মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না-৩

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক আহমেদ সামির

কৃতজ্ঞতা : নেত্রকোণা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি,নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”-এর লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দীর্ঘদিনের কমান্ডার হায়দার জাহান চৌধুরী. প্রখ্যাত ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার ,বাংলাদেশ শহীদ স্মৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এম কে জামান, মধ্যনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব  কমান্ডার নুরুল ইসলাম ইউনুছ মিয়া,, মোঃ আতাউর রহমান, মোঃ আব্দুল জব্বার, মোঃ আব্দুল বারী খন্দকার, মোঃ মোতালেব, মোঃ নূরুল হক, মোঃ আব্দুর রহিম, বীরবল চন্দ্র দাস, মোঃ সুরুজ আলী  প্রমুখ , মধ্যনগর থানা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জনাব মোঃ আকিকুর রেজা ভ‚ইয়া (যিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের আমলা হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।), সহ-সভাপতি জনাব শ্রী হেম বাবু  ও বাদল চন্দ্রের সন্তানবৃন্দ, দুগনৈ গ্রামে সংগ্রাম পরিষদের জনাব মোঃ মতিউর রহমান, জনাব মোঃ আব্দুল হাজির ও জনাব মোঃ আজনুর প্রমুখ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের জনাব শাহীনুর রেজা তাং, জনাব এমদাদ হোসন, জনাব রেজুয়ান আহমেদ প্রমুখ , সুনামগঞ্জ, ও শহীদ স্মৃতি স্পোর্টিং-এর জনাব মাঃ সাগর তাং,সিরাজ হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দে ও এলাবাসীর সহযোগিতা ছাড়া  এই সকল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হত না।

মধ্যনগর উপজেলার  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী:

বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়া

বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়া

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়া: মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অন্যতম বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়া ১৯৪৬ সালের পহেলা জানুয়ারী মধ্যনগর থানার দুগনৈ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। মাতাঃ এখলিমুন্নেছা। তিনি ৫ সন্তানের জনক। তার পিতা জনাব রহমত আলী ও চাচা জনাব আক্কেল আলী তালুকদার বৃটিশ শাসিত ভারত ও পূর্বপাকিস্থানের সুনামগন্জ জেলার অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। জনাব আক্কেল আলী সুনামগন্জ কোর্টের অত্যন্ত প্রভাবশালী জুরী তথা বিচারক ছিলেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়ার ছোট ভাই জনাব আব্দুল আওয়াল তৎকালীন বৃহত্তর ধরমপাশা উপজেলার(ধরমপাশা- মধ্যনগর থানা)  চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন দুইবার । আরেক ছোট ভাই জনাব মাসুক তাং ছিলেন মধ্যনগর সদর ইউিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান। তার এক সন্তান শাহীনুর রেজা তাং((মধ্যনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সমাজসেবক)

শিক্ষা ও কর্মজীবন: জনাব রেজা বাদশাগন্জ স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং সুনামগন্জ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। । ১৯৬৭ সালে পূর্বপাকিস্থান সরকারের সচিবালয়ে আমলা হিসেবে যোগ দেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান: বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে পূর্বপাকিস্থান সরকারের সচিবালয়ের আমলার চাকুরী ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। ২৭শে মার্চ মেজর শফিউল্লাহর গাড়ীতে টঙ্গী ব্রীজ হয়ে টাঙ্গাইলে আসেন। পরবর্তীতে ট্রাকে করে তার শ্বশুর বাড়ী ময়মনসিংহ আসেন। ময়মনসিংহের কাগমারী সেনাবাহিনীতে আক্রমনকারীদের সাথে মিলিত হয়ে সেনা নিবাসের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।০৪/০৪/১৯৭১ সেনাবাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক কষ্ট করে তিনি গ্রামের বাড়ী দগুনৈ গ্রামে পৌঁছান । এখানে এসেই সাক্ষাত হয় নেত্রকোণা মুক্তিসংগ্রাম কমিটির সম্মানীত  সদস্য এবং মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের অন্যতম  সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর সাথে । জনাব মেহের আলী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে ভারতের মহেশখলা যাওয়ার পথে মধ্যনগর থানার দুগনৈ গ্রামে তাঁর শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন- মধ্যনগর সহ আশপাশএলাকার ছাত্র যুবকদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করবার জন্য।[1] জনাব মেহের আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা থাকালীন জনাব ভূইয়া ও জনাব রেজার খালাত ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব আজিজুর রহীম (স্বাধীনতার পর যিনি বাংলাদেশ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব প্রদান করেন) ও জনাব রেজার ভগ্নিপতি জনাব মোঃ আলী (স্বাধীনতার পর যিনি বাংলাদেশ জয়েন্টস্টক কোম্পানীর প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহন করেন ও কর্নেল হাবিবুর রহমান তারেকের  পিতা) সহ অন্যান্যদেরকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেন এবং জনাব মেহের আলীর নেতৃত্বে জনাব ভূইয়া অন্যান্যদের নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সতর্কতার সাথে অংশ গ্রহণ করতেন ।

মহেষখলা ক্যাম্পের( ১১ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর) দায়িত্ত প্রাপ্ত নেতৃত্ববৃন্দের তালিকা  : ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী(নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা),  ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন  (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।মহেষখলা ক্যাম্পের বিভিন্ন উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – বারহাট্টার সেকান্দর নূরী,ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয়।

দুগনৈ গ্রামে সংগ্রাম পরিষদ গঠন: জনাব মেহের আলী মোঃ আকিকুর রেজাকে পেয়ে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করেন। জনাব মোঃ মেহের আলী মোঃ আকিকুর রেজাকে সভাপতি ও জনাব আব্দুল আওয়ালকে সাধারণ সম্পাদক  করে মধ্যনগর থানায় প্রথম দুর্গনৈ গ্রামের সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন। ঐ কমিটির অন্যান্য সদস্য যারা ছিলেন তারা হলেন-সর্বজনাব – ১.জনাব মোঃ আজাদুর রেজা, ২. জনাব মোঃ এখলাছ উদ্দিন চৌধুরী,৩. জনাব মোঃ আজনুর,  ৪, জনাব মোঃ মান্নান আলী,৫. জনাব মোঃ তকসির,৬. জনাব মন্তাজিদ চৌধুরী, ৭. জনাব মোঃ কাঁচামনি, ৮. জনাব মোঃ আদম, ৯. জনাব মোঃ দুলই,১০. জনাব মোঃ পান্ডব আলী, ১১. জনাব মোঃ মহশিব আলী,১২. জনাব হাফেজ মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী,১৩. জনাব মোঃ মতিউর রহমান,১৪. জনাব মোঃ আব্দুল হাজির।

ক্যাপ্টেন গণীর দুগনৈ গ্রামে আগমন: সম্ভবতঃ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে  ক্যাপ্টেন গণী ১৫০ জন ইপি আর সদস্য নিয়ে দুগনৈ গ্রামে আসেন। জনাব মেহের আলীর নেতৃত্বে এবং নিদের্শনায় মোঃ আকিকুর রেজা তাদের সকলের থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করেন দুদিন দু-রাতের জন্যে। পরবর্তীতে মেহের আলীর নির্দেশে মোঃ আকিকুর রেজা, বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে নুর মিয়া চৌধুরীর বাড়ীতে মাছিমপুর ও কান্দা পাড়ায় ৩য় দিন তাদের থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করেন। ৪র্থ দিন মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সদস্যবৃন্দ নিরাপদে তাদের ভারতের তুরায় যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

মধ্যনগর থানা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠন: পরবর্তীতে জনাব মেহের আলী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জনাব মোঃ আকিকুর রেজাকে সভাপতি (যিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের আমলা হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।) ও জনাব আব্দুল আওয়ালকে সহ-সভাপতি (পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন বৃহত্তর ধরমপাশা উপজেলার দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও জেলা আওয়ামীলীগ সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন)  এবং শ্রী দূর্গেশ কিরণ তালুকদার বাদলকে (মধ্যনগর বাজার) সেক্রেটারী করে মধ্যনগর থানা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন। এই কমিটিতে অন্যান্য যারা ছিলেন সর্বজনাব- সহ সভাপতি : শ্রী হেম চন্দ্র রায় (মধ্যনগর বাজার), সহ সভাপতি : শ্রী ললীত মোহন রায় (মধ্যনগর),সহ সভাপতি : আক্কেল আলী তালুকদার (বংশীকুন্ডা),সহ সাধারণ সম্পাদক : শ্রী পরিতুষ রায় (মধ্যনগর বাজার),সহ সাধারণ সম্পাদক : শ্রী প্রতাপ চন্দ্র দাস (খালপাড়া শিয়ালকান্দা),সাংগঠনিক সম্পাদক : আব্দুল আজিজ (মধ্যনগর বাজার),সহ সাংগঠনিক সম্পাদক : আব্দুল আজিজ (পিপড়াকান্দা),সহ সাংগঠনিক সম্পাদক : এখলাছ চৌধুরী (দুগনই),অর্থ সম্পাদক : মতিউর রহমান চৌধুরী হাফেজ (দুগনই),সহ অর্থ সম্পাদক : শ্রী গয়নাথ চন্দ্র দাস (গোল্লা),দপ্তর সম্পাদক : হাতেম আলী মেম্বার (উত্তর বংশীকুন্ডা),সহ দপ্তর সম্পাদক : হাছান আলী মাষ্টার (উত্তর বংশীকুন্ডা),সদস্য সচিব : আব্দুল হক শাহ্ (বনগাঁও),তথ্য সংগ্রহ সম্পাদক : শ্রী রঘুনাথ কানু (মধ্যনগর বাজার),সহ তথ্য সংগ্রহ সম্পাদক : সত্য  নারায়ণ কানু (মধ্যনগর বাজার),সহ তথ্য সংগ্রহ সম্পাদক : শ্রী অমর টেইলার (মধ্যনগর বাজার),আপ্যায়ন সম্পাদক : শ্রী অধিগুপ্ত (জমশেদপুর),রসদ সংগ্রহ সম্পাদক : শ্রী সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য (মধ্যনগর বাজার),সহ রসদ সংগ্রহ সম্পাদক : শ্রী যুগেশ সরকার (মাছিমপুর),সহ রসদ সংগ্রহ সম্পাদক : শ্রী ফুলের দত্ত (গোলাইখালী),স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক : আব্দুল করীম তালুকদার (আবিদনগর শিয়ালকান্দা),সহ স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক : শ্রী সত্যপদ রায় (মধ্যনগর বাজার),সহ  ̄স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক : আব্দুর রেজ্জাক টেইলার (মধ্যনগর বাজার) ,যোগাযোগ ও পরিবহণ সম্পাদক : শ্রী গোপাল বণিক (মধ্যনগর বাজার),সহ যোগাযোগ ও পরিবহণ সম্পাদক : শ্রী শীতেশ চন্দ্র রায় (মধ্যনগর বাজার),প্রচার সম্পাদক : শ্রী প্রদীপ তালুকদার (মাছিমপুর),সম্মানিত সদস্য: শ্রী নৃপেন্দ চন্দ্র রায় (মধ্যনগর বাজার),সম্মানিত সদস্য : শ্রী চম্পা বনিক (মধ্যনগর বাজার),সম্মানিত সদস্য: শ্রী যাদু মালাকার (ইটাউরী),সম্মানিত সদস্য: শ্রী সমর বিজয় রায় (মধ্যনগর বাজার),সম্মানিত সদস্য: শ্রী  ̄স্বদেশ রায় (মধ্যনগর বাজার),সম্মানিত সদস্য: আব্দুল ছাদেক (মধ্যনগর বাজার),সম্মানিত সদস্য: বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব (মধ্যনগর),সম্মানিত সদস্য : বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ তালুকদার (সাজদাপুর)

মেজর মোতালিবের দুগনৈ গ্রামে আগমন: এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে মেজর মোতালিবের (পরবর্তীতে যিনি সাব সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন) নেতৃত্বে কয়েকশ’ সামরিক কর্মকর্তা ও ইপিআর সদস্য দুগনৈ গ্রামে আসে। সাথে সাথেই জনাব আকিকুর রেজা  জনাব মেহের আলীর নির্দেশ মত মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আব্দুল আওয়ালসহ অন্যাণ্য নেতৃবৃন্দের নিয়ে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং পরের দিন তাদেরকে নৌকায় করে ইন্ডিয়াতে নিরাপদে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন । জনাব মেহের আলী মহেষখলা ক্যাম্পে চলে যাবার পর জনাব মোঃ আকিকুর রেজা  সৈয়দ আলী তাং ও হাজী গাজী নবী নওয়াজ-এর মাধ্যমে  – তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশ্রমবাড়ি সাব সেক্টরের অধিনায়ক মেজর জেনারেল (অব.) ইজাজ আহমেদ চৌধুরী,[2] ক্যাপ্টেন মান্নান ও মহেষখলা ক্যাম্পের উর্ধতন পরিচালকবৃন্দ তথা জনাব মেহের আলী, খালেকদাদ চৌধুরীর সাথে অত্যন্ত গোপনে তথ্য আদান প্রদান করতেন।উল্লেখ্য যে, মেজর জেনারেল (অব.) ইজাজ আহমেদ চৌধুরী  জনাব রেজা ও মধ্যনগরের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব নুরুল ইসলামের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে গেছেন।

মহেষখলা ক্যাম্পে খাদ্য সামগ্রী প্রেরণ: মহেষখলা আশ্রয় শিবির ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পটি পরিচালিত হতো সম্পূর্ণরূপে নেত্রকোণা মহকুমা ও সুনামগঞ্জ মহকুমার আওয়ামীলীগ নেতৃত্বদের দ্বারা। ভারত সরকার বা আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা এর দায়িত্ব নেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প কমিটিই এটির সম্পূর্ণ পরিচালনার কাজ করতো। তাই মহেষখলা ক্যাম্পের জন্য  অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী স্থানীয়ভাবেই সংগৃহীত হতো। জনাব মেহের আলীর নেতৃত্ত্বে জনাব মোঃ আকিকুর রেজা ভ‚ইয়া   সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে ট্রেনিং এর জন্যে পাঠাতে থাকেন। নেতৃবৃন্দ  ঐ সময় জনাব রহমত আলী, জনাব আক্কেল আলী তালুকদার ও আব্দুর রউফ চৌধুরীর কাছ থেকে ১৩০০ মন ধান, ১০০০ মন লাখড়ী, ৩০০শত সিরামিকের খাবার প্লেট, ৫০টি বড় চামুচ,গরু, ছাগল, মাছ ,মুরগী মহেষখালা ক্যাম্পে পাঠান যা ক্যাম্প পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণর্ ভুমিকা পালন করে। জনাব মেহের আলীর নিহতের পরপরই জনাব রহমত আলী, জনাব আক্কেল আলী তালুকদার বাড়ীটি দুই দুই বার লুট করা হয়। লুটেরারা তাদের প্রায় সবকিছু নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মহেষখলা ক্যাম্পের বীরমুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি জানতে পেরে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন। দ্রুত সে সবের কিছু উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। যার বর্নণা মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্যবৃন্দসহ উপরোল্লেখিত জাতীয় ব্যক্তিদের লেখা ও বক্তব্য এবং অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার সম্পাদিত গবেষণাধর্মি পত্রিকা র্বিজয় একাত্ত্বরে প্রকাশিত নেত্রকোণা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দীর্ঘদিনের কমান্ডার হায়দার জাহান চৌধুরীর লেখক প্রবন্ধ ” মহেষখলা ক্যাম্প ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খালেকদাদ চৌধুরী এবং মেহের আলী প্রসংগ”-থেকে পাওয়া যায়।

মৃত্যু : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জনাব রেজা সচিবালয়ের চাকুরীতে ফিরে যান এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘদিন সফলতার সাথে কাজ করার পর একজন শীর্ষস্থানীয় আমলা হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। ২০২৫ সালের  ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । তাকে ঢাকা শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম: বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ১৯৪৪ সালে দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের রউহা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলামের  পিতার নাম: মিরাশ আলী, মাতার নাম : শাহিদা খাতুন, স্ত্রীর নাম : মোছাঃ নিলোফার ইয়াসমিন। তার এক সন্তান লন্ডন প্রবাসী আইনজীবি ও মেয়ের জামাতা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:রৌহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় ও মৌলভী বাজার সরকারি কলেজ শিক্ষা জীবন শেষে  মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বন বিভাগে  রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। তিনি দীর্ঘদিন মধ্যনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার ছিলেন।১১নং সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোঃ আবু তাহেরের নেতৃত্বে, কোম্পানী কমান্ডার শাহজাহান খান, উইং কমান্ডার হান্নান মিয়ার নি্দের্শনায় মহেষখলা ক্যাম্পের যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।তিনি মহেন্দগঞ্জ, তেলঢালা, তোরা ,ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের সভাপতির নাম: মোঃ আকিকুর রেজা ভূঞা, মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের নাম: শ্রী দুর্গেশ কিরণ তালুকদার বাদল, মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের শাখার নাম: মধ্যনগর মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ। ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী(নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা),  ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন  (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।মহেষখলা ক্যাম্পের বিভিন্ন উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – বারহাট্টার সেকান্দর নূরী,ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয়।

মৃত্যু: শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব আলহাজ নূরুল (১৬ ফেব্রুয়ারি/2026) সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা  মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না

মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা  মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব

মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা  মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব

মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা  মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব

মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা  মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব

মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা  মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর(অব:) এম এ মোত্তালিব 

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম এরশাদুর রহমান

ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দিন আহমেদ

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাফায়েত আহম্মেদ খান

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী

তথ্যসুত্রঃ

  1.  সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
  2.  সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস”
  3.  চৌধুরী, হায়দার জাহান(মে ২০২৩). নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা, বিজয় একাত্তর সপ্তম সংখ্যা পৃষ্ঠা  ৮১
  4.  সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২০),”মুক্তিযুদ্ধের একনিষ্ঠ সংগঠক ডঃ আখলাক হোসেন আহমদ”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা ৬০-৭০
  5.  সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” ভাষা সৈনিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৯
  6.  চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা 129-132
  7.  চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
  8.  চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
  9.  আচার্য, সাংবাদিক জয়ন্ত,( ১৪ ডিসেম্বর ২০২১),মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধীজীবিবৃন্দ” সাপ্তাহিক-২০০০ পৃষ্ঠা ২০-২৪
  10.  সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
  11.  আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব

Scroll to Top