শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী 

জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা),  ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন  (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।   

মহেষখলা ক্যাম্পের আশ্রয় শিবিরে প্রায় দুই লাখের উপরে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। মহেষখলা আশ্রয় শিবির ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পটি পরিচালিত হতো সম্পূর্ণরূপে নেত্রকোণা মহকুমা ও সুনামগঞ্জ মহকুমার আওয়ামীলীগ নেতৃত্বদের দ্বারা,  ভারত সরকার বা আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা এর দায়িত্ব নেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প কমিটিই এটির সম্পূর্ণ পরিচালনার কাজ করতো। মুক্তিফৌজ রিক্রট করা (ভর্তি) এবং তাদের আশ্রয় ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এ ক্যাম্প কমিটি চালাতো। ট্রেনিং পরিচালনার প্রাথমিক ব্যবস্থা ও তাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানো (তুরাতে) এবং ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে ফিরে আসার পর ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল, সিলেটের পশ্চিমাঞ্চল অভ্যন্তরে আক্রমণ পরিচালনার জন্য নৌকা সংগ্রহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ সকল রকম দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করতো এখানকার এই ক্যাম্প কমিটি।নতুন ভর্তি করা মুক্তিফৌজদের ট্রেনিং সমাপ্তির পর প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা ক্যাম্প ছিলো। এখানেই তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ সংগ্রহ, রিক্রট ও দেশের অভ্যন্তরে যোদ্ধাদের প্রেরণ তাদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শরণার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপকমিটি গঠন করে বিভিন্ন সদস্যদের উপর ভার দেওয়া হতো। সে উপ কমিটিগুলো তাদের নির্বাচিত কার্য সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতো। ক্যাম্প কমিটি প্রতিদিনই একবার কাজ পরিদর্শন এবং তাদের কাজের সমন্বয় সাধন করতো। সে সব উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয় ।

বঙ্গবন্ধুর ৬দফার দাবীসহ ৬৯,৭০,৭১এর আন্দোলনগুলোকে নেত্রকোনার পাশাপাশি মধ্যনগর অঞ্চলেও জনপ্রিয় করে তোলেন। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এই অঞ্চলের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে ভারতের মহেশখলা যাওয়ার পথে মধ্যনগর থানার দুগনৈ গ্রামে মোঃ মেহের আলী তাঁর শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মধ্যনগর সহ আশপাশএলাকার ছাত্র যুবকদেরকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করবার জন্য। ভারতের মহেষখলা ইউথ ক্যাম্প, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প এবং শরণার্থী শিবিরে তাঁর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। মহেষখলাতে মুক্তিযোদ্ধা ও ইয়ুথ ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি তিনি মধ্যনগর থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের ছাত্র, যুব ও সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের জন্যে সংগঠিত করেন এবং ধান, চাল সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ক্যাম্পে সরবরাহের ব্যবস্থা করেন যা কিনা যুদ্ধের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রসদ। মেহের আলীর শ্বশুড়ের পরিবারটি অত্র অঞ্চলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ধনী ছিলেন। সেই সুবাদে জনাব মেহের আলী মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই ঐ সব অঞ্চলের ছাত্র ও যুব সমাজকে স্বাধীকাার আন্দোলনে উদ্ভুদ্ধ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতেন। মেহের আলী  মোঃ আকিকুর রেজাকে সভাপতি ও জনাব আব্দুল আওয়ালকে সাধারণ সম্পাদক  করে মধ্যনগর থানায় প্রথম দুর্গনৈ গ্রামের সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন।  পরবর্তীতে জনাব মেহের আলী  ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে  জনাব আকিকুর রেজা ভূঁইয়া (পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন উর্ধতন আমলা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন) ও আব্দুল আওয়ালকে সহ-সভাপতি (পরবর্তীতে যিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের এক নম্বর  সহ-সভাপতি ও ধর্মপাশা উপজেলার ২ বারের সফল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন) ও বাদল চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মধ্যনগর থানা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেন এবং তাদেরকে নিয়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গেছেন স্থানীয় জনতাকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে।

১৯৭১ সালের এপ্রিল – মেজর মোত্তালিব (পরবর্তীতে যিনি সাব সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন), ও ক্যাপটেন গণীর নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন ই.পি.আর সদস্য দুগনৈ গ্রামে আসেন এবং দু’দিন এখানে অবস্থান করেন। জনাব মেহের আলী সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে জনাব মেহের আলীর শ্বশুর মোঃ রহমত আলীর বাড়ীতে তাদের থাকা খাওয়ার সব বন্দোবস্ত করেন। ৩য় দিন তাদের মাছিমপুর ও কান্দাপাড়ায় জনাব নূর মিয়া চৌধুরীর বাড়ীতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং তারাই সব তদারকি করেন। পরের দিন মুক্তিযোদ্ধাদের পুরো টিমটিকে নিরাপদে সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে  যাবার ব্যবস্থা করে দেন। এসবের মাঝেও জনাব মেহের আলী মহেষখলা ক্যাম্পে যাতায়ত করতেন তাঁর উপর ন্যস্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্যে । তিনি ধান চালসহ অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দকে সংগে নিয়ে সংগ্রহ করতে থাকেন এবং মহেষখলী ক্যাম্প নির্বিগ্নে পরিচালনার জন্যে পাঠাতে থাকেন।

জনাব মেহের আলী তাঁর শ্বশুর জনাব রহমত আলী তাং, চাচা শ্বশুর জনাব আক্কেল আলী তাং ও জনাব গফুর চৌধুরী এর নিকট থেকে ১৩০০ মন ধান, ১০০০ মন লাখড়ি ,৩০০ খাওয়ার থালা,৫টি বড় ডেগ ও ৫০টি চামচ মহেষখলা ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন যা কিনা মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনাব মেহের আলীর শ্বশুড়ের বাড়ীটি সুমেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত এবং ঐ পরিবারটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় এ অঞ্চলের যে সব মুক্তিযোদ্ধা ইন্ডিয়াতে গেছেন তাদের প্রায় সকলেরই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। ঐ পরিবারের সদস্যসহ গ্রামবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহয়তা করেছেন। তাদের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর শাহাদাৎবরন : জনাব মেহের আলী মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সমস্ত দায়িত্ব ¯স্থানীয় নেতৃবন্দের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে মহেষখলা চলে আসেন এবং ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। মেহের আলী ছিলেন নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একমাত্র শহীদ, এবং শহীদ বুদ্ধিজীবি(শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী)  যিনি বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৭ই মে মহেষখলায় শহীদ হন। সেই সাথে অগ্নিযুগের এক বীরত্ব ব্যঞ্জক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। মেহের আলী শহীদ হওয়ার পরপরই মহেষখলাতে জয় বাংলা বাহিনীর নেত্রকোনা শাখার প্রধান,কোম্পানী কমান্ডার,জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি,সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১, নেত্রকোণা জেলা- সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা  বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর উদ্দীন আহমেদকেও গ্রেফতার করে হত্যা করার জন্য কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তারা বেচে যায়। উল্লেখ্য যে,মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে জাতীয় প্রয়োজনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহার নেতৃত্তে বীরমুক্তিযোদ্ধা  বুলবুল ইপিআর সদস্যসহ অন্যান্যদরকে নিয়ে পুলিশের অস্ত্রাগার ও নেত্রকোণার ন্যাশনাল ব্যাংকের Volt ভেঙ্গে টাকা পয়সা , সোনা সংগ্রহ করেন যে ঘটনাটি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা আছে। নেত্রকোণাবাসী শহীদ মেহের আলী-র হত্যাকারীদের ক্ষমা করেননি। স্বাধীনতা লাভের অল্প কয়েকদিন পর তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে সেইসব ঘাতকদের জনসম্মুখে হত্যা করা হয়েছিলো। মেহের আলী হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো অনুদঘাটিত। ভবিষ্যতে এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য আগামী প্রজন্মকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক : ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে নেত্রকোণা পৌরসভা ১৯৯৮ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে অজহর রোডের মোড় থেকে পূর্বদিকে ইসলামপুর পর্যন্ত এই রাস্তাটির নামকরণ করেছে – মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী সড়ক। মাননীয় সংসদ সদস্য  হাবিবা রহমান(শেফালী) ও নেত্রকোনাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে  নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি গেইটের নামকরন করেন “বীর মুক্তিযোদ্ধা  মেহের আলী  গেইট”, স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জনের জন্য “বিজয় একাত্তর সম্মাননা-২০২২” এবং ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি সম্মাননা স্মারক ২০২২ প্রদান করা হয়। শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে ২০২৩ সালে ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমির – উদ্যোগে  তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব শাহেদ পারভেজ “শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মেহের আলী বৃত্তি’প্রবর্তন করেন।স্বাধীনতার পর পর শহীদ মেহের আলী স্মৃতি রক্ষার্থে “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি পরিষদ” ও “শহীদ মেহের আলী স্মৃতি যুব জাগরণ সমিতি”, মালনী রোড(বর্তমানে সমিতি ঘরটিকে মসজিদে র“পান্তরিত করা হয়েছে) সংগঠন দুটি গঠন করা হয় । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে শহীদ মেহের আলীর পরিবারের জন্য এক হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীর প্রবন্ধসমূহ:

মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা

কথাশিল্পী  খালেকদাদ চৌধুরীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক

 নেত্রকোনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মারক

বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়েশা খানম

নেত্রকোনায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা

 বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন তালুকদার 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হাদিস উদ্দিন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীঃ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা ইনস্টিটিউট, অস্ট্রেলিয়া

শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-১

নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা

মহেষখলা ক্যাম্প, ট্রাইবুনালের বিচারপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খালেকদাদ চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু

শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-১

শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-২

শহীদ মেহের আলী একটি নাম, একটি ইতিহাস পর্ব-৩

 

 

বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী 

[ লেখাটি নেত্রকোনার গর্ব জাতীয় সাহিত্যিক বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত লেখক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব খালেকদাদ চৌধুরীর অমরগ্রন্থ “শতাব্দীর দুই দিগন্ত“,প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাবসেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক,প্রাবন্ধিক সাবসেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিমুযোদ্ধা গোলাম এরশাদুর রহমানের মুক্তিসংগ্রামে নেত্রকোনা,  প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক,প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ননী গোপাল সরকারের প্রবন্ধ “অগ্নিযুগের সূর্য সৈনিকঃ  বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী”, বিজয়’৭১-২য় সংখ্যা(পুনমূদ্রন)/২০২২( একটি সাহিত্য ও গবেষনাধর্মী পত্রিকা), ভাষা সংগ্রামের জন্যে রাষ্ট্রিকিট হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দীন আহমেদ সাহেবের প্রবন্ধ “,অসমাপ্ত গল্প” , মধ্যনগর থানা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের  সভাপতি  জনাব মোঃ আকিকুর রেজা ভূইয়ার বই “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা”(যিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের হিসাব নিরীহ্মা অধিদপ্তরের সহপরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।),বিভিন্ন জাতীয় ব্যক্তিত্ত্বের সাক্ষাৎাকার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার,স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎাকার, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা,টিভি সংবাদ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও,অডিও ও মেহের আলীর ডায়েরী অবলম্বনে লেখা হয়েছে।]

Scroll to Top