয় সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান(শেফালী) ও নেত্রকোনাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি গেইটের নামকরন করেন “বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী গেইট”, স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য “বিজয় একাত্তর সম্মাননা-২০২২”এবং ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি সম্মাননা স্মারক ২০২২ প্রদান করা হয়। শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে ২০২৩ সালে ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমির – উদ্যোগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব শাহেদ পারভেজ “শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী বৃত্তি’প্রবর্তন করেন।স্বাধীনতার পর পর শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি পরিষদ” ও “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি যুব জাগরণ সমিতি”, মালনী রোড(বর্তমানে সমিতি ঘরটিকে মসজিদে র“পান্তরিত করা হয়েছে) সংগঠন দুটি গঠন করা হয় । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে শহীদ মেহের আলীর পরিবারের জন্য এক হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
অধ্যাপক ননী গোপাল সরকারের প্রবন্ধসমূহ:
বাউল কবি রশিদ উদ্দিন: বাউলদের বাউল
নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতি লোককবি নগেন সরকার
একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক ভাষা সৈনিক সানাউল্লাহ নূরী
বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম খান (এন আই খান)
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মো. ফজলুর রহমান খান
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম ফজলুল কাদের
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাছ আলী খান
অগ্নিযুগের সূর্য সৈনিকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী
তথ্যসুত্রঃ
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
- চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
- হাসান, প্রধান বিচারপতি জনাব ওবায়দুল(এপ্রিল ২০২৩),” মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প, মুক্তিযুদ্ধে মোহনগন্জ :মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প ও ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ”, পৃষ্ঠা ১০১-১০৩
- Khan, Fazlur Rahman Khan (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- Kalamia, Islam Uddin (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- Ahmed, Sadir Uddin (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- Rahman, Golam Arshadur (1997). Muktisangrame Netrakona (in Bengali). Dhaka
- Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
- Khan, Ashraf Ali Khan Khoshru (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
- Kader, A K Fazlul Kader (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- Uddin, Hadis (2021). Ashomapta Golpa (in Bengali). Dhaka: Anirban Printing and Publications.
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” ভাষা সৈনিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৯
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস“
- আহমদ, ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দীন (২০২২)। অসমাপ্ত গল্প। ঢাকা: অনির্বান পাবলিকেসন্স। পৃ. ২, ১২।
- মোতালিব ,ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২৬-২৯
- বিশ্বাস, সাংবাদিক প্রিয়ঙ্কর(২৩ ডিসেম্বর ২০২২), “মুক্তিযোদ্ধার আত্মকথা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:শামছুজ্জোহা, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৯৩-১০০
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
- Shamsusjuha, Md (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান(সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা ক্লাব) ,“মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী’র স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত” Rupashi TV, 19/05/2022 ,
- Haque, Muzzammel (6 April 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. Shoronika. 1: 2.
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামসুজ্জোহা (সভাপতি ,সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, নেত্রকোণা জেলা)“নানান কর্মসূচীতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী’র ৫১তম প্রয়ান দিবস পালন।“, Meghna TV , ,18/05/2022
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা 129-132
- Sarkar, Ashraf Ali (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
- Chowdhury, Khalekdad (1985). Shatabdir Dui Diganta (in Bengali). Dhaka.
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২),”নেত্রকোণায় বঙ্গবন্ধু”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৭৭-৮১
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(২৩ ডিসেম্বর ২০২২),”শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস”,আলোর পথে,পৃষ্ঠা ৬১-৬৪
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সপ্টেম্বের ২০২২),”শহীদ মহেরে আলী একটি নাম, একটি ইতহিাস”, মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা পৃষ্ঠা ২০২-২০৫
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতি ও ৭১’- র মুক্তিযুদ্ধ”, বিজয় একাত্তর বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৮২-৯২
- Momeen, Abdul Momeen (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- Talukder, Nurul Amin (2021). Ashomapta Golpa (in Bengali). Dhaka: Anirban Printing and Publications.
- ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” বীর মুক্তিযোদ্ধা ইজাজ আহমেদ চৌধুরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ২৯
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
- Khan, Motiur Rahman (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২০),”মুক্তিযুদ্ধের একনিষ্ঠ সংগঠক ডঃ আখলাক হোসেন আহমদ”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা ৬০-৭০
- Rahman, Anisur (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- owahed, Abdul (6 April 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. Shoronika. 1: 2.
- প্যানেল মেয়র নজরল ইসলাম,“নেত্রকোণায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী সড়ক উদ্ভোধন”- MY TV, 05/05/2015
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মেয়র নজরল ইসলাম খান, ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আক্কাস আহমেদ(সভাপতি-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),,,“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান” দৈনিক একুশে নিউজ ২/১০/২০২৩
- অধ্যাপক অলিউল্লাহ,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান”,দৈনিক বাংলার অধিকার ১/১০/২০২৩
- দেবাশীয সরকার(সভাপতি -প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী(“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা প্রদান”, দৈনিক আলোকিত বরিশাল, ২/১০/২০২৩
- কবি সুমিত্র সুজন,“শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে নেত্রকোণায় বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও বিজয় স্তম্ভের দাবি”,উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ, ২/১০/২০২৩
- আবৃত্তিকার শিল্পী ভট্রাচার্য,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা -২০২২ প্রদান”, দৈনিক সবুজ বাংলা ,১/১০/২০২৩
পূর্বের পাতা – পরের পাতা
