স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী (শেষ পর্ব)

অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান : বঙ্গবন্ধুর ডাকে তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। ২৭ মার্চ নেত্রকোণা আওয়ামী লীগ অফিসে নেত্রকোণার তৎকালীন মহকুমা আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মোঃ মেহের আলী নেত্রকোণায় মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। নেত্রকোণা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আটপাড়া মদন খালিয়াজুরী এলাকার এম.পি  খালেক সাহেবকে আহবায়ক করে নেত্রকোণা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সকল নির্বাচিত এম.এন.এ ও এম.পিগণ সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হন। তাছাড়া নেত্রকোণা পৌর চেয়ারম্যান এন আই খান,এডভোকেট ফজলুর রহমান খান,আব্দুল মজিদ তারা মিয়া, আব্বাছ আলী খানখালেকদাদ চৌধুরী,এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের,  মৌলানা ফজলুর রহমান খান, নুরু মিয়া,জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাফায়েত আহম্মদ খান,মোঃ শামছুজ্জোহা, গোলজার হোসেন,গোলাম এরশাদুর রহমানহায়দার জাহান চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হয় মহকুমা সংগ্রাম পরিষদ ।

মোঃ মেহের আলী মহেষখলা ক্যাম্প  পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্পপরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী ( নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা),  ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন  (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।   

মহেষখলা ক্যাম্পের আশ্রয় শিবিরে প্রায় দুই লাখের উপরে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। মহেষখলা আশ্রয় শিবির ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পটি পরিচালিত হতো সম্পূর্ণরূপে নেত্রকোণা মহকুমা ও সুনামগঞ্জ মহকুমার আওয়ামীলীগ নেতৃত্বদের দ্বারা,  ভারত সরকার বা আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা এর দায়িত্ব নেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প কমিটিই এটির সম্পূর্ণ পরিচালনার কাজ করতো। মুক্তিফৌজ রিক্রট করা (ভর্তি) এবং তাদের আশ্রয় ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এ ক্যাম্প কমিটি চালাতো। ট্রেনিং পরিচালনার প্রাথমিক ব্যবস্থা ও তাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানো (তুরাতে) এবং ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে ফিরে আসার পর ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল, সিলেটের পশ্চিমাঞ্চল অভ্যন্তরে আক্রমণ পরিচালনার জন্য নৌকা সংগ্রহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ সকল রকম দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করতো এখানকার এই ক্যাম্প কমিটি।নতুন ভর্তি করা মুক্তিফৌজদের ট্রেনিং সমাপ্তির পর প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা ক্যাম্প ছিলো। এখানেই তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ সংগ্রহ, রিক্রট ও দেশের অভ্যন্তরে যোদ্ধাদের প্রেরণ তাদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শরণার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপকমিটি গঠন করে বিভিন্ন সদস্যদের উপর ভার দেওয়া হতো। সে উপ কমিটিগুলো তাদের নির্বাচিত কার্য সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতো। ক্যাম্প কমিটি প্রতিদিনই একবার কাজ পরিদর্শন এবং তাদের কাজের সমন্বয় সাধন করতো। সে সব উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয় ।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে ভারতের মহেশখলা যাওয়ার পথে মধ্যনগর থানার দুগনৈ গ্রামে মোঃ মেহের আলী তাঁর শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মধ্যনগর সহ আশপাশএলাকার ছাত্র যুবকদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করবার জন্য। ভারতের মহেষখলা ইউথ ক্যাম্প, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প এবং শরণার্থী শিবিরে তাঁর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। মহেষখলাতে মুক্তিযোদ্ধা ও ইয়ুথ ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি তিনি মধ্যনগর থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের ছাত্র, যুব ও সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের জন্যে সংগঠিত করেন এবং ধান, চাল সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ক্যাম্পে সরবরাহের ব্যবস্থা করেন যা কিনা যুদ্ধের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রসদ। মেহের আলীর শ্বশুড়ের পরিবারটি অত্র অঞ্চলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ধনী ছিলেন। সেই সুবাদে জনাব মেহের আলী মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই ঐ সব অঞ্চলের ছাত্র ও যুব সমাজকে স্বাধীকাার আন্দোলনে উদ্ভুদ্ধ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতেন। মেহের আলী  মোঃ আকিকুর রেজাকে সভাপতি ও জনাব আব্দুল আওয়ালকে সাধারণ সম্পাদক  করে মধ্যনগর থানায় প্রথম দুর্গনৈ গ্রামের সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন।  পরবর্তীতে জনাব মেহের আলী  ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে  জনাব আকিকুর রেজা ভূঁইয়া (পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন উর্ধতন আমলা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন) ও আব্দুল আওয়ালকে সহ-সভাপতি (পরবর্তীতে যিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের এক নম্বর  সহ-সভাপতি ও ধর্মপাশা উপজেলার ২ বারের সফল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন) ও বাদল চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মধ্যনগর থানা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন এবং তাদেরকে নিয়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গেছেন স্থানীয় জনতাকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে।

১৯৭১ সালের এপ্রিল – মেজর মোত্তালিব (পরবর্তীতে যিনি সাব সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন), ও ক্যাপটেন গণীর নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন ই.পি.আর সদস্য দুগনৈ গ্রামে আসেন এবং দু’দিন এখানে অবস্থান করেন। জনাব মেহের আলী সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে জনাব মেহের আলীর শ্বশুর মোঃ রহমত আলীর বাড়ীতে তাদের থাকা খাওয়ার সব বন্দোবস্ত করেন। ৩য় দিন তাদের মাছিমপুর ও কান্দাপাড়ায় জনাব নূর মিয়া চৌধুরীর বাড়ীতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং তারাই সব তদারকি করেন। পরের দিন মুক্তিযোদ্ধাদের পুরো টিমটিকে নিরাপদে সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে  যাবার ব্যবস্থা করে দেন। এসবের মাঝেও জনাব মেহের আলী মহেষখলা ক্যাম্পে যাতায়ত করতেন তাঁর উপর ন্যস্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্যে । তিনি ধান চালসহ অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দকে সংগে নিয়ে সংগ্রহ করতে থাকেন এবং মহেষখলী ক্যাম্প নির্বিগ্নে পরিচালনার জন্যে পাঠাতে থাকেন।

জনাব মেহের আলী তাঁর শ্বশুর জনাব রহমত আলী তাং, চাচা শ্বশুর জনাব আক্কেল আলী তাং ও জনাব গফুর চৌধুরী এর নিকট থেকে ১৩০০ মন ধান, ১০০০ মন লাখড়ি ,৩০০ খাওয়ার থালা,৫টি বড় ডেগ ও ৫০টি চামচ মহেষখলা ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন যা কিনা মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনাব মেহের আলীর শ্বশুড়ের বাড়ীটি সুমেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত এবং ঐ পরিবারটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় এ অঞ্চলের যে সব মুক্তিযোদ্ধা ইন্ডিয়াতে গেছেন তাদের প্রায় সকলেরই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। ঐ পরিবারের সদস্যসহ গ্রামবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহয়তা করেছেন। তাদের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর শাহাদাৎবরন : জনাব মেহের আলী মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সমস্ত দায়িত্ব ¯স্থানীয় নেতৃবন্দের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে মহেষখলা চলে আসেন এবং ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে  তিনি অন্যতম যিনি প্রথম ১৯৭১ সালের ১৭ই মে মহেষখলায় শহীদ হন। মেহের আলী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একমাত্র শহীদ, এবং শহীদ বুদ্ধিজীবি  যিনি বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন (শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী) ।  সেই সাথে অগ্নিযুগের এক বীরত্ব ব্যঞ্জক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। মেহের আলী শহীদ হওয়ার পরপরই মহেষখলাতে জয় বাংলা বাহিনীর নেত্রকোনা শাখার প্রধান,কোম্পানী কমান্ডার,জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি,সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, নেত্রকোণা জেলা- সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা  বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর উদ্দীন আহমেদকেও গ্রেফতার করে হত্যা করার জন্য কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তারা বেচে যায়। উল্লেখ্য যে,মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে জাতীয় প্রয়োজনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহার নেতৃত্তে বীরমুক্তিযোদ্ধা  বুলবুল ইপিআর সদস্যসহ অন্যান্যদরকে নিয়ে পুলিশের অস্ত্রাগার ও নেত্রকোণার ন্যাশনাল ব্যাংকের Volt ভেঙ্গে টাকা পয়সা , সোনা সংগ্রহ করেন যে ঘটনাটি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা আছে। (“মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা” বইটিতে মহেষখলা সাবসেক্টরের কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা  হায়দার জাহান চৌধুরী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন)। কিন্তু নেত্রকোণাবাসী শহীদ মেহের আলী-র হত্যাকারীদের ক্ষমা করেননি। স্বাধীনতা লাভের অল্প কয়েকদিন পর তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে সেইসব ঘাতকদের জনসম্মুখে হত্যা করা হয়েছিলো। মেহের আলী ছিলেন সকলের কাছে প্রিয় মেহের ভাই। তাঁর অনুসারীরা বলেন,‘ মেহের ভাই আমাদের রাজনৈতিক গুরু। তিনি আমাদের রাজনীতি শিখিয়েছেন। তাঁর মতো মানুষ হয় না। তিনি আমাদেরকে আপন ছোট ভাইয়ের মতো দেখতেন। তাঁর মতো লোক বেঁচে থাকলে নেত্রকোণার রাজনীতিতে দুর্যোগময় অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তিনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই হতেন একজন এমপি-একজন মন্ত্রী-একজন আদর্শবান রাজনৈতিক নেতা। আমরা তাঁর মতো মানুষ আজও দেখিনি’।

বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর ডায়েরী থেকে সংগৃহীত:

নেত্রকোনা ছাত্রলীগ গঠনের ইতিহাস ও নেত্রকোনায় প্রথম নারী আন্দোলনঃ(জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন)

Shamsus Zuha: A school student while I was a student of Netrakona college

At the first week of February in 1962, I met him on the marriage ceremony of Mr.Abdul Khalek the then G.S of Awami league, netrakona. My attention was attracted by his seriousness about every affair of life. In course of time, I met the boy and discussed many problems about the country. We moved against the government for our genuine demands. After the abolition of student federation, we formed a branch of “ kochikachar Fair” named “Modhumachi kochikachar Mela”. After a few month, some of my colleague and younger both formed “ Student Union Branch”. Consequently, those who are to keep the right of liberty and liberty of speech formed a branch of “East Pakistan Student League”.Mr Zoha and I were the G.S and President of the Student League.“In connection with the movement some girls were introduced to me. In the month of September, 1962 Ms Aysha Khanum who was reading in class X was very known to me… It is a red letter day in the history of Netrakona subdivision that our sisters,the student of netrakona girl’s school, cooperate with us for the demand. Note: That procession was led by Aysha Khanom. Founder President of  Bangladesh Mohila Parishad.  The then government bent down his head to the Mass of the people. 9th October, 1963, the student together with political leaders have arranged a large meeting. As they are informed, they came from various schools to attend the meeting on that day at 5pm…….

মধুমাছি কচিকাঁচার গঠনের ইতিহাস

“মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমরা কাজ করেছিলাম ৩জন ছাত্র। আলোচনা দিন ঠিক করলাম ২১শে ফেব্রুয়ারী তথা শহীদ দিবস ঊপলক্ষ্যে। ফলে পালিয়ে বেড়ালাম অনেকদিন পর্যন্ত ।পরীক্ষায় সফল হতে পারলাম না।এই জন্যই নতুন করে শপথ নিলাম পাশ করার ও স্বৈরাচারী সরকারকে শেষ করার। ৬২ সালের শেষ দিক সংগ্রাম মুখর দিন। দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস ৵পালন ঊপলক্ষ্যে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। ৭ই অকটোবরের সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেমে এল পুলিশের অত্যাচার।এবার কিন্তু মুক্তি পেলাম না। পাইকারী জরিমানার খোরাক হলাম। এবার কিন্তু বেচে যেতে পারলাম না। জেল থেকে ৯ দিন পর জামিনে ছাড়া পেলাম। জেলে বসে চিন্তা করলাম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ার। ফলে ১৯৬৩ সালের জানুয়ারী মাসে  মধুমাছি কচিকাচার মেলা গঠন করলাম। ১৯৬৪ সালের ১লা মে মাসে ঢাকা থেকে কবি সুফিয়া কামাল,রোকোন্জামান দাদা ভাইদের ,নেত্রকোনাতে নিয়ে এলাম।নেত্রকোনায় N.S.Fএর সম্মেলন বাতিল করেছিলাম।ফলে মামলা দায়ের করল।২৯শে মে আলোচনা করে দিন ঠিক করে রেলী হরতাল পালন করার আহবান জানালাম।সরকারী বাহিনী আমাকে ও মতিয়র রহমানকে ২৬শে আগষ্ট?  “বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়ায় বাড়ী চলে গেলাম। ১লা ও ২রা মে রোকনজ্জামান দাদাভাই ও কবি সুফিয়া কামালসহ সবাই গেলাম নেত্রকোনায়। একক প্রচেষ্টা হিসেবে পরিশ্রম করতে হয়েছিল।

মেহের আলীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শুরু প্রসঙ্গে

“৫৭ সাল- কোন মাস সঠিক হিসাব নেই। কোনো এক বন্ধুকে বলেছিলাম ১৯৭০ সালে লন্ডন যাওয়ার কথা। জানি না- কিংবা একমাত্র আল্লাহই জানেন কবে বা কখন আমার রওয়ানা হওয়ার ডাক আসে। ১৯৫৭ সনে জনৈক সম্পর্কীয় এক ভাইয়ের সংগে ঢাকা এসেছিলাম বেড়াতে- তখন কার্জন হল দেখে মনে মনে বলেছিলাম যদি এখানে পড়তে পারতাম। ৫৮ সনে মেট্রিক পাস করি। কলেজ জীবন কাটিয়ে ১৯৬৩ সনে পাড়ি দিলাম কার্জন হলে। ভর্তি হয়ে ক্লাস করতে লাগলাম এক বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে। সেইসঙ্গে শ্রদ্ধায় মাথা নত করলাম সেই মঙ্গলময়কে যার অসীম অনুগ্রহে এখানে ভর্তি হতে পেরেছি। আশা… নিশ্চয় আল্লাহ পূর্ণ করেন- কোনদিন তিনি বান্দার আশা অপূর্ণ রাখেন না।”

বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর ডায়েরী থেকে সংগৃহীত বিদেশী ভাষার উক্তি:

“হামা আজ দস্তে গায়ের নালা ফুনান্দ,শাদী,আজ দস্তে খেশতান ফরিয়াদ”

অর্থঃ নিজের হাতই যখন নিজের গালে চড় বসিয়ে দেয়,তখন হে শাদী অপরের মার খাওয়া নিয়ে খেদ করে লাভ কী।(১৮৫৭ সালে ৯ই মে মীরাট সেনানিবাস।)

“আমারে পাছে সহজে বোল? তাইতো এত লীলার ছল,বাহিরে যার হাসির ছটা,ভিতরে তার চোখের জল।“  –ঈহুদী বৈজ্ঞানিক ডঃ কাইয়ুম ভাইজমান।

“শক্তি থাকলে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ হবে,এটা বৈজ্ঞানিক সত্য।“ –সংগৃহীত।

“জরাজীর্ণ অতীতকে বিস্মৃত হও। বিস্মৃত হও হারিয়ে যাওয়া দিনকে। কেননা আমরা বর্তমানেরৃ..ভেতরেই বিস্মিত দেখতে চাই আমাদের অতীতকে।“—ইকবাল

বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর সাহিত্যকর্ম :

শহীদ মেহের আলী ছিলেন সাহিত্য-সংস্কৃতিমনা মানুষ। ডায়রির পাতায় তিনি লিখেছিলেন,

“প্রথম্ জীবনের মানে এক কথায় কৈশোর জীবনে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম ,তা দেরীতে হলেও পূর্ণ হচ্ছে।মানুষ প্রথম জীবনে যা কল্পনা করে যে আশা আকাংক্ষা পোষণ করে নিয়তি বোধহয় দূর থেকে সবকিছুই পূরণ করে দেয়,যাতে করে তাহার উপর কেউ দোষ চাপাতে না পারে। এজন্যই বোধ হয় কোরানে বলেছেন,..অর্থাৎ নির্দোষ তিনি।অবশ্য সেই লক্ষ্যে পৌছাবার জন্য চাই পরিশ্রম,ধৈর্য।“

“পৃথিবীতে মানুষ যখন জন্ম গহন করে সে তখন সবচেয়ে প্রকৃতিকে বেশী ভালবাসে । কিন্তু এরও বোধ হয় শেষ আছে। তাই শিশু যখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলে অথবা সে যখন বড় হতে থাকে তখন সময়ের সাথে শিখে তার মা ও বাবাকে। ছেলে মাকে মেয়ে বাবাকে গভীর ভালবাসে কিন্তু ছেলে মাকে এবং মেয়ে বাবাকে ভালবাসা একটা অসামন্জস্য বিধায় ছেলে এমন একটি মেয়েকে, মেয়ে এমন একটি ছেলেকে খুজে যার মধ্যে সে তার মা ও বাবার গুণ দেখতে পায়।“

“সহজ হওয়ার মধ্যেই আছে কালচারের পরিচয়, আড়ম্বতার মধ্যে আছে দম্ভের। সে দম্ভ কখনও অর্থের, কখনও বিদ্যার, কখনও প্রতিপত্তির। অনেকেই ভুলে যান যে,স্বামীস্ত্রীর মিলিত জীবনের পরিপূর্ণতাও প্রমাণের অপেক্ষা রাখে-সেটা আকস্মিক নয়, পরিপূর্ণতার লাইফ ইমসিতরোল? নয়,গ্যারান্টিতো নয়ই। শুধু মীনস? সে এন্ড নয়। সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধীকার দিয়ে বিবাহ স্ত্রীপুরুষের মিলনের ক্ষেত্রটিকে সুপরিসর ও নির্বিঘ্ন করে মাত্র। তাকে সফল করতে হয় উভয় পক্ষের সযত্ন চেষ্টায়,নিরলস সাধনায়। স্বামীস্ত্রী দিনে দিনে একে অন্যকে প্রভাবিত করে আপন রুটিন দ্বারা,অভ্যাসের দ্বারা ও মতবাদের দ্বারা পরস্পরকে গঠন করে নিজ অভিলাসনুযায়ীnকরে পাল পাল?এই দেয়া নেয়া বোঝাপড়া চলে অনেকটা অলক্ষ্যে,অজ্ঞাতে এবং অনেকটা অবিসংবাদে। সেটা পুর্ণ হয় নিকটতম সান্নিধ্যের দ্বারা। সান্নিধ্য শুধু গৃহে নয় বাহিরে।“

“অর্থাভাব হতনা,অভাব হত জীবনী শক্তির। আজ যে আমাকে বরন করবার জন্য তুমি চেয়ে আছ, আমাকে কি দেবে আমার সংগঠন করতে?তুমি চাইবেনা আমাকে তোমার মুষ্টির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে। বৃহত্তের জন্যে তমি যদি আমাকে প্রেরণা দিয়ে কাজে সাহায্য করতে তবে আমার কোন আপত্তি নেই।

‘‘ নদী ও নারীর এক গতি, একই মতি। নদী আনে ভাঙন, নারী জ্বালে প্রেমের আগুন। ক‚ল ভাঙা কীর্তিনাশা নদীর মতো নারীও নিজেকে দীপ্তিহীন প্রেমের আগুনে দহন করে, কখনও বা ক‚ল ভেঙে সমাজ সংসারের বাঁধন অতিক্রম করে…. ছুটে যায় নদীর মতো নারীও উদ্দাম, অনির্দিষ্ট। তার মধ্যে বেগ আছে, নিষেধ নেই।”

নদীর সাথে নারী জীবনের এই অপূর্ব সম্মিলন তিনি অতি নিপুণ ভাষায় লিখে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত: আমরা পেতাম সাহিত্য বিষয়ক মূল্যবান স্মরণীয় গ্রন্থরাজি।

২৪/১০/১৯৬৪ সালে তিনি ইংরেজিতে চমৎকার একটি কথা লিখেছিলেন,

”Make new friend and keep the old. These are  the silver and those are the gold.”

মেহের আলী সাহেব ডায়েরিতে লিখেছিলেন:

‘‘ কোন দু:খই মানুষের চিরস্থায়ী নয়। দু:খে মানুষের দিন কাটে না, যায় না… মাঝে মধ্যে মেঘ জন্মালেও তা চিরস্থায়ী থাকে না।”

“বনরে বাঘকে গায়রে জোরে পোষ মনানো যায় কন্তিু ছোট একটি ফুলকে ফুটয়িে রাখা যায় না।

“সত্য ছাড়া আর কোনো কিছুর কাছে মাথা নত করো না। কেননা সত্যনিষ্ঠা- কেবল সত্যনিষ্ঠাই তোমাকে সাফল্যের তুঙ্গশীর্ষে উত্তীর্ণ করবে।”

বস্তুত: তাঁর এসব বাণীর আবেদন চিরকালের। যুব সমাজকে তিনি আন্দোলিত ও উদ্দীপ্ত করতে জানতেন। সমগ্র নেত্রকোণা জেলায় যারা ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ করেছেন, তারা কোনো না ভাবে শ্রদ্ধেয় মেহের আলী ভাইয়ের নির্দেশনা ও সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। আমি তখন বারহাট্টা থানার বাউসী হাইস্কুলে পড়ি। তখন উনসত্তরের অগ্নিঝরা দিন। ঢাকার সাথে এখনকার মতো সরাসরি যোগাযোগ তখন ছিলো না- ছিলো না মুঠোফোনের যুগ। রেডিও এবং পরদিনের সংবাদপত্র ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু আমরা নেত্রকোণা থেকে আন্দোলনের দিক-নির্দেশনা পেতাম। এমনকি কখন কোন শ্লোগান দিতে হবে- তাও। আমরা তখনই মেহের আলী ভাইয়ের কথা জানতে পারি এবং  দূর থেকে তাঁকেই আমাদের নেতা হিসেবে জ্ঞান করি।

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক : ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে নেত্রকোণা পৌরসভা ১৯৯৮ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে অজহর রোডের মোড় থেকে পূর্বদিকে ইসলামপুর পর্যন্ত এই রাস্তাটির নামকরণ করেছে – মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী সড়ক। মাননীয় সংসদ সদস্য  হাবিবা রহমান(শেফালী) ও নেত্রকোনাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে  নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি গেইটের নামকরন করেন “বীর মুক্তিযোদ্ধা  মেহের আলী  গেইট”, স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য “বিজয় একাত্তর সম্মাননা-২০২২” এবং ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি সম্মাননা স্মারক ২০২২ প্রদান করা হয়। শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে ২০২৩ সালে ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমির – উদ্যোগে  তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব শাহেদ পারভেজ “শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী বৃত্তি’প্রবর্তন করেন।স্বাধীনতার পর পর শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি পরিষদ” ও “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি যুব জাগরণ সমিতি”, মালনী রোড(বর্তমানে সমিতি ঘরটিকে মসজিদে র“পান্তরিত করা হয়েছে) সংগঠন দুটি গঠন করা হয় । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে শহীদ মেহের আলীর পরিবারের জন্য এক হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

সে সময়ে আমার এক কাকা কান্তি রঞ্জন চৌধুরী নেত্রকোণা কলেজে বি.এ শ্রেণিতে পড়তেন। আর আমার মেঝদা বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন সরকার ভজন পূর্বধলা কলেজে আইএ শ্রেণিতে পড়তেন। তাঁরা দু’জনের কাছ থেকে মেহের আলী ভাই সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছিলাম। স্বাধীনতা লাভের পর শ্রদ্ধেয় জোহা ভাই, মতি ভাই, এরশাদ ভাই, হায়দার ভাইসহ অনেকের কাছ থেকে মেহের আলী ভাইয়ের নেতৃত্ব এবং  বীরত্বব্যঞ্জক সংগ্রামের তথ্য-উপাত্ত পেয়েছিলাম।

আজ শহীদ মেহের আলী ভাইয়ের স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে হৃদয় উদ্বেলিত এবং আবেগে আপ্লুত। এমন একজন মহান মানুষ নেত্রকোণা ও সমগ্র দেশের জন্য বড় বেশী প্রয়োজন ছিলো। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

অধ্যাপক ননী গোপাল সরকারের প্রবন্ধসমূহ:

নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস

মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর

লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতি  লোককবি নগেন সরকার 

একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক ভাষা সৈনিক  সানাউল্লাহ নূরী

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনা

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম খান (এন আই খান)

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মো. ফজলুর রহমান খান

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম ফজলুল কাদের

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাছ আলী খান

অগ্নিযুগের সূর্য সৈনিকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী

স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী 

তথ্যসুত্রঃ

  1. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
  2. সরকার ,অধ্যাপক ননী গোপাল “শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনা ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
  3. ইন্জিনীয়ার এম কে জামান “শহীদ বুদ্ধিজীবি নেত্রকোনা ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
  4. চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
  5. চৌধুরী, হায়দার জাহান “ মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা” ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
  6. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
  7. হাসান, প্রধান বিচারপতি জনাব ওবায়দুল(এপ্রিল ২০২৩),” মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প, মুক্তিযুদ্ধে মোহনগন্জ :মহেষখলা ইয়ুথ ক্যাম্প ও ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ”, পৃষ্ঠা ১০১-১০৩
  8. Khan, Fazlur Rahman Khan (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  9. Kalamia, Islam Uddin (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
  10. Ahmed, Sadir Uddin (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
  11. Rahman, Golam Arshadur (1997). Muktisangrame Netrakona (in Bengali). Dhaka
  12. Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
  13. Khan, Ashraf Ali Khan Khoshru (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
  14. Kader, A K Fazlul Kader (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  15. Uddin, Hadis (2021). Ashomapta Golpa (in Bengali). Dhaka: Anirban Printing and Publications.
  16. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” ভাষা সৈনিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৯
  17. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
  18. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
  19. আহমদ, ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দীন (২০২২)। অসমাপ্ত গল্প। ঢাকা: অনির্বান পাবলিকেসন্স। পৃ. ২, ১২।
  20. মোতালিব ,ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২৬-২৯
  21. বিশ্বাস, সাংবাদিক প্রিয়ঙ্কর(২৩ ডিসেম্বর ২০২২), “মুক্তিযোদ্ধার আত্মকথা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:শামছুজ্জোহা, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৯৩-১০০
  22. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
  23. Shamsusjuha, Md (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  24. চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান(সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা ক্লাব) ,“মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী’র স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত” Rupashi TV, 19/05/2022 ,
  25. Haque, Muzzammel (6 April 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. Shoronika. 1: 2.
  26. বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামসুজ্জোহা  (সভাপতি ,সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, নেত্রকোণা জেলা)“নানান কর্মসূচীতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী’র ৫১তম প্রয়ান দিবস পালন।“, Meghna TV , ,18/05/2022
  27. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা 129-132
  28. Sarkar, Ashraf Ali (23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
  29. Chowdhury, Khalekdad (1985). Shatabdir Dui Diganta (in Bengali). Dhaka.
  30. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২),”নেত্রকোণায় বঙ্গবন্ধু”, বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৭৭-৮১
  31. চৌধুরী, হায়দার জাহান(২৩ ডিসেম্বর ২০২২),”শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস”,আলোর পথে,পৃষ্ঠা ৬১-৬৪
  32. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সপ্টেম্বের ২০২২),”শহীদ মহেরে আলী একটি নাম, একটি ইতহিাস”, মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা পৃষ্ঠা ২০২-২০৫
  33. চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতি ও ৭১’- র মুক্তিযুদ্ধ”, বিজয় একাত্তর বিজয় একাত্তর ৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৮২-৯২
  34. Momeen, Abdul Momeen (25 June 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Dinkal. p. 6.
  35. Talukder, Nurul Amin (2021). Ashomapta Golpa (in Bengali). Dhaka: Anirban Printing and Publications.
  36. ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” বীর মুক্তিযোদ্ধা ইজাজ আহমেদ চৌধুরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ২৯
  37. আহমেদ, সামির “বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
  38. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
  39. Khan, Motiur Rahman (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
  40. আহমেদ, সামির “বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর(অব:) এম এ মোত্তালিব ” বিজয় একাত্তর(অন লাইন), ০৩/০৩/২০২৬
  41. সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২০),”মুক্তিযুদ্ধের একনিষ্ঠ সংগঠক ডঃ আখলাক হোসেন আহমদ”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা ৬০-৭০
  42. Rahman, Anisur (18 May 2005). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Samachar.
  43. owahed, Abdul (6 April 1994). “Memorial Discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. Shoronika. 1: 2.
  44. প্যানেল মেয়র নজরল ইসলাম,“নেত্রকোণায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী সড়ক উদ্ভোধন”- MY TV, 05/05/2015
  45. বীর মুক্তিযোদ্ধা মেয়র নজরল ইসলাম খান, ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
  46. বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আক্কাস আহমেদ(সভাপতি-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
  47. কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),,,“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
  48. কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান” দৈনিক একুশে নিউজ ২/১০/২০২৩
  49. অধ্যাপক অলিউল্লাহ,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান”,দৈনিক  বাংলার অধিকার ১/১০/২০২৩
  50. দেবাশীয সরকার(সভাপতি -প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী(“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা প্রদান”, দৈনিক আলোকিত বরিশাল, ২/১০/২০২৩
  51. কবি সুমিত্র সুজন,“শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে নেত্রকোণায় বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও বিজয় স্তম্ভের দাবি”,উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ, ২/১০/২০২৩
  52. আবৃত্তিকার শিল্পী ভট্রাচার্য,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা -২০২২ প্রদান”, দৈনিক সবুজ বাংলা ,১/১০/২০২৩
Scroll to Top