বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা
বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী
নেত্রকোণা জেলায় স্বাধীনতা যুদ্ধের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা । এই নক্ষত্রের উদয় ঘটেছিল ১৯৩৮ সালে। পিতা নূরুজ্জামান মাস্টার এবং মাতা হাতেমুন্নেছার ঘরে জন্ম, স্ত্রীঃ….।তিনি তিন কণ্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে একজন অর্থীনীতিবিদ।
শিক্ষাজীবন: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা দত্ত হাই স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করার পর তিনি নেত্রকোণা কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা লিটারেচার বিষয়ে ।
রাজনৈতিক জীবন: নেত্রকোণা জেলার অন্যতম রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং তৎকালীন ময়মনসিংহ আসনের (নেত্রকোণা মহকুমা) সংসদ সদস্য সর্বজনাব আব্দুল খালেক, সত্যকিরণ আদিত্য, ফজলুর রহমান খান, মেহের আলী গাজী মোশারফ হোসেন, ওয়াজেদ আলী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ চেষ্টা করছিলেন এই অঞ্চলেও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে। সেজন্য কয়েকজন তরুণকে যুক্ত করেন। এর মধ্যে মোঃ শামসুজ্জোহা অন্যতম। এই আন্দোলনই ছিল উনার রাজনীতিতে হাতেখড়ি এবং ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করার প্রথম অধ্যায়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন তরুণদের অনুপ্রেরণা ও প্রাণের নেতা। জনাব শামসুজ্জোহার ছাত্রলীগে যোগদানের বিষয়টিও একটি চমকপ্রদ ইতিহাস। ১৯৬১ সালে নেত্রকোণার তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সংগঠন “ছাত্রসংস্থা”-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উদ্যেক্তা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছাত্রনেতা জনাব মেহের আলী(কিংবদন্তী ছাত্রনেতা জনাব মেহের আলী ১৯৬০ সালে সর্বজনাব জামাল উদ্দিন আহমেদ, গাজী মোশারফ হোসেন, টি.এ রহমত উল্লাহ, নুর“ল ইসলাম, লুৎফর রহমান খান, আব্দুস সাত্তার প্রমুখ নেতাদের নিয়ে “ছাত্রসংস্থা”-গড়ে তুলেন -ঐ সময় দেশে সামরিক আইনের কারনে রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল তাই এই গোপন সংগঠনটি গড়ে তোলা হয় যার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হতো ) ও জনাব শামসুজ্জোহাকে ডেকে আওয়ামীলীগ নেতা জনাব আব্দুল খালেক একটি হাতে লেখা চিঠি দিয়ে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠিয়ে দেন। এই দুই ছাত্রনেতা নবাবপুর রোডে এক হোটেলে থেকে দেখা করতে যান বঙ্গবন্ধুর আলফা বীমা কোম্পানীর অফিসে। বিশাল এক সেক্রেটারিয়েট টেবিল নিয়ে বসে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । এত বড় মাপের একজন নেতাকে দেখে তাঁরা উভয়েই কিছুটা ঘাবরে যান। বঙ্গবন্ধু বসতে বললেও তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকলেন। এক পর্যায়ে খালেক সাহেবের চিঠিটি মেহের আলী সাহেব বঙ্গবন্ধুর হাতে বিনয়ের সাথে তুলে দেন। বঙ্গবন্ধু চিঠিখানি পড়ে একজনকে ডাকলেন এবং তাদেরকে কেক এবং চা দিতে বললেন। এ পর্যায়ে তাঁরা জড়সড় হয়ে চেয়ারে বসেন। বঙ্গবন্ধু একটি চিরকুট দিয়ে তাঁদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব শেখ মনি সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেন। মনি সাহেব তাঁদেরকে বলেন, ‘তোমরা সন্ধ্যার পর আসো। দেশে রাজনীতির যে কড়াকড়ি অবস্থা, দিনের বেলায় তোমাদের সাথে কথা বলা যাবে না’। কথামত তাঁরা ঐ দিন সন্ধ্যার পর মনি ভাইয়ের কক্ষে আসেন। মনি ভাই তাঁদেরকে অতি গোপনে ছাত্রলীগের আদর্শ-উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন এবং তাঁদেরকে কয়েকটি প্যাম্পলিট প্রদান করে বলেন, খুব সাবধানে নেত্রকোণায় নিয়ে যাবে। ধরা পড়লে নির্ঘাত ছয় মাসের জেল। প্যাম্পলিটের উপরে লেখা ছিলো একটি স্লোগান; যথা- ‘শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি’। এগুলো নিয়ে তাঁরা নেত্রকোণায় এসে কার্বন কপি করে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের মাঝে অতি গোপনে বিতরণ করেন।
১৯৬২ সালে নেত্রকোনা মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে জনাব মেহের আলী ও জনাব শামসুজ্জোহাকে সেক্রেটারী করে কমিটি করে দেয়া হয়(জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন)। শুরু হয় নেত্রকোণায় ছাত্রলীগের অভিযাত্রা। পরবর্তীতে একসময় জনাব শামসুজ্জোহা নেত্রকোণা ছাত্রলীগের সভাপতির(১৯৬৯-৭০ ) পদ অলংকৃত করেন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি (২০০৫)হন। এর পরের ইতিহাস সকলের জানা। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। তখনখার সময়ে নেত্রকোণায় রাজনীতির পাশাপাশি যাঁরা সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলছিলেন, তাঁদের মধ্যে জনাব মেহের আলী,সত্যকিরণ আদিত্য অন্যতম। নেত্রকোণায় তখন ছাত্র রাজনীতি দুটি প্রধান ধারায় অগ্রসর হ”হচ্ছিলো।একটি হলো বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ এবং অপরটি হলো ন্যাপ-কমিউনিস্টদের ছাত্র ইউনিয়ন। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময় তিনি সদ্য কলেজ পাশ করা ছাত্র। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। মিছিল-মিটিংয়ে নেত্রকোণা তথা সারা বাংলাদেশ তোলপাড়। মিছিলের পর মিছিল, স্লোগানের পর স্লোগান। স্কুল-কলেজের ছাত্ররা বেপরোয়া। ‘পিন্ডি না ঢাকা- ঢাকা ঢাকা, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘পুলিশ তুমি যতই মার, বেতন তোমার এক শ বারো’-এমন স্লোগানে তখন চারপাশ মুখরিত। সেসময় তিনি তরুণ ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন। ১৯৬৯ সালে তাঁর ছাত্রলীগের সভাপতি পদে অভিষেক হয়। জয়বাংলার একনিষ্ঠ কর্মী, মিছিলের অগ্রভাগের বজ্রকণ্ঠ ছিলেন তিনি। হয়ে ওঠেন এক তুখোড় ছাত্রনেতা।
সংস্কৃতি: ১৯৬৩ সনের জানুয়ারি মাসে মধুমাছি কচিকাঁচার মেলা গঠিত হলে মেলার প্রধান উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক জনাব মেহের আলী জনাব শামসুজ্জোহাকে প্রতিষ্ঠাতা আহ্ববায়ক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আয়েশা খানমকে আহ্ববায়িকা করে কমিটি গঠন করে দেন। মেলার পরিচালক হিসেবে ছিলেন জনাব এডভোকেট একে ফজলুল কাদের, আর উপদেষ্টা মন্ডলীতে ছিলেন- সর্বজনাব এন আই খান,জনাব আব্দুল খালেক, জনাব খালেকদাদ চৌধুরী, ডা. জগদীশ দত্ত, এডভোকেট ফজলুর রহমান খান,মাওলানা ফজলুর রহমান খান,হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ।
সমাজসেবা: রাজনীতি ও সংস্কৃতির পাশাপাশি পরবর্তী কালে তিনি নেত্রকোণায় সমাজসেবা কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নেত্রকোণা কো-অপারেটিভ ব্যাংক, মালটিপারপাস কো-অপারেটিভ এসোসিয়েশন এর সভাপতি হয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে রেডক্রস নেত্রকোণা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এমনকি নেত্রকোণা চক্ষু হাসপাতাল স্থাপনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের সেই প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন মোঃ শামসুজ্জোহার নেতৃত্বে নেত্রকোণায় তৈরি হয় বাংলাদেশ প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস।বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো ও কুচকাওয়াজ, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া ও ছয় রাউন্ড ফাঁকাগুলি করা সহ বিভিন্ন রকমের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মোক্তারপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস।২৭ মার্চ নেত্রকোণা আওয়ামী লীগ অফিসে নেত্রকোণার তৎকালীন মহকুমা আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মোঃ শামছুজ্জোহা, তার সম্মানীত সদস্য নির্বাচিত হন। নেত্রকোণা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আটপাড়া মদন খালিয়াজুরী এলাকার এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবকে আহবায়ক করে নেত্রকোণা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সকল নির্বাচিত এম.এন.এ তথা জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মমিন, মোঃ জুবেদ আলী, সাদির উদ্দিন আহমেদ ও এম.পিগণ তথা প্রাদেষিক পরিষদ সদস্য আব্বাছ আলী খান,ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ,আব্দুল মজিদ তারা মিয়া, মোঃ হাদীস উদ্দীন চৌঃ, মোঃ নাজমুল হুদা সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হন। তাছাড়া নেত্রকোণা পৌর চেয়ারম্যান এন আই খান,এডভোকেট ফজলুর রহমান খান, খালেকদাদ চৌধুরী,এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের, মোঃ মেহের আলী,মৌলানা ফজলুর রহমান খান, নুরু মিয়া,জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাফায়েত আহম্মদ খান, গোলজার হোসেন,গোলাম এরশাদুর রহমান, হায়দার জাহান চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হয় মহকুমা সংগ্রাম পরিষদ । উল্লেখ্য, মোক্তারপাড়া মাঠে প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন জনাব এন আই খান। সাল ১৯৭১। জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত চারদিক। ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত বাংলার আপামর জনতা। এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে মোঃ শামসুজ্জোহা ইন্ডিয়ার তুরা থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে উইং কমান্ডার হয়ে তিনটি কোম্পানীকে সাথে নিয়ে বাঘমারা হয়ে বাংলাদেশে আসেন এবং ১১ নম্বর সেক্টরে সম্মুখ সমরে অংশ নেন। এই সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল তাহের এবং নেত্রকোণা অঞ্চলের যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতেন ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন মুরারী ও ক্যাপ্টেন চৌহান। ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী ( নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা), ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। ক্যাম্পের বিশাল দায়িত্ব পালনের জন্যে বিভিন্ন কমিটি করে দেয়া হয়। সে সব উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি,বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয় । পরবর্তীতে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মুজিব বাহিনী গঠনের পর মহিষখলা সাব-সক্টরের অধীনে মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার , মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী,সুলতান নুরী , খন্দকার আনিস, মনজুর উল হক ও নজরুল ইসলাম খানসহ আরো অনেকেই ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এই ক্যাম্পেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল। মহিষখলা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটি প্রতিদিনই একবার সবগুলো ইউনিটের কাজ পরিদর্শন এবং তাদের কাজের সমন্বয় সাধন করতো। মহিষখলায় (বাংলাদেশের এবং মেঘালয়ের মুক্তাঞ্চল) তখন লক্ষাধিক শরণার্থী। এখানকার ক্যাম্প পরিচালণা পর্ষদ নিজেরাই শরনার্থীরা জন্যে সকল ব্যবস্থা করতো। কোনরূপ বাইরের সাহায্য পাবার সুযোগ সেখানে ছিল না।
মোঃ শামসুজ্জোহা যুদ্ধ করেছিলেন ক্যাপ্টেন মুরারী’র অধীনে । যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি এস. এম. জি. (শর্ট মেশিন গান) চালাতেন। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা শত্রুমুক্ত করার পেছনে উনার অবদান অনস্বীকার্য। দুর্গাপুর থেকে যুদ্ধ শুরু করে শত্রুমুক্ত করতে করতে এগিয়ে যান ময়মনসিংহের দিকে। তিনি প্রতিদিন স্বপ্ন দেখতেন এক স্বাধীন ভুখন্ডের, এক সোনার বাংলার। আর স্বপ্নের সিঁড়িতে ভর করে যাঁর পথচলা, সে তো হার না মানা গল্প দিয়েই ছিনিয়ে আনেন বিজয়মাল্য। তাইতো তিনি ফিরেছিলেন বিজয়ীর বেশেই। ময়মনসিংহ শত্রুমুক্ত করে ১৯৭১ সালে ১২ ডিসেম্বরে তিনি ফিরে আসেন তাঁর নিজের এলাকা নেত্রকোণায়। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে সেই বিজয়ই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, সবচেয়ে বড় আনন্দ। এখানে উল্লেখ্য যে, মহেষখলাতে আওয়ামীলীগের অত্যন্ত সৎ ও নির্ভীক কর্মী,নেত্রকোনা মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য ও মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য(ছাত্র ও যুবনেতাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত), জেলা শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উদ্যেক্তা এবং জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক’৭১ জনাব মেহের আলীকে ১৯৭১ সালের ১৭ই মে সেকান্দর নুরীর (যার বিরুদ্ধে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা,নির্যাতন,র্ধষন ও লুটের অভিযোগ ছিল।) লোকেরা হত্যা করে । মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে জাতীয় প্রয়োজনে জয়বাংলা বাহিনীর প্রধান কোম্পানী কমান্ডার সাবেক আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহার নেতৃত্তে বীরমুক্তিযোদ্ধা বুলবুল ইপিআর সদস্যসহ অন্যান্যদরকে নিয়ে পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ও ব্যাংক থেকে টাকা সংগ্রহ করেন (“মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা” বইটিতে সাবসেক্টর কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন)। মেহের আলীকে হত্যার পরপরই বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহা ও সাবেক আওয়ামীলীগের নেতা আমীর উদ্দীন আহমেদকেও গ্রেফতার করা হয় হত্যার জন্যে। সৌভাগ্যক্রমে তারা প্রাণে বেচে যান। এই স্মৃতিটা আজো তাঁর অন্তরকে ব্যথিত করে। স্বাধীনতার পরপরই নেত্রকোনার বীরমুক্তিযোদ্ধারা মেহের আলীর হত্যাকারীদের ব্রাস ফায়ার করে হত্যা করে। এই বিষয়টির বর্ণনা জনাব খালেকদাদ চৌধুরী তাঁর অমর গ্রন্থ’ শতাব্দীর দুই দিগন্ত ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম এরশাদুর রহমানের মুক্তিসংগ্রাম বইয়ে উল্লেখ আছে। বর্ণনাটি নিম্নে তুলে ধরা হলো-“স্বাধীনতার অব্যাবহতি পর মোক্তার পাড়ার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগ্রামী জনতার সমাবেশে বীরমুক্তিযোদ্ধারা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে নিখুজ মেহের আলীর সন্ধান চান এবং প্রিয় নেতাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেন।যদি ফিরিয়ে দেয়া না হয় তবে তারা নিজেরাই এর বিচার করবেন।এই সভাতেই ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ তথা গোলাম এরশাদুর রহমান,হায়দার জাহান চৌধুরী, আশরাফ আলী খান খসরু প্রমুখ বীরমুক্তিযোদ্ধারা অফিসিয়ালি জানতে পারেন যে, জনাব মেহের আলী মহেষখলা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন কালে ১৭ ই মে ১৯৭১ সালে আততায়ীর গুলিতে শহীদ হয়েছেন।এই সংবাদ শোনার পর পরই বীরমুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঐ সভাতেই সিদ্ধান্ত হয় হত্যার বিচার করার। ঐ সভা থেকেই ৫০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধার একটি দল হত্যাকারীর সন্ধানে বেড়িয়ে যায় এবং হত্যাকারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। এর মাধ্যমে বীরমুক্তিযোদ্ধারা নেত্রকোনার মাটিকে তাদের প্রিয় নেতার রক্তে কলংকিত হওয়ার হাত হতে রক্ষা করেন।
পুরষ্কার ও সম্মানণা: ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য “Bangladesh Muktijudho Research Institute Silver Award-2023” সম্মাননা প্রদানের জন্যে মনোনীত করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীর প্রবন্ধসমূহ:
কথাশিল্পী খালেকদাদ চৌধুরীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক
নেত্রকোনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মারক
নেত্রকোনায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন তালুকদার
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হাদিস উদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীঃ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা ইনস্টিটিউট, অস্ট্রেলিয়া
শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-১
নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা
মহেষখলা ক্যাম্প, ট্রাইবুনালের বিচারপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খালেকদাদ চৌধুরী
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু
শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-১
শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-২
শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-৩
বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী
আহমেদ সামির
জাতীয় সাহিত্যিক বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত লেখক জনাব খালেকদাদ চৌধুরী ও বেগম হামিদা চৌধুরীর কণিষ্ট পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হায়দার জাহান চৌধুরীর জন্ম ৭ জুলাই ১৯৫০ ইং মসজিদ কোয়ার্টার নেত্রকোণাতে। ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যা সন্তানের পিতা হায়দার জাহান চৌধুরী।
শিক্ষাজীবন: নেত্রকোণা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যট্রিক, নেত্রকোণা সরকারী কলেজ থেকে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস এম এ ২য় বর্ষ ছাত্র অবস্থায় বাংলাদেশ রেডক্রস এর ইউনিট অফিসার হিসাবে চাকুরিতে যোগদান করেন। স্কুল জীবন থেকেই শিশু সংগঠন কচিকাঁচা মেলার সদস্য হিসাবে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার মাধ্যমে কিশোর ও যৌবনের দূরন্তপনার মধ্য দিয়ে তার পথ চলা শুরু ।১৯৬৩ সনের জানুয়ারি মাসে কিংবদন্তী ছাত্রনেতা জনাব মেহের আলীর হাতে গড়া সংগঠন মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার আহ্বায়ক হিসাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে গুণগত মান অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলায় বিশেষ করে একজন চৌকস ফুটবলার হিসাবে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহন করেন। এছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ ফুটবল লীগে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে অংশগ্রহন। একজন খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়ার হিসাবে তৎকালিন মহকুমা ও জেলার গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবন: ৬০ ও ৭০ দশকের ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় খেলাধুলার জীবনের অনেকটা ভাটা পরে যায়। নেত্রকোণা কলেজের ছাত্র অবস্থায় হায়দার জাহান চৌধুরী ৬০ দশকের ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্রলীগের হয়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন সহ তৎকালিন পাকিস্তানের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একজন বলিষ্ট ছাত্রকর্মী হিসাবে নেত্রকোণার ছাত্র আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।১৯৬২ সালে নেত্রকোনা মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে হায়দার জাহান চৌধুরীর রাজনীতির পথ চলা শুরু হয়। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যান্য সদস্য যারা ছিলেন তারা হলেন সভাপতি জনাব মেহের আলী ও সেক্রেটারী জনাব শামসুজ্জোহা,জনাব জামাল উদ্দিন আহম্মেদ, বিপ্লব চক্রবর্তী, মতিয়র রহমান খান, শহিদ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল ওয়াহেদ, আ: মান্নান, আব্দুর রহমান, আলাউদ্দিন খান, আশরাফ আলী খান খসরু, ধীমান রঞ্জন বিশ্বাস (ভারত প্রবাসী)(জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন)।১৯৬৪ সালে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনারের অন্যতম স্থপতিও হায়দার জাহান চৌধুরী । সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু দত্ত উচচ বিদ্যালয়ের উত্তর পশ্চিম কোণে কাচারি রোডের সংযোগস্থলে তিন রাস্তার মোড়ে বর্তমান শহীদ মিনারের প্রধান গেইটের জায়গায় তৎকালীন নেত্রকোণা মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সর্বজনাব মেহের আলী(জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন), প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী শামসুজ্জোহা, জামাল উদ্দিন আহমেদ( জনাব মেহের আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবার পর সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়), মতিউর রহমান খান,আশরাফ আলী খান (খসরু),গাজী মোশারফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান(খসরু),সাখাওয়াত হোসেন এর নেতৃত্বে প্রথম শহীদ মিনারটি স্থাপিত হয়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ৫০ পূর্ব বাংলার রাজনীতি ছিল মূলত আঞ্চলিক দশকে স্বায়ত্বশাসনের দাবীকে কেন্দ্র করে। যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৬ দফা দাবীর মধ্যে দিয়ে। ৬ দফা ও ১১ দফা দাবীর ভিত্তিতে গড়ে উঠা ছাত্র আন্দোলন, গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। এবং পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতনের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের মুক্তি ও ৭০ এর নির্বাচন এর প্রতিটি আন্দোলনে নেত্রকোণার ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে হায়দার জাহান চৌধুরীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আজও অম্লান।
কর্মজীবন: মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে বিভিন্ন সামাজিক, সংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে সমাজ উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি এখনো এসব কজে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। নেত্রকোণা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসাবে দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধাদের খ্যাতি অর্জন। জীবন মান উন্নয়নে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি জাতীয় দৈনিকে জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি জেলা ইউনিটের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন । নেত্রকোণার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি, অনাচার, অত্যাচার, নির্যাতনসহ সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করছেন। তিনি নেত্রকোণা সাধারণ গ্রন্থাগারের দীর্ঘ নয় বছর (১৯৯০-৯৮) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নেত্রকোণা সামাজিক সংগঠন জন উদ্যোগ এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশা পুরনে উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ সহ-নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূল, মাদক ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনে একজন নির্ভীক কর্মী হিসাবে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার কাজে হায়দার জাহান চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।তিনি নেত্রকোণা উন্নয়নে নাগরিক আন্দোলন এর একজন সক্রিয় সদস্য হিসাবে নগর ও নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজকে জড়িত রেখে সমাজ সেবা মূলক কর্মকাণ্ড সহ জেলার সর্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন ।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তৎকালিন নেত্রকোণা মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নেত্রকোণা স্বাধীনতাকামি ছাত্র যুবকদেরকে সংগঠিত করে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহন করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকা শক্তি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে সময়ের সাহসী সন্তান হিসাবে হায়দার জাহান চৌধুরী স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। ১লা মার্চ ‘৭১ থেকে শুরু হওয়া স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ সংগ্রামে নেত্রকোণার ছাত্র জনতার সশস্ত্র মিছিলে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে নিরস্ত্র আন্দোলনকে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপদান করতে গিয়ে হায়দার জাহান চৌধুরী যথাযথ ভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২৭ মার্চ নেত্রকোণা আওয়ামী লীগ অফিসে নেত্রকোণার তৎকালীন মহকুমা আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। হায়দার জাহান চৌধুরী তার সম্মানীত সদস্য নির্বাচিত হন। নেত্রকোণা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আটপাড়া মদন খালিয়াজুরী এলাকার এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবকে আহবায়ক করে নেত্রকোণা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সকল নির্বাচিত এম.এন.এ তথা জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মমিন, মোঃ জুবেদ আলী, সাদির উদ্দিন আহমেদ ও এম.পিগণ তথা প্রাদেষিক পরিষদ সদস্য আব্বাছ আলী খান,ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ,আব্দুল মজিদ তারা মিয়া, মোঃ হাদীস উদ্দীন চৌঃ, মোঃ নাজমুল হুদা সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হন। তাছাড়া নেত্রকোণা পৌর চেয়ারম্যান এন আই খান,এডভোকেট ফজলুর রহমান খান, খালেকদাদ চৌধুরী,এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের, মোঃ মেহের আলী,মৌলানা ফজলুর রহমান খান, নুরু মিয়া,জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাফায়েত আহম্মদ খান,মোঃ শামছুজ্জোহা, গোলজার হোসেন,গোলাম এরশাদুর রহমান, সমন্বয়ে গঠিত হয় মহকুমা সংগ্রাম পরিষদ ।
পরবর্তীতে জয়বাংলা বাহিনী গঠন ও পুলিশ অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে সশস্ত্র মুক্তিবাহিনী গঠন, সেই সাথে স্বাধীনতার ইসতেহার বিতরণসহ সীমান্ত এলাকায় ইপিআর ক্যাম্পগুলো বাঙ্গালী সৈনিকদের নিয়ন্ত্রণে এনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করানো, মুক্তিযুদ্ধের সুচনালগ্নে এসব দু:সাহসীক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন । পরবর্তীতে তিনি ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে ভারতের দেরাদুন ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিশেষ গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১১ নং সেক্টরে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) মুজিব বাহিনীর মহেষখলা সাবসেকটরের ডেপুটি কমন্ডার হিসাবে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধকে সংঘঠিত করে দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধে রূপান্তরিত করার মহান দায়িত্ব পালনসহ হানাদার বাহিনীর বিরোদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন । মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী ( নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান, ১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা), ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। ক্যাম্পের বিশাল দায়িত্ব পালনের জন্যে বিভিন্ন কমিটি করে দেয়া হয়। সে সব উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি,বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। জনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। সুলতান নুরী , খন্দকার আনিস, মনজুর উল হক ও নজরুল ইসলাম খানসহ আরো অনেকেই মহেষখলা ক্যাম্পে কিছুদিন অবস্থান করে ভারতে যান প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্যে। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।”
পুরষ্কার ও সম্মানণা: ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য “Bangladesh Muktijudho Research Institute Silver Award-2022” , ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি সম্মাননা স্মারক ২০২২ এবং মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড সম্মাননা ২০২২ প্রদান করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না–৩
মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব–৪
মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব–৫
মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব–৬
মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব–৭
মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব–৮
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর(অব:) এম এ মোত্তালিব
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম এরশাদুর রহমান
- Chowdhury, Bir Muktijudha Khalekdad (Bangla academy and Ekushe Award winner 1985),“Shatabdir Dui Diganta (in Bengali)”. Dhaka.
- Nuri, Journalist Bhasha Sainik Sanaullah(Ekushe Award winner, Editor-Daily Dinkal) (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
- Khan, Bir Muktijudha Ashraf Ali Khoshru(Ex-Minister,23 May 2005). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali”. The Daily Ittefaq. p. 8.
- সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
- বিশ্বাস, সাংবাদিক প্রিয়ঙ্কর(২৩ ডিসেম্বর ২০২২), “মুক্তিযোদ্ধার আত্মকথা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:শামছুজ্জোহা, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৯৩-১০০
- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আক্কাস আহমেদ(সভাপতি-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),,,“শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্মাননা- ২০২২”, Rajdhani TV, 04/10/2023
- চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান(সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা ক্লাব),“মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় অতন্দ্র,প্রহরীঃ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা ইনস্টিটিউট, অস্ট্রেলিয়া”, নেত্রকোণা জার্নাল,২৪/১০/২০২৩
- কবি তানভীর জাহান চৌধুরী(সা:সম্পাদক-নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ),“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান” দৈনিক একুশে নিউজ ২/১০/২০২৩
- অধ্যাপক অলিউল্লাহ,“নেত্রকোণায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের(মরণোত্তর) সম্মাননা — ২০২২ প্রদান”,দৈনিক বাংলার অধিকার ১/১০/২০২৩
