স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (পর্ব-৪)
অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট মুক্তিমুযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীর লেখা প্রবন্ধ “প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক, মহেষখলা ক্যাম্প ট্রাইবুনাল তথা আদালতের বিচারপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা খালেকদাদ চৌধুরী” যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে । এই প্রবন্ধটি বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম খালেকদাদ চৌধুরীর আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ “শতাব্দীর দুই দিগন্ত”অবলম্বনে লিখেছেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা খালেকদাদ চৌধুরী “শতাব্দীর দুই দিগন্ত”বইটিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনা কমিটির প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্মরণার্থীদের আগমন ও পূনর্বাসনকরণ, ত্রাণ বিতরণ, মুক্তিযোদ্ধা রিক্রটমেন্ট, দালাল ও অপরাধী বন্দিদের বিচারের ব্যবস্থা, রোগ-শোকের বিবরণ ও চিকিৎসা সেবাসহ নানাবিধ কর্মকান্ডের একটি সুন্দর চিত্র অংকন করেছেন । বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীর বিপুল গবেষণা লব্ধ তথ্য নিয়ে লেখা এই প্রবন্ধটিতে মহেষখলা ক্যাম্প গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলীর অবদানের বিষদ বর্নণা আছে। প্রবন্ধটির কিছু অংশ হুবহু নীচে বর্ণিত হলো।
মহেষখলা আশ্রয় শিবির ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পটি পরিচালিত হতো সম্পূর্ণরূপে নেত্রকোণা মহকুমা ও সুনামগঞ্জ মহকুমার আওয়ামীলীগ নেতৃত্বদের দ্বারা, ভারত সরকার বা আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা এর দায়িত্ব নেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প কমিটিই এটির সম্পূর্ণ পরিচালনার কাজ করতো। মুক্তিফৌজ রিক্রট করা (ভর্তি) এবং তাদের আশ্রয় ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এ ক্যাম্প কমিটি চালাতো। ট্রেনিং পরিচালনার প্রাথমিক ব্যবস্থা ও তাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানো (তুরাতে) এবং ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে ফিরে আসার পর ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল, সিলেটের পশ্চিমাঞ্চল অভ্যন্তরে আক্রমণ পরিচালনার জন্য নৌকা সংগ্রহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ সকল রকম দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করতো এখানকার এই ক্যাম্প কমিটি। নতুন ভর্তি করা মুক্তিফৌজদের ট্রেনিং সমাপ্তির পর প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা ক্যাম্প ছিলো। এখানেই তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ সংগ্রহ, রিক্রট ও দেশের অভ্যন্তরে যোদ্ধাদের প্রেরণ তাদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শরণার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপকমিটি গঠন করে বিভিন্ন সদস্যদের উপর ভার দেওয়া হতো। সে উপ কমিটিগুলো তাদের নির্বাচিত কার্য সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতো। ক্যাম্প কমিটি প্রতিদিনই একবার কাজ পরিদর্শন এবং তাদের কাজের সমন্বয় সাধন করতো।
মহেষখলা ক্যাম্পে ট্রাইবুনাল তথা আদালত গঠনের প্রয়োজনীয়তা
মুক্তিযোদ্ধা রিক্রটিং কেন্দ্রটি ছিল মহিষখলা বাংলাবাজারের সন্নিকটে একটি বড় মজবুত টিনের চৌচালা ঘরে। এটি ছিল বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগের কার্যালয়। সেটাতেই রিক্রটিং কেন্দ্রের সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় উপ-কমিটির কয়েকজন ট্রেনিং প্রাপ্ত ও আনসার কমান্ডারের উপর। মুক্তযোদ্ধাদের ভর্তি হওয়ার পর দুপুর বারোটায় প্রায় দু’মাইল দূরে অবস্থিত ইয়্যুথ ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই ঘরটির বারান্দায়ও রিক্রটিংয়ের কাজ চলতো সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। রিক্রটিং অফিসের কাজ দেখার জন্য ক্যাম্প কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন। ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যান হেকিম চৌধুরী ও ডাঃ আকলাকুল হোসেন এম.পি সাহেব প্রায়ই সেখানে যেতেন। খালেকদাদ চৌধুরীকে ক্যাম্প কমিটির সদস্য করার পর তাকেও তাদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। খালেকদাদ চৌধুরী মহিষখলা আসার ও ক্যাম্প কমিটির সদস্য হওয়ার দু’দিন পরই তাকে সঙ্গে করে তারা রিক্রটিং অফিসে নিয়ে যান। বিকেল দু’টার পর তারা সেখানে যেতেন। তারা দ্বিতীয় দিন সেখানে যান। এর কার্য পদ্ধতি লক্ষ্য করেন নিরবে বসে। রিক্রটিং সেন্টারের প্রহরার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ও তা রক্ষণাবেক্ষণের পরিচালক ছিলেন একজন আনসার কমান্ডার। ঐদিন খালেকদাদ চৌধুরী বসে বসে যখন রিক্রটিং এর কাজ দেখছেন এমন সময় প্রহরারত আনসার কমান্ডার (যিনি তার পূর্ব পরিচিত এবং একজন ভাল নাম করা ফুটবল খেলোয়ার ছিলেন। বাড়ী ধরমপাশা। নেত্রকোণা মোহামেডাম টিমের সদস্য ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও সৈনিক ছিলেন। লোকটি খুবই বিশ্বস্ত এবং কর্তব্য পরায়ন) খালেকদাদ চৌধুরীর কাছে এসে কানে কানে বললেন যে, হাজতে বন্দী একটি ছেলে চৌধুরীর সাথে দেখা করতে চায়। সে নাকি উনাকে চেনে। জনাব চৌধুরী রিক্রটিং এর কাজ শেষ হওয়ার পর তাকে দেখবার কথা বলেন। এখানে যে একটি হাজত খানা আছে এবং বন্দীদের যে সেখানেই রাখা হয় তা খালেকদাদ চৌধুরী এই প্রথম জানতে পারেন এবং শুনে আশ্চর্য হন। চারটায় রিক্রটিং এর কাজ শেষ হতেই সভায় যাওয়ার জন্য সেখান থেকে চলে যান । দর্শণপ্রার্থী যুবকটির কথা মনেই হয়নি। ভিতরের বড় হলটি ছিল ধৃত শত্রু বা সন্দেহ ভাজন ও দালাল বলে কুখ্যাত বন্দীর হাজত খানা। বেশ কিছুদিন পর পর বিচারের জন্য এদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো বিএসএফ ক্যাম্পে। এখানেই সেই ঘরের সামনে সপ্তাহে একটি নির্ধারিত দিনে বাজার ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির বৈঠক বসত। নেত্রকোণা মহকুমা ও সুনামগঞ্জ মহকুমার হাওড় ও মুক্তাঞ্চলে অবস্থিত হাট-বাজারগুলি ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রাধীন ছিল। সেখানকার স্থানীয় লোকেরা বাজার ডাকের নির্দিষ্ট দিনে এখানে এসে উপস্থিত হতো। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তা নীলামে বিক্রী করা হতো। সর্বোচচ বিডারকে সে সপ্তাহেই সেই নির্দিষ্ট হাট-বাজারের টোল তোলা বা আদায়ের বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে তারা নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে দেয়। ইয়্যুথ ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের খরচের বেশীর ভাগই বাজারের এই আয় থেকে করা হয়। এছাড়া আওয়ামীলীগের কর্মীরা মুক্ত এলাকার নিজ নিজ থানায় ঘুরে ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ করে এনে এখানকার অফিসে জমা দিয়ে যেতো। তাও ছিল বেশ আশাপ্রদ এবং তা ক্যাম্প পরিচালনার কাজে ব্যয় হতো। এগুলিই ছিল ইয়্যুথ ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের ব্যয় নির্বাহের অন্যতম প্রধান সহায়ক। খালেকদাদ চৌধুরী দু’দিন পর আবার সেখানে যান। কাজ শেষে চারটার দিকে ফিরে যাবার জন্য উঠবার উপক্রম করতেই আনসার কমান্ডার খালেকদাদ চৌধুরীকে সেদিনের যুবকটির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। খালেকদাদ চৌধুরী অন্যদের একটু অপেক্ষা করতে বলে দাঁড়ান। পাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। যুবকটি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। খালেকদাদ চৌধুরী ব্যাপার কি জানতে চান। কান্না জড়িত কন্ঠেই তার পরিচয় দিয়ে বলে যে, সে আটপাড়া থানার একজন অধিবাসী। নুরী সাহেব তাকে ধরিয়ে এনে এখানে বন্দী করে রেখেছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে যে, সে নাকি একজন দালালের ছেলে এবং নেত্রকোণা ব্যাঙ্ক লুটের অনেক টাকা নাকি তার কাছে আছে এবং তার গ্রামেরই আর একটি ছেলেকে খুন করেছে। সে খালেকদাদ চৌধুরীকে চেনে। যে পরিচয় সে দিল তাতে জনাব খালেকদাদ চৌধুরী তাকে চিনলেন। তার বাবাকে ভাল করেই চেনেন। এদের সঙ্গে গ্রাম্য দলাদলিতে নিহত সেই ছেলের বাবা ছিলো তার বাবার প্রতিদ্বন্ধী। তবে খুনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল কি না জানা ছিল না। বিষয়টি সম্বন্ধে ভালো করে জানবার চেষ্টা করার কথা বলে বিদায় হতে যাবেন এমন সময় আর একটি লোক (গাল ভরা দাঁড়ি) খালেকদাদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে চায়। সেও জনাব চৌধুরীকে চেনে। তাকে পূর্বেও দু’একবার দেখেছেন। কিন্ত তখন তার দাঁড়ি ছিল না। সে জনাব চৌধুরীদের গ্রামের তার এক প্রতিবেশী আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়। সেই নাকি এই ক্যাম্প খোলার সময় থেকে একজন মুক্তিফৌজ হিসাবে আসে এবং এ পর্যন্ত অনেক কাজ তাকে করতে হয়েছে ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা ও তার পরিচালনার কাজে সাহায্য করার জন্য। আন্তরিকভাবে ও সততার সঙ্গে সে তা করেছে। কিন্তু কিছু দিন আগে তাকে নিরস্ত্র করে বন্দী করে রাখা হয়েছে। নুরী সাহেবের কাছে বিষয়টি জানবার কথা বলে বিদায় নিতে গেলে একটি বাড়ীর কথা উল্লেখ করে বললো যে, সেখানে তার মা আছেন। তাকে দেখে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। দু’তিন দিন পর তার মার সঙ্গে দেখা করে যে কথা শুনলেন তা সহজে বিশ্বাস করতে পারলেন না। তবু রাতে শুবার সময় ডাক্তার সাহেবের (ডাঃ আকলাকুল হোসেন আহমেদ) কাছে ব্যাপারটা জানতে চাইলেন। তিনি যে কথা বললেন তা আনসার কমান্ডারের মার কথার সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করে তাকে এ ব্যাপারে কিছু করা দরকার বলে মত প্রকাশ করায় তিনি বললেন যে, এ ব্যাপারে তিনিও চিন্তা ভাবনা করছেন এবং সেখানে যে সব অবাঞ্চিত ব্যাপার ঘটেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিলেন এবং এসব ভেবেই জনাব খালেকদাদ চৌধুরীকে আনার জন্য তিনি তার ভাতিজা বুলবুলকে পাঠিয়েছিলেন। নেতৃস্থানীয় আরো কয়েকজন এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছেন। এরপর ডাঃ আকলাকুল হোসেন আহমেদ বললেন যে, খালেকদাদ চৌধুরীসহ অন্যান্যরা আসায় তারা এখন এসব বন্ধ করার চেষ্টা নেবেন । ক্যাম্প কমিটির অনেকের মতও তাই। বেশ কিছুদিন পর ক্যাপ্টেন চৌহান একদিন এখানে এসে যান। তারা পরামর্শ করলেন যে, বাংলাদেশের অনেক লোককে দালালী ও লুটতরাজের অজুহাতে বন্দী করে রাখা হয়েছে এবং এর সংখ্যা বর্তমানে কমে এলেও একেবারে বন্ধ হয়নি। এদিকে হাজতেও স্থান সংকুলান হচেছ না। যখনই এরূপ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ,তখনই বন্দী কিছু লোককে বিএসএফ এর হাতে বিচারের নামে সোপর্দ করে দেওয়া হতো। এরা ফিরে আসেনি কোনদিন। তবে সবার ধারণা যে, ওদের হত্যা করা হয়েছে।
মহেষখলা ক্যাম্পে ট্রাইবুনাল তথা আদালত গঠনের বিষয়ে ক্যাপ্টেন চৌহানের সাথে বৈঠক
তখন আলোচনা করে সিদ্বান্ত নেওয়া হলো যে, ক্যাপ্টেন চৌহানকে সবাই মিলে অনুরোধ করে বন্দীদের বিএসএফ-এর নিকট পাঠানোর আগে এদের সম্বন্ধে সত্যাসত্য জানবার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হবে। সেইদিনই বিকালে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে তারা ক’জন দেখা করেন। ডাঃ সাহেব, হেকিম চৌধুরী এবং আরও কয়েকজন তাতে প্রস্তাব জানালে ক্যাপ্টেন অল্পক্ষণ চিন্তা করেই বললেন যে, শুধু অনুসন্ধান নয় আপনারা এক কাজ করুন, একটি ট্রাইবুনাল গঠন করে তাদের বিচার সেই ট্রাইবুনালেই করবেন এবং আপনাদের রায়ই হবে চুড়ান্ত। এর মধ্যেই আপনারা ট্রাইবুনাল গঠন করে আমাকে(ক্যাপ্টেনকে) লিখিতভাবে জানান। আমি(ক্যাপ্টেনকে) তা অনুমোদন করব। এরপর আরো কিছুক্ষণ অন্যান্য ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করে তারা বিদায় হন। পরদিন ক্যাম্প কমিটির সদস্যদের এক সভা আহবান করা হয়, ট্রাইবুনাল গঠনের ব্যাপারে। একজন সদস্য মোহনগঞ্জের আওয়ামীলীগের সম্পাদক আঃ কদ্দুছ ট্রাইবুনালের সদস্য হিসেবে ডাঃ আখলাক হোসেন, আঃ হেকিম চৌধুরী ও খালেকদাদ চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন। ছাতকের এমপি শামসু মিয়া ও আরও একজন সদস্য তা সমর্থন করেন। সভায় কিছুক্ষণ নিরবতা অবলম্বন করে এক সময় হেকিম সাহেব বলেন, তিনি একাই ট্রাইবুনালের কাজ চালাবেন। সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সদস্যরা আপত্তি করে। একজন তো বলেই ফেলে যে, এতবড় দায়িত্বপূর্ণ কাজ যাতে একটি লোকের জীবন মরণের প্রশ্ন তা একজনের উপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। তা ছাড়া ট্রাইবুনালের অর্থই হলো তিনজন নিয়ে গঠিত বিচারক মন্ডলী। তবুও হেকিম সাহেব তর্ক জুড়ে দেন। তখন সবাই এক বাক্যে প্রস্তাবের সমর্থন করায় তিনি চুপ করে যান। শেষটায় সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব হয় যে, ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যানই পদাধিকার বলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান থাকবেন। এই প্রস্তাব করা হলে তাও যথারীতি সমর্থিত হয় ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
মহেষখলা ক্যাম্পে ট্রাইব্যুনালের প্রথম অধিবেশন
ট্রাইব্যুনালের প্রথম অধিবেশনের দিন ধার্য্য করা হয় এবং ক্যাম্প কমিটির অফিসেই তা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে অফিসের দ্বিতীয় ঘরে প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাইব্যুনালের অধিবেশন বসে। প্রথমেই হাজতে বন্ধীদের তালিকা প্রস্তত করা হয়। তাতে নাম,ঠিকানা, গ্রেফতারের কারণ ও তারিখ উল্লেখ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ প্রস্ততির পরই ৩ জন বন্দীকে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে সাহায্য আনার সুযোগে নাকি তারা লুট করেছে। এই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ । এরই জন্য এদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। যার নির্দেশে তাদের বন্ধী করা হয় তিনি সেকান্দর নুরী, সেখানে নেই, সাক্ষীও নেই কেউ। তাদের মহেষখলাতেই অবস্থান করতে এবং ক্যাম্পে অন্য তিনজন সদস্যের নিকট থাকতে বলা হয়। তাদেরকে তাদের অভিযোগ থেকে প্রমাণের অভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তী কেসের আসামীকে হাজির করা হয়। বাদী সেকান্দর নুরী অনুপস্থিত। বাদীর বাড়ী আটপাড়া থানায়। অভিযোগ, সে এলাকায় লুটতরাজ করে এবং একজন লোককে হত্যা করেছে। জিজ্ঞেসিত হয়ে আসামী বলে যে, লুট সে করেনি মোটেই। তবে খুনের কথা সে অকপটে স্বীকার করে বলে যে, সে এসেছিল মুক্তিবাহিনীতে ভর্তি হতে। সেকান্দর সাহেব তাকে আটপাড়া থানার তিনটি দালাল খুন করার জন্য বলে এবং তাতে কৃতকার্য হলে তার পুরস্কার হিসাবে তাকে মুক্তিফৌজে ভর্তি করা হবে। তার উল্লেখিত তিনজন দালালের মধ্যে সবাইকে খালেকদাদ চৌধুরী চেনেন, বিশেষ করে হেদায়েত উল্লা ও মুজিবর রহমান এ-দু’জন রাজকারদের নেতা, নেত্রকোণা শহরে পাকিস্তানীদের সাহায্যে জনগণের উপর অকথ্য উৎপীড়ন চালাচেছ। প্রাইমারী শিক্ষকটি নুরীর প্রতিবেশী। তার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শত্রুতা। লোকটি দালাল ছিল না বরং অন্যান্য প্রাইমারী শিক্ষকদের মত ছিল অসহযোগী ও মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে। বিষয়টি খালেকদাদ চৌধুরীরও জানা ছিল। তাকে কঠোর শাস্তি দেয়ার কথা বললে তৎক্ষণাৎ সে বলে যে, আপনারা এই মুহূর্তে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুন। আমি একটুকুও কষ্ট পাব না। কিন্ত নুরীর (যার বিরুদ্ধে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা,নির্যাতন,র্ধষন ও লুটের অভিযোগ ছিল।) হাতে আমাকে ছেড়ে দিবেন না। তার বিরুদ্ধেও কোন সাক্ষী প্রমাণ নেই। তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং সেদিনই মহিষখলা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।“
মহেষখলা ক্যাম্পে ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে জটিল অধিবেশন :
এমনিভাবে বিচার চলাকালে খালেকদাদ চৌধুরী মাঝে মাঝে কয়েকজন লোককে ট্রাইব্যুনাল ঘরের সামনে দেখতে পান ঘোরা ফেরা করতে। ওরা এসে হেকিম চৌধুরী সাহেবের কাছে কি নিয়ে যেন আলাপ করে। মাঝে মাঝে ওরা উঠে গিয়ে ঘরের ভিতর তাদের(খালেকদাদ চৌধুরীদের) দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে। মনে হয় কি যেন ওরা কিছু বলতে চায়। কিন্তু সাহস করে বলতে পারে না। খালেকদাদ চৌধুরীর মনে কেমন যেন একটা সন্দেহ দানা বেঁধে উঠে। এদের মধ্যে একজন তার কাছে পরিচিত বলে মনে হয়। একদিন হেকিম চৌধুরী সাহেবকে খালেকদাদ চৌধুরী জিজ্ঞেস করেন, ওরা কারা ? কোথাকার লোক ? ওরা এত ঘন ঘনই বা আসে কেন ? জবাবে তিনি বলেন যে, তাদের একটা কেস আছে এবং এজন্য তারা আসে। খালেকদাদ চৌধুরী জিজ্ঞেস করেন, কেস তালিকায় আছে ? তিনি জানান যে আছে। তা হলে ওদের কেসটা শেষ করে দেন না কেন ? তিনি বললেন যে, ওদের কেসটা খুব জটিল এবং দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ। আমি বললাম হোক না। কেসটা শুরু করলে তো ব্যাপারটা পরিস্কার হয় এবং রায়ও দেওয়া যায়। ওদের এই আসা যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। তবু তিনি বলেন যে, শেষের দিকে এ কেসটা ধরা যাবে। খালেকদাদ চৌধুরী চুপ করে গেলেন। সেদিন রাতে খালেকদাদ চৌধুরী ডাঃ আখলাক সাহেবের কাছে ব্যাপারটা কি জানতে চাইলে তিনি সব কথা খুলে বললেন। ডাঃ সাহেব বলেন, এর পিছনে এক বিরাট রহস্য ও চক্রান্ত রয়েছে। চৌধুরী সাহেব নিজেও সে জটিলতায় জড়িত। তাই এই দীর্ঘ সূত্রিতা। খালেকদাদ চৌধুরী ডাঃ সাহেবকে বললেন, চলুন না আমরা এদের কেসটা ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য তারিখ নির্ধারণ করি। তিনি তাতে কেবল সম্মত নন খুব তাড়াতাড়ি তা শুরু করবার জন্য জোরও দেন। একমত হয়ে পরদিন ট্রাইব্যুনালে বসেই খালেকদাদ চৌধুরী এই কেসটার জন্য তারিখ নির্ধারণের কথা উঠান। হেকিম চৌধুরী সাহেব আবারও জটিলতার কথা তুলে তা আরো পরে শুরু করবার জন্য মত প্রকাশ করেন। তারা দু’জন তাকে অনেক বুঝান। অনেক কথাকাটির পর তারা দু’জন একমত হয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করায় শেষটায় হেকীম চৌধুরী সাহেব রাজী হন। সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে কেসটা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিনও হাফেজ মতিয়র রহমান চৌধুরীসহ সেই লোকগুলো এসেছিল। ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ হওয়ার পর খালেকদাদ চৌধুরী তাদের ঘরে ফিরে যান । খাবার পর বিশ্রামের জন্য খালেকদাদ চৌধুরী যখন শুয়ে আছেন, এমন সময় সেই লোকদের তিনজন খালেকদাদ চৌধুরীর কাছে আসেন। তিনি ওদেরকে ভিতরে ডাকেন। এদের একজনকে(হাফেজ মতিয়র রহমান চৌধুরী) তিনি যেন পূর্বেই কোথাও দেখেছেন। তাই তাদের বাড়ী কোথায়,ব্যাপার কি জানতে চান। লোকটি তথা মধ্যনগর থানা ও দুগনৈ গ্রাম মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের সদস্য মেহের আলীর সমন্ধী মতিয়ুর রহমান চৌধুরী যেন সাহস ফিরে পায় এবং বলে যে, সে খালেকদাদ চৌধুরীকে চেনে। সুনামগঞ্জে চাকুরী করার সময় খালেকদাদ চৌধুরীকে দেখেছে এবং কার্যোপলক্ষে একবার তাদের গ্রামেও গিয়েছিলেন। সেখানেও খালেকদাদ চৌধুরীকে দেখেছে। দিত্বীয়বার জনাব খালেকদাদ চৌধুরী সেখানে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর নিহতের পর ঈদুল ফিতরের সপ্তাহ খানেক আগে খালেকদাদ চৌধুরী ও আরো কয়েকজন ঈদ উদযাপনের জন্য নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে জনাব মেহের আলীর শ্বশুরের বাড়ীতে দুগনৈ গ্রামে যান । মধ্যনগর থানা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আকিকুর রেজা জনাব চৌধুরীকে মেহের আলীর শ্বশুরের বাড়ী লুটের ঘটনাটি খুলে বলেন। উনাকে বলেন, কিভাবে তাদের বাড়ীর ও এলাকার মেয়েদেরকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা খাওয়া ও সার্বিকভাবে সহায়তা করার অপরাধে কিভাবে তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এরই মধ্যে জনাব খালেকদাদ চৌধুরীর উপস্থিতির কথা জানতে পেরে শত শত লোক জনাব মেহের আলীর শ্বশুরের বাড়ীতে হাজির হয়। তারা তাদের প্রিয় নেতা মেহের আলীর হত্যার বিচার চায় এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করে। জনাব চৌধুরী তাদের কথা ধৈর্য্য সহকারে শুনেন এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। জনাব চৌধুরী মেহের আলীর শ্বশুরের পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ দুগনৈ গ্রামের এলাকাবাসীর প্রতি মুক্তিযোদ্ধারের থাকা খাওয়া ও ক্যাম্প পরিচালনায় বিভিন্ন ভাবে সহায়তার জন্যে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, আপনাদের অবদান জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। তাদের লুট হয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের জন্যে তিনি সরবাত্তক চেষ্টা করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। পরবর্তীতে খালেকদাদ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে মহেষখলা ক্যাম্পের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডাঃ আখলাক হোসেন, আব্দুল হেকিম চৌধুরীর সাথে কথা বলেন।
লোকটি তথা হাফেজ মোঃ মতিয়ুর রহমান চৌধুরী বলে যে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার পর একদিন ক’জন সশস্ত্র লোক (আনসার) ওদের এখানে যায় এবং তাদের ক্যাম্পের জন্য জিনিসপত্র দিতে বলে। তারা ভয় পেয়ে একশো মণ ধান দিয়ে দেয় এবং নিজেদের নৌকায় তা ক্যাম্পে পৌঁছিয়ে দেয়। তার সপ্তাহ দু’এক পর আরো বেশী সশস্ত্র লোক নিয়ে তাদের বাড়ী ঘেরাও করে এবং ধান চাল গরু ছাগল এবং বাড়ীর সমস্ত জিনিস আসবাবপত্র এক কথায় বাড়ীতে যা ছিলো সব নিয়ে যায়। তারা সঙ্গে এনেছিল বেশ কয়েকটি বড় নৌকা। প্রচুর ধান, কয়েকটি গরু, একটি বড় ষাঁড়সহ বাড়ীর যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে যায়। বাড়ীতে ঢুকেই আমাদের হাত পা বেঁধে ফেলে। ইতিমধ্যে বাড়ীর সমস্ত জিনিসপত্র নৌকায় বোঝাই করে বিকেলের দিকে তারা চলে যায়। গ্রামের লোকজন ভয়ে আগেই পালিয়ে যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী ছিলেন আওয়ামীলীগের একজন অত্যন্ত সৎ ও নির্ভীক কর্মী এবং নেত্রকোনা মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য, মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা, নেত্রকোণা মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন), জেলা শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নেত্রকোণা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম স্থপতি, মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার প্রধান উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক এবং জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক’৭১পর্যন্ত।(ষাটের দশকে ছাত্রদের পর শ্রমিক ও কৃষক গোষ্ঠী সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এই দুটি গোষ্ঠী নেত্রকোণায় স্বাধিকার আন্দোলন,সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।) বঙ্গবন্ধুর ডাকে তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে ভারতের মহেশখলা যাওয়ার পথে মধ্যনগর থানার দুগনৈ গ্রামে তাঁর শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মধ্যনগর সহ আশপাশের এলাকার ছাত্র যুবকদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করবার জন্য। ভারতের মহেষখলা ইউথ ক্যাম্প, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প এবং শরণার্থী শিবিরে তাঁর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। মহেষখলাতে মুক্তিযোদ্ধা ও ইয়ুথ ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি তিনি মধ্যনগর থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের ছাত্র, যুব ও সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের জন্যে সংগঠিত করেন এবং ধান, চাল সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ক্যাম্পে সরবরাহের ব্যবস্থা করেন যা কিনা যুদ্ধের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রসদ। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একমাত্র শহীদ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অন্যতম (সরকার নির্ধারিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী) যিনি বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৭ই মে মহেষখলা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন কালে আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন । মেহের আলী নিহত হওয়ার পরপরই মহেষখলাতে জয় বাংলা বাহিনীর নেত্রকোনা শাখার প্রধান,কোম্পানী কমান্ডার,জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি,সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, নেত্রকোণা জেলা- সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা ও মোহনগঞ্জের আমীর উদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করে হত্যা করার জন্য। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে যান। উল্লেখ্য যে,মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে, জাতীয় প্রয়োজনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহার নেতৃত্বে বীরমুক্তিযোদ্ধা বুলবুল ইপিআর সদস্যসহ অন্যান্যদরকে নিয়ে পুলিশের অস্ত্রাগার ও নেত্রকোণার ন্যাশনাল ব্যাংকের volt ভেঙ্গে টাকা পয়সা , সোনা সংগ্রহ করেন যে ঘটনাটি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা আছে। কিন্তু নেত্রকোণাবাসী শহীদ মেহের আলী-র হত্যাকারীদের ক্ষমা করেননি। স্বাধীনতা লাভের অল্প কয়েকদিন পর তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে সেইসব ঘাতকদের জনসম্মুখে হত্যা করা হয়েছিলো। জনাব খালেকদাদ চৌধুরী তার অমরগ্রন্থ “শতাব্দীর দুই দিগন্ত “ বইটিতে জনাব মেহের আলী সম্পর্কে লিখেছেন: ”মেহের আলী আমাদের লোক। তিনি আওয়ামীলীগের একজন অত্যন্ত সৎ ও নির্ভীক কর্মী। মৃত্যুকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও নেত্রকোনা মু্ক্তিসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য,জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। যদি আগামীতে সময় ও সুযোগ পাই তবে তাকে অবলম্বন করে একটা উপন্যাস লেখার ইচছা রইল।“
জনাব খালেকদাদ চৌধুরী মতিয়ুর রহমান চৌধুরীর কাছে জানতে চান এখন তারা কি চায় । তারা বলে যে, খালেকদাদ চৌধুরীকে দেখার পর থেকেই এবং তাদের ন্যায় বিচারের ধারা দেখে আশা হয়েছে যে, তারাও তাদের ব্যাপারে সুবিচার পাবে। বর্তমানে তারা মেহের আলী হত্যার বিচার ও তাদের জিনিসপত্র ফেরত নিতে চান। তা পেলেই তারা কৃতার্থ হবেন। জনাব খালেকদাদ চৌধুরী মতিয়ুর রহমান চৌধুরীকে, পরের দিন তাদের কেসের তারিখ জানিয়ে দেবেন বলে বিদায় করেন। সেদিন সেখান থেকে পরদিন ৯টা দশটার দিকে বিচারের তারিখ জেনে যেতে বলেন। মতিয়ুর রহমান চৌধুরী বলে যে, না তাদের থাকা সম্ভব নয়। কাল সকালে তারা আবার আসবে। তাদের বাড়ী দুগনই গ্রামে। এখান থেকে নৌকা পথে দু’ঘন্টার রাস্তা। সন্ধ্যার আগেই তারা বাড়ী ফিরে যাবে। চার দাঁড়ের নৌকা দ্রুত বেয়ে তারা এখানে আসা যাওয়া করে। ওরা চলে যাওয়ার পরই জনাব খালেকদাদ চৌধুরী ডাঃ সাহেবকে ডাকেন। তিনি ঘুমিয়েছিলেন। তাকে ওদের কথা সব বলেন । এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেন যে. কালই ওদের কেসের তারিখ দেবেন। হেকিম সাহেবকেও রাজী করাবেন। এরপর তারা তাদের দৈনন্দিন কাজে সন্ধ্যার পরই অফিসে হাজির হন। অফিসের কাজ সেরে রাত দশটা পর্যন্ত হেকিম চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে ওদের কেসের তারিখ নির্ধারণের ব্যাপারে আলোচনা করেন। প্রথমদিকে তিনি নানা অসুবিধার কথা বলে তারিখ আরো পরে নির্ধারণের কথা জোর দিয়ে বলতে থাকেন। তাতে তারাও(খালেকদাদ চৌধুরী , ডাঃ সাহেব) তাদের মতে দৃঢ় থাকেন এবং শেষটায় তাকে বুঝাতে সমর্থ হন যে, ব্যাপারটা যতই দেরী হবে ততই তাদের ন্যায় নীতি এবং সততার প্রতি তাদের কর্মী ও সদস্যসহ বহু লোকের মন সন্ধিগ্ধ হবে। সাতদিনের মধ্যে কেসের তারিখ নির্ধারণ করেন। পরদিন সকাল আটটায় অফিসে খালেকদাদ চৌধুরী যান। দশটায় ট্রাইব্যুনালে বসেন। ইতিমধ্যে ওরাও(মতিয়ুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যরা) এসে গেছে। তিনি তাদের ডেকে বিচারের তারিখ জানিয়ে দেন এবং সেই দিন ঠিক দশটায় হাজির হতে নির্দেশ দেন এবং তাদের জিনিসপত্রের লিস্ট দিতে বলেন। তারা জানায়, একপ্রস্থ লিস্ট ক্যাম্প অফিসেও আছে। সেটা দেখেই সে অনুযায়ী রায় দিন। আমরা আপনাদের সে রায়ই মেনে নেব। ওরা বিদায় হলে হেকিম চৌধুরী সাহেবকে সে তালিকায় উল্লেখিত সমস্ত জিনিস ঐদিন অফিসে এনে জমা রাখতে বলেন। হেকিম চৌধুরী জানান যে, জিনিসগুলো সেকান্দর নুরীর বাসগৃহে রয়েছে। লিস্টও তার কাছে । তবে এক কপি তার নিজের কাছেও আছে। নির্ধারিত তারিখের দু’দিন আগেই লিষ্ট অনুযায়ী সমস্ত জিনিসপত্র আমাদের কার্যালয়ের সামনের খোলা জায়গায় জমা করা হয়। এ ব্যাপারে পুরো দু’দিন লেগে যায়। জিনিসপত্রের সংখ্যা দেখে সবাই তাজ্জব বনে যায়। এত জিনিসপত্র যে গ্রামাঞ্চলের কোন অবস্থাসম্পন্ন গৃহস্থের বাড়ীতে থাকতে পারে তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বড় থেকে সাইজ করে সাজানো ২৮টি তামার ও এলুমিনিয়াসের ডেকচি, ৯টি বড় বড় ষ্টীল ট্রাঙ্ক ভর্তি কাপড় চোপড় ( বেশীরভাগ শাড়ী, ব্লাউজ, ওড়না)। যার অধিকাংশই সিল্ক, নাইলন ও টিসুর সূতী বস্ত্রাদিও প্রচুর। তাছাড়া কাসা, চীনা মাটির থালা-বাটি ও অন্যান্যবাসনের সেট, বেশ কয়েকটি দামী ঘড়ি ও ঝর্না কলম, আরো অনেক কিছু । যা শহরের বিত্তবান পরিবারেও বিরল। নির্ধারিত দিনে ওরা(মতিয়ুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যরা) এলো। দুপুর দুটা থেকে তাদের মালামাল তালিকা মিলিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে শুরু করেন। ৪টার দিকে খালেকদাদ চৌধুরী স্নান খাওয়া সারতে চলে যান। পরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত একটা পর্যন্ত সব কিছু ফেরৎ দেওয়ার কাজ শেষ হলে তারা রশিদ দিয়ে তা নিয়ে যায়। কাজ শেষে তারা তাদের সব জিনিস পেয়েছে কি না জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নীরব থেকে মাতব্বর লোকটি তথা মতিয়ুর রহমান চৌধুরী বলে যে, যা পেয়েছে তাতেই তারা খুশী। আরো বলে যে, আপনারা আসাতে এবং একাজে তদারক করাতেই তারা তা পেয়েছে নচেৎ তারা এসবের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো। তবে একটা জিনিস শুধু পেল না। সেটা পেলেই তারা সবচেয়ে বেশী খুশী হতো। সেটা কি জানতে চাইলে খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলে যে, মেয়েদের একটি হাত ঘড়ি। ঘড়িটি মেহের আলীর স্ত্রীর। মেহের আলী তার স্ত্রীকে বিয়েতে উপহার দিয়েছিল। আমি বলি যে, যা লিষ্টে পেয়েছি তার সবই দিয়েছি। কিন্তু এ রকম ঘড়িতো লিষ্টে নেই। যাক, তবে ঘড়িটি যে আছে তারা তা জানে । বোঝা গেল বলতে সাহস পাচ্ছে না। পরিষেশে মতিয়ুর রহমান চৌধুরী, মেহের আলীর হত্যার বিচার ও তার পরিবারের জন্য কিছু করার অনুরোধ করেন। এরপর তারা আর কিছু না বলে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিনিসপত্র তাদের নৌকায় তুলতে শুরু করে। ট্রাইবুনালের সদস্যরাও উঠে পড়েন। “
জুলাই থেকে ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী ব্যাপকভাবে আসতে শুরু করে। পূর্বেও এসেছে। তবে এত ব্যাপকভাবে নয়। ওরা সাধারণত দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, নাজিরপুর এবং বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর ঘাঁটি তাদের চলাচলের উপর আক্রমণে ছিলো সীমাবদ্ধ। এ সময় নৌকা চলার পথ সুগম হওয়ায় এবং পানিতে ভরে যাওয়ায় মুক্তিবাহিনীর কোম্পানীগুলোকে সুনামগঞ্জ মহকুমা এবং ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন স্থানে ও ময়মনসিংহ সদরের কোন কোন স্থানে আক্রমণ পরিচালনার জন্য প্রেরিত হতে থাকে।কোম্পানীগুলি মহিষখলা এসে পৌঁছার পরই ক্যাম্প কমিটি সেখানে নৌকা যোগাড় করে তাদের দেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে এই বিরাট হাওর এলাকার সবটাই মুক্ত এলাকা ছিল এবং তখন থেকে মুক্তিবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। এসব কোম্পানীগুলি নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের তৎপরতা চালায়। কলমাকান্দা, বারহাট্টা, ধরমপাশা, মোহনগঞ্জ, আটপাড়া, মদন, খালিয়াজুরী, ইটনা, তাড়াইল, নিখলী, করিমগঞ্জ, অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, নান্দাইল, কেন্দুয়া, দিরাই প্রভৃতি থানার পাক সেনাদের ঘাটিগুলি ছিল এদের লক্ষ্যস্থল। সুযোগ মতো এসব ঘাটিতে আকস্মিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে শত্রুদের থানা প্রাঙ্গণেই আটকে রাখে। থানার বাইরে বেরুবার দু:সাহস ওদের হতো না। কোনদিন বের হলেই অতর্কিত আক্রমণের শিকার হতে হতো। কোন কোন স্থানে খন্ড যুদ্ধও হয়েছে। সবখানেই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মার খেয়েছে ভীষণভাবে।
জনাব খালেকদাদ চৌধুরী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সর্ব জনাব ডাঃ আখলাক হোসেন এম.পি, কে.এম ফজলুল কাদের এডভোকেট, মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান, আব্দুল কদ্দুছ আজাদ, নুরুজ্জামান চিশতী,ইনসান উদ্দিন খান ও ডাঃ জগদীশ দত্তদের নিয়ে মহিষখলা ক্যাম্পের যাবতীয় কর্মকান্ড অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীকে হত্যা এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহাকে হত্যা করার জন্য গ্রেফতারের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি নেতৃস্থানীয় ভুমিকা পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে জনাব খালেকদাদ চৌধুরীর অবদান জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।
-
অধ্যাপক ননী গোপাল সরকারের প্রবন্ধসমূহ:
নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতি লোককবি নগেন সরকার
একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক ভাষা সৈনিক সানাউল্লাহ নূরী
বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম খান (এন আই খান)
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মো. ফজলুর রহমান খান
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম ফজলুল কাদের
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাছ আলী খান
অগ্নিযুগের সূর্য সৈনিকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী
স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী
- স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (পর্ব-১)
- স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (পর্ব-২)
- স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (পর্ব-৩)
- স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (পর্ব-৪)
- স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (শেষ পর্ব)
তথ্যসুত্রঃ
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
- সরকার ,অধ্যাপক ননী গোপাল “শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনা ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
- ইন্জিনীয়ার এম কে জামান “শহীদ বুদ্ধিজীবি নেত্রকোনা ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
- চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
- চৌধুরী, হায়দার জাহান “ মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা” ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
- হাসান, প্রধান বিচারপতি জনাব ওবায়দুল(এপ্রিল ২০২৩),” মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প, মুক্তিযুদ্ধে মোহনগন্জ :মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প ও ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ”, পৃষ্ঠা ১০১-১০৩
- Khan, Fazlur Rahman Khan (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- Kalamia, Islam Uddin (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- Ahmed, Sadir Uddin (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- Rahman, Golam Arshadur (1997). Muktisangrame Netrakona (in Bengali). Dhaka
- Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
- Khan, Ashraf Ali Khan Khoshru (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
- Kader, A K Fazlul Kader (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- Uddin, Hadis (2021). Ashomapta Golpa (in Bengali). Dhaka: Anirban Printing and Publications.
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” ভাষা সৈনিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৯
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস“
- আহমদ, ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দীন (২০২২)। অসমাপ্ত গল্প। ঢাকা: অনির্বান পাবলিকেসন্স। পৃ. ২, ১২।
- মোতালিব ,ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২৬-২৯
- বিশ্বাস, সাংবাদিক প্রিয়ঙ্কর(২৩ ডিসেম্বর ২০২২), “মুক্তিযোদ্ধার আত্মকথা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:শামছুজ্জোহা, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৯৩-১০০
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
- Shamsusjuha, Md (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান(সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা ক্লাব) ,“মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী’র স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত” Rupashi TV, 19/05/2022 ,
- Haque, Muzzammel (6 April 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. Shoronika. 1: 2.
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামসুজ্জোহা (সভাপতি ,সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, নেত্রকোণা জেলা)“নানান কর্মসূচীতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী’র ৫১তম প্রয়ান দিবস পালন।“, Meghna TV , ,18/05/2022
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা 129-132
- Sarkar, Ashraf Ali (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
- Chowdhury, Khalekdad (1985). Shatabdir Dui Diganta (in Bengali). Dhaka.
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২),”নেত্রকোণায় বঙ্গবন্ধু”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৭৭-৮১
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(২৩ ডিসেম্বর ২০২২),”শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস”,আলোর পথে,পৃষ্ঠা ৬১-৬৪
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সপ্টেম্বের ২০২২),”শহীদ মহেরে আলী একটি নাম, একটি ইতহিাস”, মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা পৃষ্ঠা ২০২-২০৫
- চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতি ও ৭১’- র মুক্তিযুদ্ধ”, বিজয় একাত্তর বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৮২-৯২
- Momeen, Abdul Momeen (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
- Talukder, Nurul Amin (2021). Ashomapta Golpa (in Bengali). Dhaka: Anirban Printing and Publications.
- ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” বীর মুক্তিযোদ্ধা ইজাজ আহমেদ চৌধুরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ২৯
- আহমেদ, সামির “বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
- Khan, Motiur Rahman (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- আহমেদ, সামির “বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর(অব:) এম এ মোত্তালিব ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২০),”মুক্তিযুদ্ধের একনিষ্ঠ সংগঠক ডঃ আখলাক হোসেন আহমদ”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা ৬০-৭০
- Rahman, Anisur (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
- owahed, Abdul (6 April 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. Shoronika. 1: 2.
- প্যানেল মেয়র নজরল ইসলাম,“নেত্রকোণায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী সড়ক উদ্ভোধন”- MY TV, 05/05/2015
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মেয়র নজরল ইসলাম খান, ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আক্কাস আহমেদ(সভাপতি-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),,,“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান” দৈনিক একুশে নিউজ ২/১০/২০২৩
- অধ্যাপক অলিউল্লাহ,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান”,দৈনিক বাংলার অধিকার ১/১০/২০২৩
- দেবাশীয সরকার(সভাপতি -প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী(“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা প্রদান”, দৈনিক আলোকিত বরিশাল, ২/১০/২০২৩
- কবি সুমিত্র সুজন,“শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে নেত্রকোণায় বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও বিজয় স্তম্ভের দাবি”,উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ, ২/১০/২০২৩
- আবৃত্তিকার শিল্পী ভট্রাচার্য,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা -২০২২ প্রদান”, দৈনিক সবুজ বাংলা ,১/১০/২০২৩
